বুধবার | অক্টোবর ২৮, ২০২০ | ১২ কার্তিক ১৪২৭

খবর

কাজে গতি ফিরেছে গণপূর্তে

নিজস্ব প্রতিবেদক

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী তথা মুজিব বর্ষে কাজে গতি ফিরেছে সরকারের নির্মাণকাজের পথিকৃৎ প্রতিষ্ঠান গণপূর্ত অধিদপ্তরে। সরকারের অ্যালোকেশন অব রুলস অব বিজনেস অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানের কর্মপরিধির মধ্যে রয়েছে প্রায় সব মন্ত্রণালয়ের দাপ্তরিক আবাসিক অবকাঠামো নির্মাণ, রক্ষণাবেক্ষণ মেরামত। বর্তমান করোনা মহামারীকালেও এখানকার সর্বস্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা দক্ষতা নিষ্ঠার সঙ্গে তাদের দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। বাস্তবায়ন করছেন একের পর এক প্রকল্প। গণপূর্তের কাজে ফিরেছে গতি।

প্রধানমন্ত্রীর ভিশন-২০২১ ২০৪১ এবং এসডিজির লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা বিনির্মাণে তারা রয়েছেন কাজে অবিচল। দ্রুতগতিতে গুণগত মানসম্পন্ন কাজ এগিয়ে নেয়ার নীতিতেই চলছে গণপূর্ত অধিদপ্তর।

গণপূর্ত অধিদপ্তরের কাজকর্মে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণসহ গতিশীলতা আনতে গত এক বছরে নানা উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। কাজের গুণগতমান রক্ষা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ সম্পাদনের লক্ষ্য গণপূর্ত অধিদপ্তরের। লক্ষ্যে অধিদপ্তরে পাঁচটি শক্তিশালী কমিটি গঠন করেছেন। এগুলো হচ্ছে কার্যপরিধি নির্ধারক কমিটি, প্রকিউরমেন্ট অ্যান্ড টেন্ডার ডিসপ্যারাল সংক্রান্ত কমিটি, জনসংযোগ প্রচার লিয়াজোঁ উইং কমিটি, অনুসন্ধান মূল্যায়ন কমিটি এবং প্রকল্প প্রণয়ন নকশা সংক্রান্ত কমিটি। এসব কমিটি গঠনের ফলে গণপূর্ত অধিদপ্তরে একদিকে কাজের গুণগতমান শতভাগ নিশ্চিত হচ্ছে, অন্যদিকে প্রকল্প প্রণয়ন থেকে শুরু করে প্রকল্প বাস্তবায়ন প্রকল্প সমাপ্তিতে দীর্ঘসূত্রতার অবসান ঘটেছে। প্রায় আট মাস আগে তিনি এখানে যোগদান করেছেন। আর এর মধ্যেই ইতিবাচক পরিবর্তন লক্ষণীয়। 

জানা যায়, বর্তমানে সারা বিশ্বের ন্যায় বাংলাদেশেও কভিড-১৯ মোকাবেলায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিচক্ষণ নেতৃত্বে স্বাস্থ্য খাতে চলমান উন্নয়নমূলক কাজ গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রকৌশলীসহ মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা স্বল্পতম সময়ে বাস্তবায়ন করে চলেছেন। ইতোমধ্যে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় মাঠ প্রশাসনের চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে সারা দেশে হাসপাতালগুলোয় পিসিআর ল্যাব, কোয়ারেন্টিন সেন্টার, আইসোলেশন সেন্টারসহ অন্যান্য অবকাঠামো নির্মাণে গণপূর্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে সারা দেশের বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা সুনিশ্চিত করতে অবকাঠামোগত কাজ সম্পন্নের স্বীকৃতিস্বরূপ বিভাগ জেলা পর্যায় থেকে অধিদপ্তরকে চিঠি দিয়ে ধন্যবাদও জানানো হয়েছে। 

চলমান কাজের বর্ণনা দিয়ে গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মো. আশরাফুল আলম জানান, প্রধানমন্ত্রীর অনুশাসন অনুযায়ী সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আবাসন সুবিধা শতাংশ থেকে বৃদ্ধি করে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত উন্নীতকরণের লক্ষ্যে গণপূর্ত অধিদপ্তর ইতোমধ্যে নয়টি প্রকল্পের মাধ্যমে হাজার ১২টি ফ্ল্যাট নির্মাণ করে প্রত্যাশী সংস্থার কাছে হস্তান্তর করেছে। এছাড়া প্রক্রিয়াধীন আরো নয়টি প্রকল্পের অধীনে হাজার ৮৩৫টি ফ্ল্যাটের কাজ অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে। আশা করা যায়, ২০৩০ সালের মধ্যে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর আবাসনের হার শতাংশ থেকে বৃদ্ধি পেয়ে প্রায় ২২ শতাংশে উন্নীত হবে এবং অবশিষ্ট ফ্ল্যাটের চাহিদা পরবর্তী ২০৪১ সালের মধ্যে সমাপ্ত করা সম্ভব হবে।

প্রধান প্রকৌশলী বলেন, মুজিব বর্ষে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ার লক্ষ্যে সরকারকে সহায়তায় গণপূর্ত অধিদপ্তর সব সময় সচেষ্ট রয়েছে। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের দুর্নীতির বিষয়ে জিরো টলারেন্স প্রত্যয় ঘোষণার সঙ্গে একাত্ম হয়ে গণপূর্ত অধিদপ্তরের দরপত্র প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতেও পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। 

সব দরপত্র প্রক্রিয়া উন্মুক্ত করাসহ দরপত্রগুলো শতভাগ -জিপির মাধ্যমে বাস্তবায়নের ঘোষণা দিয়েছেন প্রকৌশলী আশরাফুল আলম। প্রধান প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিতর্কিত ঠিকাদার জি কে শামীমের প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে গণপূর্ত অধিদপ্তর মোট ১৭টি কাজের চুক্তি বাতিলসহ সবগুলোর পুনঃদরপত্র আহ্বান কার্যক্রম সম্পন্ন করেছেন তিনি। তার সাহসী পদক্ষেপ বিভিন্ন মহলে প্রশংসিত হলেও কিছু স্বার্থান্বেষী, কুচক্রী মহল এবং জি কে শামীম সিন্ডিকেটের সদস্যরা নানা অপতত্পরতা চালানোর প্রচেষ্টায় লিপ্ত হয়েছে। গণপূর্ত অধিদপ্তরের জনসংযোগ, প্রচার লিয়াজোঁ উইং কমিটির পক্ষ থেকে এসব অপতত্পরতার প্রতিবাদ করা হয়েছে। 

জানা যায়, সারা দেশে সরকারের উন্নয়ন প্রকল্পের অংশ হিসেবে বিভিন্ন প্রকল্পের কাজ গণপূর্ত অধিদপ্তরের মাধ্যমে বাস্তবায়িত হচ্ছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে দেশের প্রতিটি জেলা উপজেলায় ৫৬০টি মডেল মসজিদ সাংস্কৃতিক কেন্দ্র নির্মাণ, ৬৪টি জেলায় চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কোর্ট নির্মাণ, জেলা রেজিস্ট্রি সাব-রেজিস্ট্রি অফিস ভবন নির্মাণ, দেশের বিভিন্ন স্থানে পুলিশ বিভাগের ৫০টি হাইওয়ে আউটপোস্ট নির্মাণ, বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে পুলিশ বিভাগের জন্য নয়টি আবাসিক টাওয়ার ভবন নির্মাণ, ৪৬ ফায়ার স্টেশন নির্মাণ, ৫০০ ইউনিয়ন ভূমি অফিস ১০০ উপজেলা ভূমি অফিস নির্মাণ, টাঙ্গাইলে শেখ হাসিনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সম্প্রসারণ, গোপালগঞ্জে শেখ লুত্ফর রহমান ডেন্টাল কলেজ স্থাপন, গাজীপুরে শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল স্থাপন, তথ্য কমিশন ভবন নির্মাণ, বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন ভবন নির্মাণ, ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে স্বাধীনতা স্তম্ভ নির্মাণ (তৃতীয় পর্যায়), জাতীয় বিজ্ঞান প্রযুক্তি কমপ্লেক্স নির্মাণ, জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা কার্যালয়ে দুটি বেজমেন্টসহ ২০ তলাবিশিষ্ট প্রধান কার্যালয় নির্মাণ, বাংলাদেশের ৩৭টি জেলায় সার্কিট হাউজের ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণ প্রকল্প, বিপিএটিসির প্রশিক্ষণ সক্ষমতা বৃদ্ধিকরণ প্রকল্প, বাংলাদেশ সরকারি কর্মকমিশন সচিবালয়ের ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণ, ঢাকাস্থ রমনা পার্কের অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং রমনা লেকসহ সার্বিক সৌন্দর্য বৃদ্ধিকরণ, ঢাকা অফিসার্স ক্লাবের ক্যাম্পাসে বহুতল ভবন নির্মাণ, বাংলাদেশ সচিবালয়ে ২০ তলাবিশিষ্ট নতুন অফিস ভবন নির্মাণ প্রভৃতি।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন