বুধবার | অক্টোবর ২৮, ২০২০ | ১২ কার্তিক ১৪২৭

খবর

দক্ষতায় এগিয়ে থাকা জাতির হাতেই চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের নেতৃত্ব —মোস্তাফা জব্বার

নিজস্ব প্রতিবেদক

ডাক টেলিযোগাযোগমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বলেছেন, চতুর্থ শিল্পবিপ্লব এবং তার পরবর্তী সময়ের জন্য বড় শক্তির নাম হচ্ছে মেধাসম্পদ তৈরি, উদ্ভাবন, গবেষণা এবং তার উন্নয়ন। এসব খাতে যে দেশ বা জাতি এগিয়ে যাবে, তারাই চতুর্থ শিল্পবিপ্লবে নেতৃত্ব দেবে। দক্ষ মানুষ ছাড়া ডিজিটাল বিপ্লব সম্ভব না। বাংলাদেশের মানুষই বড় সম্পদ। মানুষদের ডিজিটাল শিক্ষা ডিজিটাল দক্ষতার ওপর ভবিষ্যৎ নির্ভর করে। আমাদের দেশের প্রতিটি ছেলেমেয়ে মেধাবী। এসব সোনার টুকরো ছেলেমেয়েদের মেধা উপযুক্ত শিক্ষা দক্ষতা দিয়ে কাজে লাগাতে পারলে বিশ্বে আমাদের চেয়ে শক্তিশালী কেউ হবে না। শিক্ষক, শিক্ষার্থী, শিক্ষাবিদ ইন্ডাস্ট্রিসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে ব্যাপারে আরো সচেষ্ট হওয়ার প্রয়োজনীয়তার ওপর মন্ত্রী বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, শিক্ষার ক্ষেত্রে আমাদের ডিজিটাল রূপান্তর শুরু হয়ে গেছে।

মন্ত্রী বৃহস্পতিবার ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল বিশ্ববিদ্যালয় (ডিআইইউ) আয়োজিত ডিজিটাল বাংলাদেশে চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের প্রভাব চ্যালেঞ্জ নিয়ে আয়োজিত ওয়েবিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। ডাক টেলিযোগাযোগমন্ত্রী বলেন, প্রযুক্তিতে ৩২৪ বছর পিছিয়ে থেকেও চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের জন্য আমরা প্রস্তুত। আমরা ২০১৮ সালে ৫জি পরীক্ষা সম্পন্ন করেছি। ২০২৬ সালের মধ্যে দেশের প্রতিটি ঘরে ফাইভজি পৌঁছে দেয়ার পথনকশা ইতোমধ্যে আমরা সম্পন্ন করতে সক্ষম হয়েছি।

দেশে শিক্ষা বিস্তারে গত ১১ বছরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গৃহীত বিভিন্ন কর্মসূচি তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, সরকারি বেসরকারি উদ্যোগে দেশে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠাসহ অভাবনীয় কর্মসূচি গ্রহণ বাস্তবায়ন করা হয়েছে। তবে চক-ডাস্টারে পাঠদান পদ্ধতি থেকে ডিজিটাল পাঠদান পদ্ধতিতে উত্তরণের কাজ আমরা শুরু করেছি মাত্র। এজন্য হয়তো কিছুটা সময় লাগবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, পাঁচ বছরের মধ্যে প্রাথমিক স্তর থেকে বিশ্ববিদ্যালয় স্তর পর্যন্ত শিক্ষা ব্যবস্থাকে ডিজিটাল রূপান্তর সম্ভব হবে।

তিনি বলেন, বিশ্বজুড়ে চলছে টেকনোলজি কোল্ড ওয়ার। কম্পিউটারে বাংলা ভাষার উদ্ভাবক মোস্তাফা জব্বার মনে করেন, যুদ্ধে মানবসম্পদই বড় সম্পদ। কেননা মানুষ ছাড়া ডিজিটালাইজেশন সম্ভব হবে না। তাই দেশের তরুণদের উদ্ভাবন গবেষণা দিয়ে চতুর্থ শিল্পবিপ্লবে এগিয়ে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। তার কথায়, বঙ্গবন্ধু কর্তৃক আইটিইউ ইউপিইউর সদস্যপদ অর্জন, টিঅ্যান্ডটি বোর্ড গঠন এবং বেতবুনিয়ায় উপগ্রহ ভূকেন্দ্র প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে ডিজিটাল প্রযুক্তি বিকাশের বীজ বপন করা হয়। পঁচাত্তরের পর দীর্ঘ ২১ বছর প্রযুক্তি বিকাশের যাত্রা বন্ধ হয়ে যায়। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর অতীতের জঞ্জাল অপসারণ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত ধরে কম্পিউটার মোবাইল ফোন জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেয়ার যুগান্তকারী কর্মসূচি গ্রহণ বাস্তবায়নের ফলে দেশে ডিজিটাল প্রযুক্তির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপিত হয়।

অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ কম্পিউটার সোসাইটির সভাপতি অধ্যাপক . হাফিজ মো. হাসান বাবু। বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক . এমএ মান্নান, যশোর বিজ্ঞান প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. আনোয়ার হোসেন, ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান এবং সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী, আমাজান ওয়েব সার্ভিসের লিডার এবং ক্লাউডক্যাম্প বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা মোহম্মদ মাহদী-উজ জামান কানাডার ব্রিটিশ কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ভিজিটিং সহকারী অধ্যাপক . জাহাঙ্গীর আলম। বক্তারা টেলিকম বিভাগকে চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের মূল মেরুদণ্ড আখ্যায়িত করে বলেন, মানুষকে বাদ দিয়ে কোনো প্রযুক্তি বাংলাদেশের জন্য সঠিক হবে না। চতুর্থ শিল্পবিপ্লবকে মানবিক করার মাধ্যমে কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ বাস্তবায়নের ওপর তারা গুরুত্বারোপ করে বলেন, সবার আগে মানুষ দেশ।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন