বৃহস্পতিবার | অক্টোবর ০১, ২০২০ | ১৬ আশ্বিন ১৪২৭

খবর

সরকারি ক্রয়ে ই-জিপির সুফল নেই: টিআইবি

নিজস্ব প্রতিবেদক

সরকারি ক্রয়ে -জিপির (-গভর্নমেন্ট প্রকিউরমেন্ট) প্রবর্তনের ফলে ক্রয় প্রক্রিয়া সহজতর হলেও কার্যাদেশ পাওয়ার ক্ষেত্রে রাজনৈতিক প্রভাব, যোগসাজশ, সিন্ডিকেট এখনো কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করছে। -জিপি প্রবর্তনের ফলে ম্যানুয়াল থেকে কারিগরি পর্যায়ে সরকারি ক্রয়ের উত্তরণ ঘটলেও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের একাংশ দুর্নীতির নতুন পথ খুঁজে নিয়েছে।

সরকারি ক্রয়ে সুশাসন: বাংলাদেশে -জিপির কার্যকরতা পর্যবেক্ষণ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ উপলক্ষে আয়োজিত ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে গতকাল মন্তব্য করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন টিআইবির নির্বাহী পরিচালক . ইফতেখারুজ্জামান, উপদেষ্টা নির্বাহী ব্যবস্থাপনা অধ্যাপক . সুমাইয়া খায়ের, গবেষণা পলিসি বিভাগের পরিচালক মোহাম্মদ রফিকুল হাসান। প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করেন টিআইবির গবেষণা পলিসি বিভাগের সিনিয়র প্রোগ্রাম ম্যানেজার শাহজাদা এম আকরাম। গবেষক দলের সদস্য গবেষণা পলিসি বিভাগের ডেপুটি প্রোগ্রাম ম্যানেজার নাহিদ শারমীন মো. শহিদুল ইসলাম। সঞ্চালনা করেন টিআইবির আউটরিচ অ্যান্ড কমিউনিকেশন বিভাগের পরিচালক শেখ মনজুর--আলম।

গবেষণায় ২০১৯-এর জুলাই থেকে ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তথ্য সংগ্রহ বিশ্লেষণ করা হয়। তথ্য সংগ্রহের জন্য -জিপি বাস্তবায়নকারী প্রথম দিকের চারটি প্রতিষ্ঠান স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি), সড়ক জনপথ বিভাগ (সওজ), বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) এবং বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডকে (আরইবি) বাছাই করা হয়। গবেষণায় দেখা যায়, দুর্ভাগ্যজনকভাবে -জিপি ব্যবস্থাপনা, স্বচ্ছতা জবাবদিহিতা এবং কার্যকরতায় অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের অবস্থান ঘাটতিপূর্ণ উদ্বেগজনক। যেসব নির্দেশকের অবস্থান উদ্বেগজনক সেগুলো হচ্ছে বার্ষিক ক্রয় পরিকল্পনা, প্রাক-দরপত্র সভা, -চুক্তি ব্যবস্থাপনা, কার্যাদেশ বাস্তবায়ন তদারকি, নিরীক্ষা, কর্মচারীদের সম্পদের তথ্য প্রকাশ, অনিয়ম দুর্নীতি এবং কাজের মান।

সওজ ছাড়া আর কোনো প্রতিষ্ঠানে স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে দরপত্র মূল্যায়ন করা হয় না। কোনো কোনো সময় টিইসির সদস্যদের পরিবর্তে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কম্পিউটার অপারেটররা তাদের পক্ষে লগ-ইন করে দরপত্র খোলেন। ঠিকাদারদের পরিচয় গোপন থাকার নিয়ম থাকলেও কোনো প্রতিষ্ঠানেই এটি গোপন থাকে না। কোনো কোনো অফিসের কম্পিউটার অপারেটররাই টাকার বিনিময়ে ঠিকাদারদের হয়ে দরপত্র দাখিল করেন।

-জিপি প্রবর্তনের ফলে সরকারি ক্রয় প্রক্রিয়া সহজতর হলেও দুর্নীতি কমেনি। রাজনৈতিকভাবে কাজের নিয়ন্ত্রণ ঠিকাদারদের মধ্যে ভাগ করে দেয়ার অভিযোগ রয়েছে। কিছু কিছু এলাকায় কোনো বিশেষ কাজে কারা টেন্ডার সাবমিট করবে সেটা রাজনৈতিক নেতা, বিশেষ করে স্থানীয় সংসদ সদস্য ঠিক করে দেন। অনেক ক্ষেত্রে একটি বড় লাইসেন্সের অধীনে কাজ নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা তার কর্মীদের মাঝে বণ্টন করে দেন।

লিমিটেড টেন্ডার মেথডে কার্যাদেশ দেয়ার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের ঘুষ আদায় করার অভিযোগ পাওয়া যায়। এছাড়া কাজ তদারকি, অগ্রগতি প্রতিবেদনে ভুল তথ্য দেয়া, কাজ সম্পন্ন হওয়ার পর বিল তুলতে ঘুষ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে।

. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, অনেক প্রত্যাশা নিয়ে -জিপির প্রবর্তন হয়েছে। আমরা ভেবেছিলাম, এর ফলে সরকারি ক্রয় খাতে সুশাসন দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে আশানুরূপ ফল পাওয়া যাবে। কিন্তু হতাশার বিষয় হলো, -জিপির ফলে ক্ষেত্র বিশেষে প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি পেলেও দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ কাজের মানোন্নয়নে এর কোনো প্রভাবই পড়েনি।

এর পেছনে মূলত রাজনৈতিক প্রভাব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। আমাদের দেশে রাজনীতিকে সম্পদ বিকাশের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করার দৃষ্টান্ত রয়েছে, যা থেকে সরকারি ক্রয় খাতও মুক্ত নয়। -জিপিকে রাজনৈতিক প্রভাব, যোগসাজশ সিন্ডিকেটের দুষ্টচক্র থেকে মুক্ত করতে সব পর্যায়ের জনপ্রতিনিধি জনগুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে অধিষ্ঠিত ব্যক্তির সঙ্গে রাষ্ট্রের প্রত্যক্ষ পরোক্ষ ব্যবসায়িক সম্পর্কের সুযোগ বন্ধ করতে হবে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব কর্মকর্তা কর্মচারীকে নিয়ম মেনে অবশ্যই সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করতে হবে। ব্যবস্থাপনায় কিছু দুর্বলতা রয়েছে, সদিচ্ছা থাকলে তা থেকে উত্তরণ সম্ভব বলে মনে করি।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন