শনিবার | সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২০ | ১১ আশ্বিন ১৪২৭

করোনা

ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জামের নতুন চিত্র

বণিক বার্তা ডেস্ক

মার্চে কভিড-১৯-এর সংক্রমণ বৃদ্ধির সঙ্গে মেগান ডুয়ংয়ের বোনের স্বামী যে অঞ্চলে কাজ করতেন সেখানে এন৯৫ প্রতিরক্ষা মাস্কের সরবরাহ হ্রাস পায়। ডুয়ং তখন এন৯৫-এর জন্য স্থানীয় অনুসন্ধান শুরু করেন। এরপর তার নিকট আত্মীয় সাবরিনা প্যাসমেনকে সঙ্গে নিয়ে ডুয়ং স্বেচ্ছাসেবীদের তালিকাভুক্ত করেন এবং সাত হাজার মাস্কের সন্ধান পান, যা কিনা দুটি হাসপাতালে একদিনের ব্যবহারের যথেষ্ট ছিল না। ডুয়ং বলেন, আমরা জানতাম যে তা একেবারেই পর্যাপ্ত আকারের সমাধান ছিল না।

তাই ডুয়ং প্যাসমেন, অ্যাপলের সাবেক দুই কর্মী, নতুন সরঞ্জাম উদ্ভাবনের কথা চিন্তা করেন। তারা আশা করেন যে তারা এমন মাস্ক প্রযুক্তি আনতে পারবেন, যা কার্যকার সহজলভ্য।

এমন নয় যে হঠাৎ করে তারাই কেবল চেষ্টা করছেন ব্যক্তিগত সুরক্ষা পোশাক কিংবা পিপিইর জন্য। গবেষকরা বলছেন, সংক্রমণের গতিকে শ্লথ করার জন্য পিপিই হচ্ছে মাস্কের মতোই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু মহামারীর পরিধি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতাল কর্মীদের জন্য উচ্চমানসম্পন্ন পিপিইর সরবরাহ কমে যেতে থাকে। এদিকে জনগণের জন্য যেসব পিপিই উপলব্ধ তার মানে বেশ হেরফের ছিল। পাশাপাশি ব্যবহারকারীরা অভিযোগ করে জানান যে নিম্ন মানের কাপড়ের তৈরি মাস্ক, যদিও তা বিস্তৃতভাবে উপলব্ধ কিন্তু তা খুবই অস্বস্তিকর, সামাজিক যোগাযোগে ব্যাঘাত ঘটায় এবং যার কার্যকারিতাও সীমিত।

বিষয়গুলোই মূূলত নতুন উদ্ভাবনকে সামনে নিয়ে এসেছে। উদ্ভাবকরা প্রচেষ্টা চালান আরো সস্তা, নিরাপদ, স্বস্তিদায়ক এবং অনেক বেশি উপলব্ধ এমন পিপিই এত তৈরি করার জন্য। অনেক ক্ষেত্রে এটি করার সময় লাভ পাওয়ার সম্ভাবনাও তৈরি হয়। এরই মধ্যে নতুন কিছু ডিজাইন বিশেষজ্ঞদের দ্বারা প্রশংসিত হয়েছে। অনেকে অবশ্য এখনো দেখাতে পারেনি যে তারা কাপড়ের তৈরি মাস্কের চেয়ে অধিক কার্যকর।

সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ গেরি গারবার বলেন, আমার উদ্বেগ হলো মানুষ হইচইয়ে কান দিয়ে অনেক টাকা খরচ করে ফেলবে। যা কিনা তাদের বাড়তি কোনো সুরক্ষা দেবে না।

কিকস্টার্টার কিংবা ইন্ডিগোগোর মতো গণ-অর্থায়নের সাইটগুলো মিলিয়ন ডলার তুলেছে নতুন ডিজাইনের মাস্ক, গ্লাভস পিপিইর জন্য। ইউনিভার্সিটি ইঞ্জিনিয়ারিং ল্যাবগুলো তাদের মনোযোগ মাস্ক এবং ফেসশিল্ড তৈরির দিকে নিবদ্ধ করেছে।

এখন এসে সিলভার-প্লেটেড অ্যান্টিমাইক্রোবিয়েল গ্লাভস, হ্যাটের আড়ালে লুকোনো যায় এমন ফেস মাস্ক, বুক থেকে মাথা পর্যন্ত সুরক্ষা দিতে পারে এমন বাবলগুলো বিক্রি করার জন্য গণ-অর্থায়নসম্পন্ন স্টার্টআপ খুঁজে পাওয়া সম্ভব। তিনটি ডিজাইন হাজার হাজার ডলার এনে দিয়েছে গণ-অর্থায়নের সাইটগুলোতে।

আরেকটি উদ্ভাবনের দেখা অন্তর্ভুক্ত ছিল থ্রিডি প্রিন্টেড মাস্ক, যা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে প্রতিটি ব্যক্তির মুখের আদলে তৈরি হয় এবং একটি প্লাস্টিক ডিভাইস, যা মানুষকে মাম্প স্পর্শ না করেই গ্যাস পেতে দেয়। এদিকে স্বচ্ছ মাস্ক পাওয়ার প্রচেষ্টা যারা যোগাযোগের জন্য মানুষের ঠোঁট পড়ে তাদের বিশেষ সুবিধা প্রদান করে।

কিছু ডিজাইন হচ্ছে দীর্ঘ অভিজ্ঞতার ফল। যেমন র্যাডিয়েশন অনকোলজিস্ট জেমস বায়রেন এন৯৫-এর মতো মাস্ক তৈরি করেছেন, যা কিনা ৯৫ শতাংশ বাতাসে ভাসমান কণাকে ফিল্টার করতে পারে। কিন্তু এটি পুনরায় ব্যবহার করা সহজ এবং আরো বেশি সাশ্রয়ীও বটে।

সব মিলিয়ে নভেল করোনাভাইরাসের নজিরবিহীন সময়ে মানুষকে সুরক্ষিত রাখতে পারে এমন বহু অভিনব উদ্ভাবনী ক্ষমতাসম্পন্ন সরঞ্জাম সামনে এসেছে। ফলে শুরুর দিকে ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জামের অভাবের কারণে যে হাহাকার তৈরি হয়েছে তাও এখন অনেকটা দূর হয়েছে।

স্মিথসোনিয়ান থেকে সংক্ষেপে অনূদিত

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন