শনিবার | সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২০ | ১১ আশ্বিন ১৪২৭

প্রথম পাতা

পেঁয়াজের বাজারে অস্থিরতা

আমদানির অনুমতি পেতে ব্যবসায়ীদের রেকর্ড আবেদন

রাশেদ এইচ চৌধুরী, চট্টগ্রাম ব্যুরো

চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে পেঁয়াজ আমদানির জন্য চলতি মাসে রেকর্ডসংখ্যক আবেদন করছেন ব্যবসায়ীরা। গতকাল পর্যন্ত ১৫০টি আইপি (আমদানি অনুমতি) ইস্যুর বিপরীতে মোট ৫৭ হাজার ৪৭৯ টন পেঁয়াজ আমদানির অনুমতিও পেয়েছেন তারা।

দেশে পেঁয়াজের সংকট মেটাতে শুরুর দিকে ভারতের পরিবর্তে মিসর, চীন, মিয়ানমার, পাকিস্তান তুরস্ককে আমদানি উৎস হিসেবে বিবেচনা হলেও তালিকায় নতুন করে যুক্ত হয়েছে নেদারল্যান্ডস নিউজিল্যান্ড।

ধারণা করা হচ্ছে, অভ্যন্তরীণ বাজারের ঘাটতি মেটাতে আগামী বছরের জানুয়ারি পর্যন্ত আনুমানিক চার লাখ টন পেঁয়াজ আমদানি করতে হতে পারে। ফলে দেশের আমদানিকারকদের বিবেচনায় বিকল্প উৎস হিসেবে নতুন নতুন দেশের নাম আসার বিষয়টি ইতিবাচকভাবেই দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরের উদ্ভিদ সংঘনিরোধ কেন্দ্রের সর্বশেষ তথ্য বলছে, এরই মধ্যে নিউজিল্যান্ড থেকে এক হাজার টন নেদারল্যান্ডস থেকে ৩০০ টন পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি পেয়েছেন ব্যবসায়ীরা। বাকি আমদানি উৎস দেশগুলোর মধ্যে তুরস্ক থেকে হাজার ৪০১ টন, চীন থেকে ১২ হাজার ৩৬০, মিয়ানমার থেকে ১০ হাজার ৯৬১, মিসর থেকে ১৪ হাজার ৮৫৮ পাকিস্তান থেকে ১৫ হাজার ৫৯৯ টন পেঁয়াজ আমদানির জন্য অনুমতিপত্র পান তারা। পার্শ্ববর্তী দেশ মিয়ানমার থেকেও দুই সপ্তাহের কম সময়ের মধ্যে পেঁয়াজ আসা শুরু হবে। বাকি দেশগুলো থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে চট্টগ্রাম বন্দরে পণ্যটি এসে পৌঁছবে।

চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরের উদ্ভিদ সংঘনিরোধ কেন্দ্রের উপপরিচালক আসাদুজ্জামান বুলবুল বণিক বার্তাকে বলেন, ব্যবসায়ীদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে চলতি মাসে ৫৭ হাজার ৪৭৯ টন পেঁয়াজ আমদানির অনুমতিপত্র ইস্যু করেছি আমরা, এটা একটি রেকর্ড। দেশের অভ্যন্তরীণ বাজার স্থিতিশীল রাখতে আবেদন পাওয়ার পর খুব দ্রুত আইপি ইস্যুর চেষ্টা করে যাচ্ছি আমরা।

দেশে পেঁয়াজের বার্ষিক চাহিদা ২৫ থেকে ৩০ লাখ টন। আগামী মৌসুমের দেশী পেঁয়াজ বাজারের আসার আগ পর্যন্ত পণ্যটির ১০ লাখ টন চাহিদা রয়েছে। সংরক্ষণের আধুনিক ব্যবস্থাপনা গড়ে না তুলতে পারায় উৎপাদিত পেঁয়াজের একটি বড় অংশই পচে যায় বা নানা কারণে নষ্ট হয়ে যায়। ফলে বছরের সময়টাতে পেঁয়াজের ঘাটতি দেখা দেয়, যা মেটাতে হয় আমদানি করে। বছরের সেপ্টেম্বর থেকে জানুয়ারি সময়েই পণ্যটি বেশি আমদানি হয়। মূলত ভারত থেকে আমদানিতে সমস্যা হলেই বিকল্প রফতানিকারক দেশের অনুসন্ধানে নামেন দেশের ব্যবসায়ীরা।

পেঁয়াজের বড় আমদানিকারক ট্রেড ইমপেক্সের কর্ণধার ফারুক আহমেদ বণিক বার্তাকে বলেন. সময়োপযোগী পদক্ষেপ নিতে পারলে ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানির দরকার আছে বলে আমরা মনে করি না। ভারত স্থানীয় চাহিদা পূরণ করেই পণ্যটি রফতানি করে থাকে। এখন সেদেশের সুবিধা-অসুবিধা আমাদের এখানে একটা গেমের মতোই হয়ে গেছে। ইচ্ছে হলো পেঁয়াজ ছাড়ল, ইচ্ছে হলো বন্ধ করল। এমনকি সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে ১৫ দিনের সময়ও আমাদের দিচ্ছে না ভারত। এখন আমরা অন্য দেশে হঠাৎ হুমড়ি খেয়ে পড়ায় সেখানকার ব্যবসায়ীরাও এর সুযোগ নেয়ার চেষ্টা করছে। গত সোমবার চীনের কাছ থেকে প্রতি টন ৩৮০ ডলার দামে এক হাজার টনের কন্ট্র্যাক্ট করে এলসিও খুলেছি। কিন্তু আজ (বুধবার) ৪৫০ ডলারের কমে দিচ্ছেন না চীনের ব্যবসায়ীরা। অর্থাৎ অল্প সময়ের ব্যবধানে প্রায় ১০০ ডলার বাড়িয়ে দিয়েছে দাম। একই পরিস্থিতি পাকিস্তানের বেলায়ও। সেদেশে যেটা ৪৮০ ডলার ছিল সেটা এখন ৫২৫ ডলার চাইছে। কারণ একই সঙ্গে প্রচুর চাহিদা যাচ্ছে এসব দেশে। আর এর সুযোগ নিচ্ছে তারা। একক দেশের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে চাহিদা, জোগানের ভারসাম্য বিষয়গুলো বুঝে ধারাবাহিক একটা প্রস্তুতি নেয়া থাকলে এমনটা হতো না।

এদিকে দেশের বাজারে প্রতিদিন বাড়ছে পেঁয়াজের দাম। গতকাল দেশের বৃহত্তম পাইকারি বাজার চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জে প্রতি কেজি ভারতীয় পেঁয়াজ বিক্রি হয় ৬৫ টাকা দরে। এর দুই দিন আগেও পেঁয়াজের দাম ছিল ৪৫ টাকা।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন