শনিবার | সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২০ | ১১ আশ্বিন ১৪২৭

শেষ পাতা

নিষেধাজ্ঞা রয়েছে ইউজিসির

চার মাসের জিইডি কোর্সকে এইচএসসির মর্যাদা দেয়ার আবেদন

সাইফ সুজন

এক সময় উচ্চমাধ্যমিক লেভেল সমমানের মর্যাদা দিয়ে এডুকেশনাল ডেভেলপমেন্ট বা জেনারেল ইকুইভ্যালেন্সি ডিপ্লোমা (জিইডি) সনদে শিক্ষার্থী ভর্তি করত দেশের বেশকিছু বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়। ২০১৮ সালের এপ্রিলে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি) জিইডি সনদ দিয়ে শিক্ষার্থী ভর্তিতে নিষেধাজ্ঞা দিলে সে সুযোগ বন্ধ হয়ে যায়। যদিও ফের এইচএসসি সমমানের মর্যাদা চাইছে জিইডি কর্তৃপক্ষ। সম্প্রতি বিষয়ে একটি আবেদন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে তারা।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি জিইডি টেস্টিং সার্ভিসেসের জিইডি ইন্টারন্যাশনাল ডিরেক্টর তাওয়িস্যাক জোচনচাম বিষয়ে একটি চিঠি জমা দিয়েছে মন্ত্রণালয়ে। ওই চিঠিতে জিইডি সনদকে এইচএসসি সমমানের মর্যাদা দেয়ার জন্য অনুরোধ করেছে আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান। তাদের চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে ইউজিসির কাছে বিষয়ে মতামত চেয়েছে মন্ত্রণালয়।

সেপ্টেম্বর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক উচ্চশিক্ষা বিভাগের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় শাখার উপসচিব তরিকুল স্বাক্ষরিত একটি চিঠি ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক কাজী শহীদুল্লাহকে পাঠানো হয়। ওই চিঠিতে জিইডি সনদকে এইচএসসি সমমানের মর্যাদার স্বীকৃতি প্রদান বিষয়ে ইউজিসির মতামত চাওয়া হয়েছে।

ইউজিসি সূত্রে জানা গেছে, উচ্চমাধ্যমিক লেভেল সমমানের মর্যাদা দিয়ে জিইডি সনদে শিক্ষার্থী ভর্তি করত বেশকিছু বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়। ২০১৮ সালের জুলাই থেকে সনদ গ্রহণ করে শিক্ষার্থী ভর্তি না করতে নির্দেশ দিয়ে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে চিঠি পাঠানো হয়। ওই সময় ইউজিসি চেয়ারম্যান ছিলেন অধ্যাপক আবদুল মান্নান।

অধ্যাপক আবদুল মান্নান বিষয়ে বণিক বার্তাকে বলেন, জিইডি কোর্সের বিষয় সময়সীমা কোনো দিক থেকেই উচ্চমাধ্যমিক লেভেল সমমানের নয়। কে বা কারা কখন এর অনুমোদন দিয়েছে, সেটি জানি না। তবে আমি দায়িত্বে থাকাকালে বিষয়টি নজরে আসে। তখন জিইডি সনদের মাধ্যমে যাতে শিক্ষার্থী ভর্তি না করে, সে বিষয়ে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে নির্দেশ দেয়া হয়।

জিইডি সনদকে উচ্চমাধ্যমিকের সমমান হিসেবে গ্রহণ করা নিয়ে নাখোশ শিক্ষাসংশ্লিষ্টরাও। তাদের অভিযোগ, মাধ্যমিক শেষ করে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে সময় লাগে প্রায় দুই বছর। ১২০০ নম্বরের চূড়ান্ত পরীক্ষায় অংশ নিতে হয় এই ডিগ্রি পেতে। অথচ মাত্র চার মাসেই লাভযোগ্য জিইডি সনদকে উচ্চমাধ্যমিক সমমানের মর্যাদা দেয়া হচ্ছে।

বাংলাদেশে কোর্সটি পরিচালনা করছে জিইডি সেন্টার ইনকরপোরেশন নামের একটি প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানটির ওয়েবসাইটে দাবি করা হয়েছে, ইউজিসি কর্তৃক অনুমোদিত বিধায় দেশের প্রায় সব নামকরা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় জিইডি ডিপ্লোমাকে এইচএসসি/ লেভেলের বিকল্প হিসেবে গ্রহণ করে। দেশের অর্ধশতাধিক বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় বর্তমানে জিইডি ডিপ্লোমা সনদ গ্রহণ করে। শুধু দেশে নয়, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, মালয়েশিয়াসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়েও ডিগ্রি নিয়ে স্নাতকে ভর্তির সুযোগ রয়েছে বলে দাবি করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক কাজী শহীদুল্লাহ বিষয়ে বণিক বার্তাকে বলেন, বর্তমানে জিইডি সনদ দিয়ে শিক্ষার্থী ভর্তি না করার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর প্রতি ইউজিসির নির্দেশনা রয়েছে। সম্প্রতি জিইডি কোর্সকে এইচএসসির মর্যাদা দেয়ার বিষয়ে  মন্ত্রণালয় থেকে আমাদের মতামত চাওয়া হয়েছে। আমরা জিইডি কর্তৃপক্ষের চিঠি বিশ্লেষণের পাশাপাশি জিইডি কোর্সের সময়সীমা, সিলেবাস গুণগত মানের সঙ্গে এইচএসসি পরীক্ষার সনদের মানের তুলনামূলক পর্যালোচনা করে দেখব। এরপর বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের মতামত জেনে সেই আলোকে প্রতিবেদন দেয়া হবে।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন