শনিবার | সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২০ | ১১ আশ্বিন ১৪২৭

দেশের খবর

যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতাল

তালিকায় উল্লেখিত খাবারের অর্ধেকও পাচ্ছেন না রোগী

বণিক বার্তা প্রতিনিধি যশোর

যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের সরকারিভাবে সরবরাহ খাবারের তালিকায় উল্লেখ রয়েছে, প্রত্যেক রোগী দুপুরে ২০০ গ্রাম চালের ভাত, ৮০ গ্রাম মাছ অথবা মুরগির মাংস ডাল পাবেন ২০ গ্রাম। কিন্তু বাস্তব চিত্র ভিন্ন। দুপুরের খাবারে প্রত্যেক রোগীকে দেয়া হচ্ছে ১৫-২০ গ্রাম মাছ অথবা মুরগির এক টুকরো মাংস। আর ভাত দেয়া হয় ৮০-৯০ গ্রাম। এছাড়া ডালের পরিমাণও অত্যন্ত কম। সরেজমিন ঘুরে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সঙ্গে কথা বলে তথ্য জানা গেছে।

অভিযোগ রয়েছে, দুপুরের খাবার ছাড়াও সকালের নাশতা রাতের খাবার বিতরণেও করা হচ্ছে অনিয়ম। সিভিডি (কার্ডিওভাসকুলার ডিজিজ) রোগীদের প্রতিদিন ১৪৫ গ্রাম দুধ ২৫ গ্রাম চিনি দেয়ার নির্দেশনা থাকলেও ঠিকমতো পাচ্ছেন না তারা।

সরকারি হাসপাতালে রোগীদের মাঝে খাবার বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। অনিয়মের বিষয়ে হাসপাতাল জেলা স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় জোরালো আলোচনা দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কর্মকর্তাদের পরিদর্শনের পরও খাবার সরবরাহে অনিয়ম থেমে থাকেনি। দুই বেলায় সামান্য পরিমাণে পোলট্রি মুরগির মাংস নতুবা ছোট সাইজের এক টুকরো মাছ দিয়ে নামমাত্র খাবার বিতরণ করা হতো। সকালের নাশতায় একটি কলা, ছোট সাইজের ডিম পাউরুটি দেয়া হতো রোগীদের। ডায়াবেটিকস রোগীর জন্য আলাদা খাবার দেয়ার নিয়ম থাকলেও মানা হয়নি। সব রোগীকে একই খাবার বিতরণ করা হয়। রোগীদের পরিমাণে কম নিম্নমানের খাবার দেয়ার বিষয়টি ফাঁস হওয়ার ভয়ে ওয়ার্ডে খাবারের পরিমাণ উল্লেখ করা কোনো তালিকাও টাঙানো হয়নি।

হাসপাতালের প্রশাসনিক সূত্র জানিয়েছে, রোগীদের সঠিক পরিমাণে উন্নত খাবার বিতরণ নিশ্চিত করতে তত্ত্বাবধায়ক খাবারের নতুন তালিকা তৈরি করেন। ২৯ জানুয়ারি প্রতিটি ওয়ার্ডে খাবারের তালিকা ঝুলিয়ে দেয়া হয়। তালিকায় উল্লেখ করা হয়েছে নং খাদ্যপ্রাপ্ত রোগীদের প্রতিদিন সকালের নাশতায় ১০০ গ্রামের পাউরুটি, দুটি কলা একটি ডিম নং খাদ্যপ্রাপ্ত রোগীদের (ডায়াবেটিকস) তিনটি আটার রুটি দুটি ডিম। , নং খাদ্যপ্রাপ্ত রোগীদের দুপুরের খাবারে থাকবে ২০০ গ্রাম ভাত, ৮০ গ্রাম মাছ অথবা পোলট্রি মুরগির মাংস, নং খাদ্যপ্রাপ্ত রোগীদের রাতের খাবার ২০০ গ্রাম ভাত, একটি ডিম ১০০ গ্রাম সবজি নং খাদ্যপ্রাপ্ত রোগীদের জন্য (ডায়াবেটিকস) তিনটি আটার রুটি, ১০০ গ্রাম সবজি মাছ অথবা মুরগির মাংস ৩৬ গ্রাম।

রোগী স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী খাবার দেয়া হচ্ছে না। সার্জারি ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন কয়েকজন রোগীর স্বজন জানান, সেপ্টেম্বর দুপুরের খাবারে ছিল এক টুকরো মাছ। ওজন হবে ১৫-২০ গ্রাম। ভাত ৯০-১০০ গ্রাম। আর ডালের পরিমাণ খুবই কম। তাও পানির মতো পাতলা। হাসপাতালে ভর্তি রফিকুল ইসলাম জানান, সকালের নাশতা রাতের খাবারেও করা হয় নয়ছয়। আনুমানিক ১০০ গ্রামের রুটি, একটি সাগর কলা একটি ডিম দেয়া হয়। রাতের খাবারে মাছ অথবা মাংস দেয়া হলেও পরিমাণে খুবই কম। অধিকাংশ দিন সবজি দেয়া হয় না। আর ৮০-৯০ গ্রামের চালের ভাত প্লেটে ছড়িয়ে ছিটিয়ে দেয়া হয়।

মেডিসিন ওয়ার্ডে সিভিডি রোগে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন নজরুল ইসলামের স্ত্রী সখিনা খাতুন জানান, তার রোগী তিনদিন আগে ভর্তি হয়েছে। রোগীর খাবারের জন্য একদিনও দুধ-চিনি দেয়া হয়নি।

তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে মেডিসিন ওয়ার্ডে দায়িত্বরত একজন সেবিকা জানান, রোগীদের ঠিকমতো দুধ-চিনি দেয়া হয় না। খুব কম রোগীরা এগুলো পায়। কিন্তু কিছু বলার নেই। সব কিছু মুখ বুঝে সহ্য করতে হয়। ডায়াবেটিস রোগীদের আটার রুটি দেয় না। প্যাকেট রুটি দিয়ে চালিয়ে দেন খাদ্য সরবরাহকারীরা।

হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. আরিফ আহমেদ জানান, খাবার সরবরাহে অনিয়ম ঠেকাতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বরাবরই সোচ্চার। বিগত দিনে অনেক কড়াকড়ি আরোপের মধ্য দিয়ে খাবার সরবাহে অনিয়ম রোধ করা হয়েছিল। বর্তমানে রোগীদের পরিমাণে কম নিম্নমানের খাবার দেয়ার বিষয়ে কেউ অভিযোগ করেননি। অভিযোগ পেলে অবশ্যই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

তিনি আরো জানান, প্রতিটি ওয়ার্ডে খাবার পরিমাণের তালিকা ঝুলানো আছে। সেই অনুযায়ী বিতরণকারীদের কাছ থেকে যেন ন্যায্যটা আদায় করে নেন।

হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক দিলিপ কুমার জানান, খাবার সরবরাহকারীদের সঠিক পরিমাণে খাবার বিতরণের জন্য নির্দেশনা দেয়া আছে। হাসপাতালে ২৫০ জন এবং করোনারি কেয়ার ইউনিটে ২৮ জনকে প্রতিদিন খাবার দেয়া হয়। ঠিকাদার খাবারে অনিয়ম করলে অবশ্যই জবাবদিহিতা করতে হবে।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন