শনিবার | সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২০ | ১১ আশ্বিন ১৪২৭

টকিজ

‘চলচ্চিত্র না বাঁচলে আমরা ইতিহাস থেকে মুছে যাব’

ফিচার প্রতিবেদক

কভিড-১৯-এর কারণে অনেকদিন ধরে চলচ্চিত্রের কাজ না করলেও আলোচনা যেন থেমে নেই ঢাকাই চলচ্চিত্রের প্রিয় অভিনেতা আরিফিন শুভকে নিয়ে। এখনো শুটিং শুরু না করলেও বসে নেই শুভ। বাড়িতে থেকেই দীর্ঘদিন ধরে নিজেকে প্রস্তুত করছেন। আর এরই মধ্যে আলোচনায় এসেছেন তার বডি ট্রান্সফরমেশন-এর বিষয়টি নিয়ে।

মুক্তির অপেক্ষায় থাকা মিশন এক্সট্রিম চলচ্চিত্রের জন্য শরীর গঠন করেছিলেন শুভ, সে গল্প প্রায় দুই বছর আগের। চরিত্রের প্রয়োজনেই তা করা। পরিবর্তনের সেই জার্নির গল্পটা নিয়ে আগামী শুক্রবার অনলাইনে একটি ভিডিও প্রকাশ করতে চলেছেন বলে শুভ জানালেন। বললেন, মিশন এক্সট্রিমের জন্য যে শারীরিক পরিবর্তনের ভেতর দিয়ে আমি গিয়েছি, তার ওপর একটা প্রামাণ্যচিত্র প্রস্তুত করেছি, যা আগামী শুক্রবার রিলিজ করতে যাচ্ছি। বলা যায়, জার্নির গল্পটাকে একটা রেকর্ড হিসেবে রেখে দিয়েছেন শুভ।


ভিডিওটিতে এমন কী থাকছে শুভর ভক্তদের জন্য? অভিনেতা নিজেই জানিয়ে দিলেন, মিশন এক্সট্রিমের জন্য আমি নিজেকে যেভাবে প্রস্তুত করেছি ভিডিওতে সেটা দেখা যাবে। এছাড়া আমার যারা ভক্ত, যারা শারীরিক কসরত করতে ভালোবাসেন, ফিটনেস নিয়ে ভাবেন তাদের জন্য ভিডিওটি এক ধরনের অনুপ্রেরণা হিসেবে থাকবে। সেভাবেই ভিডিওটি তৈরি করা। আমি ভক্তদের বার্তা দিতে চাই যে সময় নষ্ট না করে জিমে যান, সঠিক খাবার খান, সুস্থ সুন্দর থাকুন।

শুভর বডি ট্রান্সফরমেশনের কয়েকটি ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আসার পর বার বার একই বিষয়ে কথা বলতে হচ্ছে তাকে। তাই সবার জানার উদ্দেশেই যেন বিষয়টি সম্পর্কে একটু বুঝিয়ে বললেন শুভ। তার কথায়, ফিজিক্যাল ট্রান্সফরমেশন মানে শারীরিক পরিবর্তন। এটার মানে শুধু বডিবিল্ডার টাইপ বডি না। সাধারণ মানুষের ধারণা হচ্ছে, আমি চিরকালই এমন সিক্সপ্যাক নিয়ে ঘুরব। আমার প্রশ্ন হচ্ছে, আমি কি চিরকালই মিশন এক্সট্রিম করব? আর কোনো চরিত্র করব না? মিশন এক্সট্রিমের প্রয়োজনে আমি বডি বানিয়েছিলাম। চরিত্র অনুযায়ী নিজেকে গঠন করার নামই হচ্ছে ফিজিক্যাল ট্রান্সফরমেশন।

মিশন এক্সট্রিমের পর নতুন চরিত্রের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করছিলেন শুভ। কিন্তু করোনার জন্য সে কাজ থেমে আছে। তবে এর মাঝেই জি-ফাইভের জন্য একটি থ্রিলার ছবিতে চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন অভিনেতা। এটার জন্যই বর্তমানে নিজেকে প্রস্তুত করছেন বলে শুভ জানালেন। এটিই ওয়েবে তার প্রথম কাজ। নভেম্বরে কাজটি শুরুর কথা রয়েছে। সেপ্টেম্বর অক্টোবর দুই মাস প্রস্তুতি পর্ব চলবে। এর মধ্যেই ডায়েট ট্রেনিং চলছে শুভর। চরিত্রের জন্য এরই মধ্যে একটা লুক ভাবা হয়েছে বলে শুভর কাছ থেকে জানা গেল। এটি নির্মাণ করবেন কৃষ্ণেন্দু চট্টোপাধ্যায়, তামিম নূর পাঠ্য সরকার।


বেছে বেছে এবং নিজের সর্বোচ্চ দিয়ে কাজ করতে পছন্দ করেন আরিফিন শুভ। তার মতে, আমি ট্রেন্ডে নয় বরং যদি তোর ডাক শুনে কেউ না আসে নীতিতে বিশ্বাস করি। ইন্ডাস্ট্রির কে কীভাবে চলছে, সেটা তাদের ব্যক্তিগত অভিরুচি।

দেশের চলচ্চিত্র এখন অস্তিত্ব সংকটে আছে, আর সে সংকট নিজের অস্তিত্ব সংকটের মতোই বলে মনে করছেন ঢাকাই চলচ্চিত্রের অভিনেতা। তার মতে, দেশের চলচ্চিত্র মুহূর্তে ইনটেন্সিভ কেয়ার ইউনিটে আছে। বাঁচবে না মরবে বলা যাচ্ছে না। লাইফ সাপোর্টে আছে। এখানে ইন্ডাস্ট্রির মৃত্যু মানে আমাদের নিশ্চিহ্ন হয়ে যাওয়া। আমরা কিন্তু আমাদের জীবনে আর কিছুই করিনি। অভিনয় ছাড়া কিছু শিখিনি। চলচ্চিত্র না বাঁচলে আমরা ইতিহাস থেকে মুছে যাব।

এখন বিকল্প অনেক প্লাটফর্ম আসছে, জনপ্রিয়ও হচ্ছে। নিয়ে শুভর মতামত জানতে চাইলে তার সহাস্য উত্তর, বন্যেরা বনে সুন্দর, সিনেমা প্রেক্ষাগৃহে। সিনেমার মজা যদি ল্যাপটপ বা মোবাইলে পাওয়া যেত, তাহলে বড় স্ক্রিনে কেউ ছবি দেখত না। প্রেক্ষাগৃহের বিকল্প নেই। সিনেমা মানেই প্রেক্ষাগৃহ।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন