শনিবার | সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২০ | ১১ আশ্বিন ১৪২৭

টেলিকম ও প্রযুক্তি

ওরাকল-টিকটকের চুক্তি পর্যালোচনা করবে হোয়াইট হাউজ

বণিক বার্তা ডেস্ক

চীনভিত্তিক বাইটডান্স নিয়ন্ত্রিত শর্ট ভিডিও তৈরির সোস্যাল মিডিয়া প্লাটফর্ম টিকটক নিজেদের মার্কিন কার্যক্রম পরিচালনা অব্যাহত রাখতে ওরাকল করপোরেশনের সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়েছে। বহুল আলোচিত চুক্তি পর্যালোচনা করা হবে বলে গত মঙ্গলবার জানিয়েছেন হোয়াইট হাউজের উপদেষ্টা জারেদ কুশনার। খবর রয়টার্স।

গত আগস্ট মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রে টিকটক নিষিদ্ধে এক নির্বাহী আদেশে সই করেন। ওই আদেশে বলা হয়, জাতীয় নিরাপত্তার জন্য বড় ধরনের হুমকি টিকটক। যে কারণে টিকটকের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেয়া উচিত।

শুধু টিকটক নয়; একই সঙ্গে আরেক চীনা ইন্টারনেট কোম্পানি টেনসেন্ট নিয়ন্ত্রিত টেক্সট ভয়েস মেসেজিং অ্যাপ উইচ্যাটকেও যুক্তরাষ্ট্রে নিষিদ্ধ করতে দ্বিতীয় আরেকটি নির্বাহী আদেশে সই করেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে টিকটকের মার্কিন কার্যক্রম যুক্তরাষ্ট্রের কোনো প্রতিষ্ঠানের কাছে বিক্রি করে দিতে সময় বেঁধে দেয়া হয়, যা গত মঙ্গলবার শেষ হয়। নির্দেশনা অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মার্কিন কার্যক্রম চালু রাখতে ওরাকলের সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়েছে টিকটকের প্যারেন্ট কোম্পানি বাইটডান্স। কিন্তু নির্বাহী আদেশে মার্কিন কার্যক্রম যুক্তরাষ্ট্রের কোনো প্রতিষ্ঠানের কাছে বিক্রি করে দেয়ার কথা বলা হয়েছে। যে কারণে ওরাকলের সঙ্গে কী ধরনের চুক্তিবদ্ধ হয়েছে টিকটক কর্তৃপক্ষ তা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখতে চাইছে হোয়াইট হাউজ।

টিকটকের যুক্তরাষ্ট্রের কার্যক্রম কিনতে একগুচ্ছ মার্কিন কোম্পানি রীতিমতো প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হয়েছিল। শুরুতে বৈশ্বিক সফটওয়্যার জায়ান্ট মাইক্রোসফট অ্যাপটির যুক্তরাষ্ট্রের কার্যক্রম কিনতে আলোচনা শুরু করলেও পরে প্রতিযোগিতায় নাম লিখিয়েছে মাইক্রোব্লগিং সাইট টুইটার। টিকটকের যুক্তরাষ্ট্রের কার্যক্রম কিনতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে ওরাকল করপোরেশন। তবে ওরাকল শুধু টিকটকের যুক্তরাষ্ট্রের কার্যক্রম নয়; একই সঙ্গে কানাডা, অস্ট্রেলিয়া নিউজিল্যান্ডের কার্যক্রমও কেনার প্রস্তাব দিয়েছিল।

ওরাকল টিকটকের যুক্তরাষ্ট্রের কার্যক্রম কিনতে অ্যাপটির কয়েকটি মার্কিন বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ করে আসছিল। নিয়ে টিকটকে বিনিয়োগ থাকা জেনারেল আটলান্টিক সিকোইয়া ক্যাপিটালের সঙ্গে একাধিকবার আলোচনায় বসেছিল প্রতিষ্ঠানটি। শেষ পর্যন্ত তড়িঘড়ি করে কী ধরনের শর্তে প্রতিষ্ঠান দুটি চুক্তিবদ্ধ হয়েছে তা এখনো পরিষ্কার নয়।

টিকটক নিজেদের কার্যক্রম নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি আরো কয়েকটি দেশে চাপে রয়েছে। বিবৃতিতে টিকটক জানায়, যুক্তরাষ্ট্রে তাদের ব্যবসা ধ্বংস করতে অপ্রত্যাশিত পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। এমনকি তাদের যুক্তরাষ্ট্রের কার্যক্রম বিক্রি করতে বাধ্য করার মতো পরামর্শ দেয়া হয়েছে। তথ্য নিরাপত্তার অজুহাতে দেশটিতে তাদের সঙ্গে অবিচার করা হচ্ছে। যে কারণে বিষয়টি নিয়ে প্রতিষ্ঠানটি আইনের আশ্রয় নেয়া পর্যন্ত সিদ্ধান্ত জানিয়েছিল।

টিকটক ইস্যুতে ট্রাম্প প্রশাসনের সিদ্ধান্তের কড়া সমালোচনা হুঁশিয়ারি দিয়েছে চীন। বেইজিংয়ের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় শর্ট ভিডিও তৈরির অ্যাপ টিকটকের স্থানীয় কার্যক্রম নানা অজুহাত অপকৌশলে বাগিয়ে নেয়ার চেষ্টা করছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন, যা কোনো পরিস্থিতিতেই মেনে নেয়া হবে না। বৈশ্বিক প্রযুক্তি শিল্পে প্রতিযোগিতা নয়; একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তারে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন আমেরিকা ফার্স্ট নীতি অনুসরণ করছে। যুক্তরাষ্ট্রে চীনা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো নিয়মিত হেনস্তার শিকার হচ্ছে। চীনা প্রতিষ্ঠানগুলোর অগ্রগতি থামাতে একের পর এক অন্যায় অভিযোগ করা হচ্ছে। মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলোকে টেক্কা দিতে সক্ষম সব চীনা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ওয়াশিংটন তথ্য নিরাপত্তার অভিযোগ তুলছে, যা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। চীনা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোকে ব্যবসার দিক থেকে দাবিয়ে রাখতে পরিকল্পিত ধ্বংসলীলা চালাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। যুক্তরাষ্ট্রের এমন অপকৌশলের জবাব দেয়ার যথেষ্ট সুযোগ পন্থা চীনের হাতে রয়েছে।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন