শনিবার | সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২০ | ১১ আশ্বিন ১৪২৭

সম্পাদকীয়

সংকটাপন্ন এশিয়ান বন্য হাতি: আইনের প্রায়োগিকতা ও বাস্তবতা

নাহিদা ফারজানা কলি

‘কেরালার মালাপ্পুরমে বাজি ভরা আনারস খাইয়ে হত্যা করা হয়েছে এক মা হাতি ও তার গর্ভে থাকা সন্তানকে’- সম্প্রতি হাতির প্রতি নৃশংসতার এ সংবাদটি গোটা ভারতসহ সোশ্যাল মিডিয়াকে নাড়িয়ে দিয়েছে। মানুষের এই বিশালদেহী বন্য প্রাণীর প্রতি নৃশংসতা এই প্রথম নয়। ইদানীং নতুন বিপদ হয়ে এসেছে, চামড়ার জন্য এশিয়ান হাতি শিকার। আফ্রিকা ও এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে প্রায় এমন ঘটনা ঘটে চলেছে। গত বছরে শ্রীলঙ্কায় বিষ খেয়ে ৭টি হাতির মারা যাওয়াই হোক আর বাংলাদেশের বঙ্গবাহাদুরের প্রতি অবহেলার চিত্র উঠে আসুক, হাতির ওপর নৃশংতা ২০২০ সালেও থামেনি। এ ক্ষেত্রে আইন ও প্রশাসনের ভূমিকা বরাবরই প্রশ্নবিদ্ধ!

এশীয়ান হাতি সর্বপ্রথম ১৯৭৫ সালে  Convention on International Trade of Endangered Species in Wild Fauna and Flora (CITES) এর appendix ও এ লিপিবদ্ধ করা হয়। ১৯৭৬ সালে U.S. Endangered species Act (ESA) এ এশীয়ান হাতিকে সংকটাপন্ন  হিসেবে লিপিবদ্ধ করে এশিয়ান হাতি, এর অংশ বিশেষ ও পণ্যর বাণিজ্যিক ব্যবসা নিষিদ্ধ করা হয়। Asian Elephant conservation Act ১৯৯৭ এর মাধ্যমে United States বিপদাপন্ন হাতির নিরাপত্তা ত্বরান্বিত করে, এর আবাস সংরক্ষণ, হাতির ওপর গবেষণা বৃদ্ধি করে। এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে থাইল্যান্ড, শ্রীলঙ্কা, ভারত ও বাংলাদেশের আইন ও বাস্তবে এর প্রায়োগিকতা তুলে ধরা হলো:

থাইল্যান্ড
পৌরাণিক কাহিনীর বিজ্ঞ প্রাণী হাতি থাইল্যান্ডের জাতীয় পশু। থাইল্যান্ডে হাতির সংখ্যা দ্রুত হ্রাস পেতে শুরু করেছে। সরকার এই প্রাণীর পুনঃস্থাপনের জন্য সম্ভাব্য সব ব্যবস্থা নিচ্ছে। থাইল্যান্ডের নিজস্ব আইন ও CITES চুক্তির মাধ্যমে দেশটির বন্য হাতিরা সুরক্ষিত। ১৯২১ সালে তৎকালীন রাজা ‘বন্য হাতি সুরক্ষা আইন’ (Wild Elephant Protection Act)এ জারি করেন, সকল বন্য হাতি সরকারের সম্পদ। সাদা হাতিকে বিশেষ মর্যাদা  দেয়া হয়। The Beast of Burden Act (1939)  হাতি এবং অন্যান্য প্রাণীকে ব্যক্তিগত মালিকানাধীন, বিক্রি ও ভাড়া দেওয়ার অনুমতি দেয় বলে গবাদি পশু হিসাবে শ্রেণিবদ্ধ করে। কিন্তু এই আইনের প্রাণীকল্যাণ সুরক্ষার জন্য কোনো অতিরিক্ত ব্যবস্থা ছিল না। পরবর্তীতে, The Wild Animal Reservation and Protection Act 2535 (1992) বন্য হাতির সুরক্ষা প্রদান করলেও, নিবন্ধিত ভারবাহী হাতিকে এর আওতা থেকে বাদ দেয়।

থাইল্যান্ডে, এশিয়ার অনেক দেশের মতোই, এশিয়ান হাতি লগিং শিল্পে কাজ করার জন্য বহু বছর ধরে ব্যবহার করে আসছে। ১৯৮৯ সালে থাইল্যান্ডে বাণিজ্যিক লগিং নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়। থাইল্যান্ড এখনও বন্দী হাতিদের সর্বাধিক জনসংখ্যার একটি, যা মূলত পর্যটন শিল্পে ব্যবহৃত হয়, থাইল্যান্ডে বর্তমানে প্রায় ২০০টি হাতির পর্যটন শিবির রয়েছে। কিছু হাতি এখনও লগিংয়ের মতো কাজের উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হয়। হাতির বন্য জনসংখ্যা ধরা হয়েছে প্রায় ৩,২০০।

সরকার নতুন এক  আইন জারি করতে যাচ্ছে ফলে, রাজ্যের প্রতিটি গৃহপালিত হাতির কাছ থেকে ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ এবং তাদের জিনগত তথ্য সম্বলিত একটি বিস্তৃত ডাটাবেস স্থাপনের জন্য সরকার নির্দেশ জারি করেছিল। অনুমান করা হয়, থাইল্যান্ডে প্রায় ৩,৫০০ গৃহপালিত হাতি রয়েছে। আবাসন ক্ষতি ও শিকারের জন্য হাতির সংখ্যা তীব্র হ্রাস পেতে সাহায্য করে। সর্বশেষে, বিলটিতে কৃষি ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থায়ী সচিবের সভাপতিত্বে একটি জাতীয় হাতি কমিটি গঠনের আহ্বান জানানো হয়েছে। বন্য হাতির জনসংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায়, হাতি এবং কৃষকদের মাঝে আরো দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হচ্ছে, কারণ হাতিরা অন্নের সন্ধান করে, কখনো কখনো তাদের ফসল খায়। জাতীয় উদ্যান অধিদফতর বলেছে যে, হাতিদের জন্য অতিরিক্ত খাদ্য উৎস সরবরাহ করা, কৃষকদের ক্ষতিপূরণ দেওয়া এবং হাতি এবং সম্প্রদায়ের মধ্যে বাফার অঞ্চল তৈরি করাসহ এই বিরোধগুলি হ্রাস করার জন্য অতিরিক্ত পদক্ষেপের চেষ্টা করা হবে। থাই সরকার ২৬ মে ১৯৯৮ সালে মন্ত্রিসভায় সমাজের কাছে পশুর গুর”ত্ব সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে ১৩ মার্চকে থাই এলিফ্যান্ট দিবস হিসাবে মনোনীত করার বিষয়ে একমত হয়েছিল।

শ্রীলঙ্কা
হাতিরা শ্রীলঙ্কায় স্থানীয় সংস্কৃতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে। শ্রীলঙ্কার উপ-প্রজাতিগুলি এশিয়ান হাতির মধ্যে বৃহত্তম। ২০১১ সালে শ্রীলঙ্কায় সর্বশেষ বন্য হাতি গণনা করা হয়। ওই সময়ে দেখা যায়, দেশটিতে ৫ হাজার ৮৭৯টি হাতি অবশিষ্ট রয়েছে। শ্রীলঙ্কায় হাতি হত্যা বেআইনি। যে কেউ হাতির ক্ষতি করে, হত্যা করে বা আহত করে সে কারাদণ্ড বা কয়েক লক্ষ টাকা পর্যন্ত জরিমানার জন্য দায়ী। তারপরও স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে প্রায়ই হাতিদের বিরোধের খবর পাওয়া যায়। গ্রাম আর খামার সম্প্রসারিত হতে থাকায় হাতিদের বাস স্থান আর খাবার ও পানি সরবরাহ সীমিত হয়ে পড়ছে।

শ্রীলঙ্কার বিখ্যাত পর্যটন কেন্দ্র সিগিরিয়াতে আঠেরোর তর”ণ হাতি পর্যটকদের পিঠে নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছিল। পর্যাপ্ত বিশ্রামের অভাবেই হাতিটির মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে পশু চিকিৎসকরা। অবলা হাতির মৃত্যুর পর সরব হয়েছে বিশ্বের বিভিন্ন প্রাণী স্বার্থ রক্ষার সংগঠনগুলি। অনেকেই প্রাণী সুরক্ষা বিলে বদল আনার দাবি তুলেছেন। কারণ, মানুষের স্বার্থ রক্ষা করতে গিয়ে বার বার অবলা জীবদের ক্ষতি হচ্ছে।

শ্রীলঙ্কায় ২০১৯ সালে সর্বোচ্চ সংখ্যক হাতির মৃত্যু হয়েছে। পরিবেশবাদী সংগঠনের হিসেব অনুযায়ী, গেলো বছর দেশটিতের ৩৬১টি হাতি প্রাণ হারায়, যার বেশির ভাগকেই হত্যা করা হয়েছে। ১৯৪৮ সালে শ্রীলঙ্কার স্বাধীনতার পর এটাই সর্বোচ্চ। পরিসংখ্যান অনুযায়ী দেশটিতে সাড়ে সাত হাজার বন্য হাতির বাস। তাদের হত্যা করা অবৈধ। স্থানীয় বৌদ্ধ সংস্কৃতিতে হাতির জন্য একটা বিশেষ সদয় অনুভূতি রয়েছে শ্রীলঙ্কায়। তারপরও ক্ষেতের ফসল বাঁচাতে অনেক কৃষককে নিয়মিত হাতি মোকাবিলা করতে হয়। প্রাণ হারানো হাতির ৮৫ শতাংশই মারা যায় মানুষের কারণে।

ভারত
ভারতীয় হাতি (Elephas maximus indicus) হলো এশীয় হাতির চারটি উপ-প্রজাতির অন্যতম ও ভারতীয় প্রজাতন্ত্রের ‘জাতীয় ঐতিহ্যবাহী পশু’। বর্তমানে ভারতে ২০,০০০-২৫,০০০ এই প্রজাতির হাতি রয়েছে। এশিয়ান এলিফ্যান্ট স্পেশালিস্ট গ্রুপ ১৯৯৬ সালেই ভারতীয় হাতিকে বিপন্ন প্রজাতি ঘোষণা করেছিল। ২০১৫ সালের সর্বশেষ সরকারি আদমশুমারি অনুসারে ভারতে সবচেয়ে বেশি বন্দী হাতি রয়েছে।  অবশেষে, বন্দী হাতিদের বেশিরভাগই প্রায় ১,৮২১-এর কাছাকাছি ব্যক্তিগত হেফাজতে রয়েছে, যা হিন্দু ধর্মীয় অনুষ্ঠান এবং মিছিলের জন্য ব্যবহৃত হয়।

 ২০১০ সালে হাতিকে জাতীয়  ঐতিহ্যবাহী প্রাণী হিসাবে ঘোষণা করা হয়েছিল। ২০০২ সালে সংশোধিত হওয়া এই বন্যজীবন সংরক্ষণ আইন (The Wildlife Protection Act 1972) অনুযায়ী,বন বিভাগের সাথে নিবন্ধিত না হওয়া বন্দী হাতি বিক্রয় নিষিদ্ধ করেছিল। তবে ৪০ অনুচ্ছেদের অধীনে, হাতিদের দখল, উত্তরাধিকার বা অধিগ্রহণের বিষয়ে বিশেষ মর্যাদা প্রদানের ফলে হাতি ব্যবসায়ীদের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করতে এবং এই হাতির অবৈধ বাণিজ্য চালিয়ে যেতে সক্ষম করেছে। বন্যজীবন সুরক্ষা আইনের ৪০ ধারায় প্রদত্ত জীবিত হাতিদের অব্যাহতি প্রত্যাহার করা উচিত এবং সমস্ত জীবিত হাতির বাণিজ্য অবিলম্বে বন্ধ করা উচিত। এটি বন্য হাতির অবৈধ বাণিজ্য বন্ধে সহায়তা করবে। সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৫১ এ (জি) এর আওতায় পশুর অধিকার সুরক্ষিত রয়েছে, যা বন্যজীবন রক্ষা এবং জীবিত প্রাণীদের প্রতি সমবেদনা দেখানো নাগরিকের কর্তব্যে পরিণত করে। বন্যজীবন সুরক্ষা আইনে বলা হয়েছে যে, যেকোনো বন্য প্রাণীকে ধরা, বিষ, ফাঁদে ফেলা, বা কামড় দেওয়ার জন্য দোষী সাব্যস্ত হয়েছে এমনকি এমন করার চেষ্টা করেও তাকে ২৫,০০০ রুপি বা সাত বছরের জেল বা উভয়দণ্ডে দণ্ড দেওয়া যেতে পারে। ভারতীয় বন্য আইনে বন্য জন্তু পোষা ও বিক্রির ওপর রয়েছে নানা নিষেধাজ্ঞা। তবে সমীক্ষা প্রতিবেদন অনুসারে, হাতির ব্যাপারে আইন অমান্যের ঘটনা ঘটছে। অথচ এ ব্যাপারে আসাম সরকার বা সরকারের বন দপ্তর নির্বিকার। বন্য জন্তুদের ওপর অপরাধ প্রতিরোধ শাখার (ডব্লিউসিপিইউ) সাম্প্রতিক সমীক্ষা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সরকারের অজান্তেই আসাম রাজ্যের হাতি চলে যাচ্ছে অন্য রাজ্য। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, আসামে গরুর গাড়ির মতো হাতির গাড়িও রয়েছে। গুজরাটে রথ টানার জন্য চারটি হাতি আসাম থেকে নিয়ে যাওয়ার কথা ছিল। বিষয়টি জানতে পেরে পরিবেশপ্রেমীরা প্রতিবাদ শুরু করেন। হাতি পাঠানোর সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবিতে গুয়াহাটির উচ্চ আদালতে মামলাও চলছে।

তবে শুধু হাতির জন্য ভারতে প্রথম ‘হাতি স্পেশালিটি হাসপাতাল’ ২০১৮ সালে চালু করা হয়েছে। হাতির করিডোরের ওপর দিয়ে রেল চলাচল বন্ধ রাখার জন্য ভারতের রেলমন্ত্রীকে প্রস্তাব দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য।এই উদ্যোগগুলো হাতিদের উন্নয়নে সহায়তা করবে আশা করা যায়!

বাংলাদেশ 
সারা বিশ্বে এশিয়ান হাতির সংখ্যা ৩৫ থেকে ৪০ হাজার দাবি করা হলেও বাংলাদেশে এ সংখ্যা নগণ্য। ২০১৫-২০১৬ সালে আইইউসিএন (ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর কনজারভেশন অফ নেচার) এর এক জরিপে সারাদেশে মোট ২৬৮ হাতি থাকার কথা জানা গেছে। এর মধ্যে দুই তৃতীয়াংশের হাতিরই বসবাস পার্বত্য চট্টগ্রামে। জরিপের সঙ্গে সম্পৃক্ত আইইউসিএনে’র গবেষকরা বলছেন, ১০০ বছর আগে এ দেশে ৫০০-এর বেশি হাতি ছিল। সেটি কমতে কমতে এখন ৩০০-এর নিচে নেমেছে।

তিন পার্বত্য জেলায় মানুষের আক্রমণে হাতি মারা যাওয়ার ঘটনায় স্ব-স্ব থানায় জিডি করা আছে। কিন্তু কোনো গ্রেপ্তার বা মামলা হয়নি। বাংলাদেশের বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন ২০১২ এর ৩৬ ধারায় বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি ধারা ২৪ এর অধীনে লাইসেন্স সংগ্রহ না করে তফসিল ১ এ উল্লেখিত কোনো বাঘ বা হাতি হত্যা করলে,এটা জামিন অযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। এক্ষেত্রে শাস্তির সর্বনিম্ন মেয়াদ ২ বছর ও সর্বোচ্চ মেয়াদ ৭ বছর কারাদণ্ড আর সর্বনিম্ন ১ লাখ টাকা ও সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হবেন। তবে একই অপরাধের পুনরাবৃত্তি করলে সর্বোচ্চ ১২ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড ও সর্বোচ্চ ১৫ লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হবেন। বন্য প্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন ২০১২ এর ৫২ ধারার প্রদত্ত ক্ষমতাবলে সরকার ‘হরিণ ও হাতি লালন-পালন বিধিমালা ২০১৭’ প্রণয়ন করে যেখানে লাইসেন্স ও পজেশন সার্টিফিকেট ইস্যু ও নবায়ন প্রক্রিয়া রেজিস্ট্রার ও তথ্য সংরক্ষণ দিক নির্দেশনা দেয়া হয়। ৯০ দিনের মধ্যে বাচ্চা হাতির কানে ট্যাগ দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়।

হাতি এবং মানুষের দ্বন্দ্ব বেড়েই চলেছে প্রতিনিয়ত। রাঙামাটি শহরের রাঙাপানি এলাকায় দুইটি হাতি পাহাড়ের খাদে পড়ে মারা যায়। আর মারা যাওয়ার সাথে সাথেই কে বা কারা হাতির মাংস, হাড়, দাঁত স্বল্পতম সময়ের মধ্যে নিয়ে যায়। রাঙামাটির বিশিষ্ট উন্নয়নকর্মী অম্লান চাকমা বলেন, ‘আগে পাহাড়ে হাতির খাবারের কোন অভাব ছিল না। কিন্তু বর্তমানে জনসংখ্যা বৃদ্ধি হওয়ার কারণে জুমের ফসলও কমে গেছে। হাতির বিচরণ ক্ষেত্রও কমে গেছে এবং তাদের বাসযোগ্য স্থান তারা হারাচ্ছে। এ কারণে হাতির পাল মাঝে মাঝে খাবারের জন্য লোকালয়ে চলে আসে এবং মানুষের উপর আক্রমণ করে। এ থেকে উত্তরণের জন্য বন বিভাগগুলোকে  গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে হবে। ’হাতির  সংখ্যা কমে যাওয়ার প্রধান কারণ  বন উজাড় করে নির্মাণ করা হচ্ছে শিল্প-কারখানা, রাস্তঘাট ও বিদ্যুৎ কেন্দ্র। বাংলাদেশে আছে শুধু এশীয় প্রজাতির হাতি।

আইইউসিএন বলছে, মানুষের জীবন ও সম্পদ রক্ষায় বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সহযোগিতা জরুরি। সম্প্রতি আন্তঃদেশীয় হাতি যথাযথভাবে ব্যবস্থাপনা করতে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্য স্বাক্ষরিত একটি প্রটোকলের ভুতাপেক্ষ অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।

পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা পালনের জন্য হাতিকে ফরেস্ট ইঞ্জিনিয়ার বলা হয়। সম্প্রতি ভারতের কেরালায় অন্তঃসত্ত্বা হাতি হত্যার ঘটনায় কেন্দ্রীয় মন্ত্রী প্রকাশ ট্যুইটারে লিখেছেন, ‘কেন্দ্রীয় সরকার অত্যন্ত গুর”ত্বের সঙ্গে ঘটনাটির দিকে নজর রাখছে। আমরা দুস্কৃতীকে ধরতে যা করতে হয় তাইই করব। হাতিকে বাজি খাইয়ে দেওয়া ভারতীয় সংস্কৃতির অংশ নয়।’ বাংলাদেশের বঙ্গবাহাদুরের ঘটনা যেমন ছিল আলোচিত তেমনি সম্প্রতি সময়ে বিচ্ছিন্ন হাতি মৃত্যুর ঘটনা বার বার বন বিভাগের অবহেলার ইঙ্গিত করে যেমন, গত ৯ মাসে ফাঁদ পেতে ১১টি হাতি মারা হয়েছে বান্দরবান ও আশেপাশের এলাকায়। গত বছর শ্রীলঙ্কায় বিষ দিয়ে ৭টি হাতির মৃত্যু ও আমাদের জন্য ছিল শোকের। ধারণা করা হচ্ছে, প্রতি বছর যে হারে হাতি কমছে, তাতে ১০ বছর পর চিড়িয়াখানা ছাড়া আর কোথাও এই প্রাণীর অস্তিত্ব থাকবে না। এশিয়ায় আছে মাত্র ৩৫ থেকে ৪০ হাজার হাতি। গত দশ বছরে সারা বিশ্ব থেকে হাতি কমেছে ৬২ ভাগ। বর্তমানে যে পরিমাণ এশিয়ান হাতি রয়েছে তা রক্ষার্থে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তৎপরতা জরুরি এবং অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা না গেলে ধীরে ধীরে বিপন্ন এ জাতি হারিয়ে যাবে।


সৌজন্যে: আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন