সোমবার | সেপ্টেম্বর ২১, ২০২০ | ৬ আশ্বিন ১৪২৭

টেলিকম ও প্রযুক্তি

একীভূতকরণ ও অধিগ্রহণ

বৈশ্বিক ব্যয়ের এক-পঞ্চমাংশ প্রযুক্তি খাতে

বণিক বার্তা ডেস্ক

চলতি বছর বৈশ্বিক একীভূতকরণ এবং অধিগ্রহণ (এমঅ্যান্ডএ) বাবদ ব্যয় ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। এর মধ্যে এক-পঞ্চমাংশ ব্যয় হয়েছে প্রযুক্তি খাতের প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে একীভূতকরণ অধিগ্রহণে। গত সোমবার এনভিডিয়া কর্তৃক চিপ ডিজাইনার কোম্পানি যুক্তরাজ্যভিত্তিক এআরএম হোল্ডিংসকে হাজার কোটি ডলারে অধিগ্রহণের ঘোষণা এসেছে। এর পরই বৈশ্বিক একীভূতকরণ এবং অধিগ্রহণ বাবদ মোট ব্যয়ে প্রযুক্তি খাতের প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যয় এক-পঞ্চমাংশে পৌঁছায়। খবর রয়টার্স।

কভিড-১৯ বৈশ্বিক মহামারীর কারণে চলতি বছরের শুরুতে বিভিন্ন খাতের প্রতিষ্ঠানের মধ্যে একীভূতকরণ এবং অধিগ্রহণের উদ্যোগ কমতে দেখা যায়, যা এখন অনেকটা স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। বিশেষ করে চলতি মাসের শুরুতে বিভিন্ন খাতের পাশাপাশি তথ্যপ্রযুক্তি খাতের প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে একীভূতকরণ এবং অধিগ্রহণ প্রবণতা বেড়েছে।

শুধু এনভিডিয়ার এআরএম হোল্ডিংসকে অধিগ্রহণই নয়; চলতি মাসে মার্কিন টেলিকম ক্যারিয়ার ভেরাইজন মেক্সিকান মোবাইল ফোন প্রোভাইডার ট্র্যাকফোনকে অধিগ্রহণের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছে। নিয়ে উভয় প্রতিষ্ঠানের মধ্যে একটি চুক্তিও হয়েছে। ট্র্যাকফোনকে অধিগ্রহণে ৬২৫ কোটি ডলার পরিশোধ করবে ভেরাইজন কর্তৃপক্ষ। এছাড়া চলতি মাসেই গিলিয়ড সায়েন্সেস নামে একটি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান হাজার ১০০ কোটি ডলারে বায়োটেক প্রতিষ্ঠান ইমিউনোমিডিক্সকে অধিগ্রহণে চুক্তিবদ্ধ হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছর শেষ হতে এখনো তিন মাসের বেশি সময় বাকি। তবে এরই মধ্যে চলতি বছরের জন্য একীভূতকরণ এবং অধিগ্রহণ বাবদ বৈশ্বিক ব্যয় দশমিক ৯৭ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে, যা ২০০৯ সালের দশমিক ২৬ ট্রিলিয়ন এবং ২০১০ সালের দশমিক ট্রিলিয়ন ডলারের চেয়ে বেশি।

গত সোমবার এআরএম হোল্ডিংস অধিগ্রহণের ঘোষণা দিয়েছে এনভিডিয়া করপোরেশন। এআরএম অধিগ্রহণের জন্য এআরএমের প্যারেন্ট কোম্পানি জাপানভিত্তিক সফটব্যাংক গ্রুপ করপোরেশনকে হাজার কোটি ডলার (৪০ বিলিয়ন) পরিশোধ করবে এনভিডিয়া। বৈশ্বিক চিপ ইন্ডাস্ট্রিতে অধিগ্রহণ একটি জায়ান্ট কোম্পানি সৃষ্টি করবে বলে মনে করা হচ্ছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, এনভিডিয়া অধিগ্রহণের মূল্য নগদ অর্থ এবং শেয়ারের মাধ্যমে পরিশোধ করবে। আগামী সপ্তাহের শুরুর দিকে অধিগ্রহণ সংক্রান্ত একটি চুক্তি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এনভিডিয়া নিজেদের গ্রাফিকস চিপের জন্য বিশ্বজুড়ে ব্যাপকভাবে পরিচিত। বিভিন্ন ডিভাইসের মাধ্যমে ভিডিও গেম খেলার সুযোগ দিয়ে থাকে প্রতিষ্ঠানটির গ্রাফিকস চিপ। শুধু গ্রাফিকস চিপ নয়; আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স, স্বয়ংক্রিয় গাড়ি এবং ডাটা সেন্টারের জন্য চিপ তৈরি করে থাকে প্রতিষ্ঠানটি। এআরএম হোল্ডিংসকে অধিগ্রহণের উদ্যোগ প্রতিষ্ঠানটির চিপ ডিজাইন খাতে ব্যবসা সম্প্রসারণের পরিকল্পনার বহিঃপ্রকাশ বলে মনে করা হচ্ছে।

অন্যদিকে এআরএম হোল্ডিংস ফোন এবং ট্যাবলেট ডিভাইসের জন্য চিপ প্রযুক্তি সরবরাহ করে আসছে। পাশাপাশি অত্যাধুনিক সব গাড়ি, ডাটা সেন্টার এবং অন্যান্য ডিভাইসের জন্য প্রসেসর সরবরাহের কার্যক্রম জোরদার করেছে। এআরএম নিজে কোনো চিপ তৈরি করে না। বরং সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তি ডিজাইন সরবরাহ করে অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোকে চিপ তৈরিতে সহায়তা দিয়ে আসছে। এজন্য অবশ্য প্রতিষ্ঠানটিকে লাইসেন্স ফি পরিশোধ করতে হয়। বেশ আগে থেকেই এনভিডিয়ার সঙ্গেও ব্যবসা কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে প্রতিষ্ঠান। গত বছর এক ঘোষণায় এনভিডিয়া জানিয়েছিল, তারা সুপার কম্পিউটার তৈরির জন্য চিপ উন্নয়ন করছে, যা এআরএমের প্রসেসরের সঙ্গে কাজ করবে। সুপার কম্পিউটার জলবায়ু পরিবর্তন এবং পারমাণবিক অস্ত্র মডেলিংয়ে কাজ করবে বলে জানানো হয়।

২০১৬ সালে এআরএম হোল্ডিংসকে অধিগ্রহণ করেছিল সফটব্যাংক গ্রুপ করপোরেশন। অধিগ্রহণের জন্য প্রতিষ্ঠানটি তখন হাজার ২০০ কোটি ডলার পরিশোধ করেছিল, যা সফটব্যাংক গ্রুপ করপোরেশনের সবচেয়ে বড় অংকের বিনিয়োগ ছিল তখন। চিপ ডিজাইন প্রতিষ্ঠান হিসেবে এআরএমের সুনাম রয়েছে। সনি, অ্যাপল, স্যামসাং এবং হুয়াওয়েসহ বিশ্বের প্রায় ৯৫ শতাংশ স্মার্টফোনে ব্যবহার হচ্ছে এআরএমের ডিজাইন করা চিপ।

এআরএম হোল্ডিংসের নিয়ন্ত্রণ সফটব্যাংকের কাছে গেলেও চুক্তি অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানটির প্রধান কার্যালয় ক্যামব্রিজ থেকেই পরিচালিত হচ্ছে। ওই সময় ধারণা করা হচ্ছিল সফটব্যাংকের বিনিয়োগ এবং নিয়ন্ত্রণে নতুন গতি পাবে এআরএম। আগামী পাঁচ বছরে প্রতিষ্ঠানে কর্মীর সংখ্যা বেড়ে দ্বিগুণ হবে। কিন্তু বাস্তবে প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হয় প্রতিষ্ঠানটি। এখন বলা হচ্ছে, ব্যবসায় সুবিধা করতে না পেরেই এআরএমের মালিকানা থেকে সরে দাঁড়াচ্ছে সফটব্যাংক।

বৈশ্বিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর একীভূতকরণ এবং অধিগ্রহণ বিষয়ে মরগান স্ট্যানলির ইউরোপিয়ান অঞ্চলের প্রধান ইক্যুইটি বিশেষজ্ঞ গ্রাহাম সেকার বলেন, বৃহৎ প্রযুক্তি জায়ান্টগুলো সাধারণত তুলনামূলক ছোট প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিষ্ঠানগুলোকে অধিগ্রহণের মাধ্যমে ব্যবসায় সাম্রাজ্য বিস্তারের চেষ্টা করে। এটি ব্যবসায় মন্দা থেকে বেরিয়ে আসারও কার্যকর কৌশল হিসেবে বিবেচিত হয়।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন