মঙ্গলবার | অক্টোবর ২০, ২০২০ | ৫ কার্তিক ১৪২৭

খবর

হুমকিতে পাট শিল্প

কাঁচাপাট রফতানি বন্ধ চায় বিজেএমএ-বিজেএসএ

নিজস্ব প্রতিবেদক

খরা বন্যায় দেশের পাটের ব্যাপক ক্ষতি হওয়ায় দেশ থেকে কাঁচাপাট রফতানি বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে শিল্পের দুই সংগঠন বাংলাদেশ জুট মিলস অ্যাসোসিয়েশন (বিজেএমএ) এবং বাংলাদেশ জুট স্পিনার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিজেএসএ) এখনই সরকার বিষয়ে পদক্ষেপ না নিলে শিল্পের অন্তত দুই লাখ মানুষের কর্মসংস্থান হুমকির মুখে পড়বে বলে জানায় তারা।

গতকাল বিকালে রাজধানীর গুলশানে অবস্থিত হোটেল লেকশোরে এক সংবাদ সম্মেলনে সংস্থা দুটি দাবি জানিয়েছে। একই সঙ্গে প্রতি মেট্রিক টন কাঁচাপাট রফতানিতে ২৫০ মার্কিন ডলার রফতানি শুল্ক আরোপের সুপারিশ করেছে তারা।

সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ জুট মিলস অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান পাটোয়ারী বলেন, বর্তমানে আমাদের দেশে কাঁচাপাটের সর্বোচ্চ মূল্য হাজার ৭৫০ টাকার মতো। আমাদের মিল মালিকরা এখন কিনতে বাধ্য হচ্ছেন। যখন আমরা জুট মিলসের মিটিং করছিলাম, তখন এটার মূল্য সর্বোচ্চ ছিল হাজার ৪০০ থেকে হাজার ৫০০ টাকা। কেবল এক সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি মণ পাটের দাম ২৫০-৩৫০ টাকা বেড়ে গেছে। ভরা মৌসুমে কাঁচাপাটের মূল্য হাজার ৭৫০ টাকা হতে পারে, এটা কারো অভিজ্ঞতায় নেই। এতে উৎপাদন শেষে যা মূল্য দাঁড়াবে তাতে বায়াররা কিনতে চাইবে না।

প্রতি বছর দেশে যে পরিমাণ পাট উৎপাদন হয়, বর্তমানে খরা বন্যায় সে উৎপাদন কমে গেছে। ইতোমধ্যে পাটের বাজারে বিরূপ প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। সাধারণত প্রতি বছর কাঁচাপাট উৎপাদন হয় ৭৫ লাখ বেল্ট। বছর তা কমে গিয়ে প্রায় ৫৫ লাখ বেল্টে দাঁড়াবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

পাট শিল্পের বর্তমান অবস্থার কথা তুলে ধরে বাংলাদেশ জুট স্পিনার্স অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান মো. জাহিদ মিয়া বলেন, পাট শিল্পের জন্য কাঁচাপাটের প্রয়োজন হবে প্রায় ৬০ লাখ বেল এবং গৃহস্থালি ব্যবহারের জন্য প্রয়োজন প্রায় পাঁচ লাখ বেল। মোট কাঁচা পাটের প্রয়োজন প্রায় ৬৫ লাখ বেল। তার মানে ১০ লাখ বেল পাট কম রয়েছে। প্রতি বছর কাঁচাপাট রফতানি হয় -১০ লাখ বেল, এখন পরিমাণ কাঁচাপাট রফতানি হলে আমরা ব্যাপক ঘাটতির মুখে পড়ব।

তিনি বলেন, আগে আমাদের নিজেদের চাহিদা পূরণ হোক, তারপর রফতানি হোক।

দেশে বর্তমানে পাটকলের সংখ্যা ২৫৯। বেসরকারি শিল্প খাতে কর্মরত প্রায় দুই লাখ শ্রমিক। আর পরোক্ষভাবে শিল্প চার কোটি লোকের কর্মসংস্থান ব্যবস্থা করছে। বছরে পাটপণ্য রফতানি করে হাজার ২০০ কোটি টাকার সমপরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা আয় হয়। এবং মোট পাটপণ্য উৎপাদন হয় প্রায় দশমিক ৪০ লাখ মেট্রিক টন।

পাটপণ্য তৈরিতে কাঁচামালের কথা তুলে ধরে বিজেএমএর চেয়ারম্যান বলেন, পাটের পণ্য তৈরিতে প্রায় ৭৫ শতাংশ কাঁচাপাট কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহার হয়। এর মূল্য অতিমাত্রায় বৃদ্ধি পেলে পণ্যের উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি পাবে। কাঁচাপাট সরবরাহ ঘাটতির কারণে পাটকল বন্ধ হয়ে গেলে অভ্যন্তরীণ আন্তর্জাতিক পর্যায়ের ক্রেতারা পাটপণ্য ব্যবহার থেকে সরে দাঁড়াবে, তা হবে দেশের পাট শিল্পের জন্য মারাত্মক বিপজ্জনক।

কাঁচা পাটের বর্তমান বাজারের কথা তুলে ধরে বিজেএমএ পরিচালক নাজমুল হক বলেন, ডিমান্ড এবং সাপ্লাইয়ে সংকট দেখা দিলে ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। তিনি বলেন, আমাদের সাপ্লাইয়ের চেয়ে ডিমান্ড বেড়ে গেছে। অবস্থা চলতে থাকলে আগামীতে টাকা দিয়েও পাট পাওয়া যাবে না। পরিস্থিতি এতাটাই খারাপের দিকে যাচ্ছে যে, ছোট ছোট পাট শিল্পের কারখানা কাঁচা পাটের অভাবে বন্ধ হয়ে যেতে পারে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিজেএমএ পরিচালক মনিরুজ্জামান, বিজেএমএ চেয়ারম্যান জাহিদ মিয়া, কাজী এনাম আহমেদ, বিজেএমএ ভাইস চেয়ারম্যান মো. ফারিয়ান ইউসুফ, ক্রিয়েশন প্রাইভেট লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. রশিদুল করিম মুন্না প্রমুখ।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন