বুধবার | অক্টোবর ২১, ২০২০ | ৬ কার্তিক ১৪২৭

করোনা

২২ কোটি ৫০ লাখ ডোজ ভ্যাকসিন নিতে কিউরভ্যাকের সঙ্গে আলোচনায় ইইউ

বণিক বার্তা ডেস্ক

কভিড-১৯ এর সম্ভাব্য ভ্যাকসিনের ২২ কোটি ৫০ লাখ ডোজের চুক্তি নিয়ে প্রথম পর্বের প্রাথমিক আলাপ-আলোচনা সেরে নিল ইউরোপিয়ান কমিশন ও জার্মান বায়োটেক ফার্ম কিউরভ্যাক। ইউরোপের দেশগুলোর জন্য এই ভ্যাকসিন নেয়া হবে। 

ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের নির্বাহী বডি কথা চলছে জনসন অ্যান্ড জনসন ও সানোফির সঙ্গেও, যাদের ভ্যাকসিন উন্নয়নের কাজ চলছে এবং গত সপ্তাহে ৩০ কোটি ডোজের ব্যাপারে অ্যাস্ট্রাজেনেকার সঙ্গে ক্রয়াদেশ চুক্তির আলোচনাও সম্পন্ন করেছে তারা। 

উল্লেখ্য, অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়কে নিয়ে ভ্যাকসিন তৈরির চেষ্টা চলছে অ্যাস্ট্রাজেনেকার। 

ইইউর হেলথ কমিশনার স্টেলা কিরিয়াকিডেস বলেন, ‘করোনাভাইরাসের কার্যকর টিকা পাওয়ার সুযোগ বৃদ্ধির লক্ষ্যে আমরা আজ আলোচনা সম্পন্ন করলাম অ্যাস্ট্রাজেনেকার সঙ্গে।’ 

ইইউ কমিশন প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লেইয়েন বলেন, ‘ফার্মসিউটিক্যালস কোম্পানিগুলোর সাথে প্রতি রাউন্ড আলোচনা সম্পন্ন করার মধ্য দিয়ে আমরা যেন ভাইরাসকে পরাজিত করার দিকেই এগিয়ে চলেছি। আমরা শিগগিরই কিউরভ্যাকের সঙ্গে চুক্তিতে উপনীত হবো।’

এখন চুক্তি নিয়ে কিউরভ্যাকের সঙ্গে দরকষাকষি করবে ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন এবং এটাই হতে পারে ভ্যাকসিন সরবরাহের ক্ষেত্রে তাদের প্রথম চুক্তি। অবশ্য এর আগে তাদের ভ্যাকসিনটি মানবদেহের জন্য নিরাপদ আর ভাইরাসের বিরুদ্ধে কার্যকর প্রমাণিত হতে হবে।

কিউরভ্যাক আজ বৃহস্পতিবার বলেছে, আলোচনায় বাড়তি ১৮০ মিলিয়ন ডোজ সরবরাজের বিষয়টিও ছিল।

কোম্পানিটির শেয়ারের দাম গতকাল প্রিমার্কেট ট্রেডে ৮ শতাংশ বেড়েছে। এছাড়া গত শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের নাসদাক শেয়ারমার্কেটে নাম লেখালে এটির দর ২২২ শতাংশ বৃদ্ধি পায়। কভিড-১৯ ভ্যাকসিন তৈরি করছে এমন কোনো কোম্পানির মধ্যে কিউরভ্যাকই প্রথম শেয়ারমার্কেটে নাম নিবন্ধন করেছে। 

ভ্যাকসিন নিশ্চিত করতে একাধিক কোম্পানির সঙ্গে কথা বলে রেখেছে ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন। গত মাসে তারা রয়টার্সকে জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের ভ্যাকসিন তৈরিকারক বায়োটেক ফার্ম মডার্না এবং জার্মান ফার্ম বায়োএনটেক এর সাথেও তারা কথা বলছে। 

যুক্তরাষ্ট্রের ফিজার কোম্পানির সঙ্গে মিলে ভ্যাকসিন তৈরির চেষ্টা চালাচ্ছে বায়োএনটেক।

কিউরভ্যাক যে ভ্যাকসিন তৈরি করছে তা মূলত জেনেটিক কোড আরএনএ ভিত্তিক এবং এটি মানুষের শরীরে ভেষজ প্রোটিন তৈরি করে থাকে। মডার্না ও বায়োএনটেনও একই প্রযুক্তি ব্যবহার করছে।

কিউরভ্যাক জানিয়েছে, বর্তমান ট্রায়ালের ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে চলতি বছরের শেষ নাগাদ তারা ব্যাপক-ভিত্তিক মানবপরীক্ষায় যাবে। 

দ্য ইউরোপিয়ান কমিশন জানায়, ভ্যাকসিন কেনার অর্থ আসবে ইইউর জরুরি তহবিল থেকে। কর্মকর্তারা রয়টার্সকে জানান, ভ্যাকসিনের অগ্রিম চুক্তিতে প্রায় ২০০ কোটি ইউরো লাগতে পারে। যে ভ্যাকসিন সফল প্রমাণিত হবে তা সবার আগে পেতে প্রস্তুতকারকদের আগেভাগে কিছু অর্থ অগ্রিম হিসেবে প্রদানের কথাও হয়েছে আলোচনায়। প্রকৃতপক্ষে কত ডোজ ভ্যাকসিন কেনা হবে তা পরবর্তীতে ইইউ সদস্য দেশগুলোর সাথে আলোচনা করা চাহিদার ভিত্তিতে বলা হবে। 

সূত্র: রয়টার্স 

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন