শনিবার | সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২০ | ১১ আশ্বিন ১৪২৭

শিল্প বাণিজ্য

২০১৯-২০ অর্থবছর

হিলি স্থলবন্দর দিয়ে ভারতে রফতানি বেড়েছে প্রায় দ্বিগুণ

বণিক বার্তা প্রতিনিধি হিলি

দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দর দিয়ে ভারতে পণ্য রফতানি প্রায় দ্বিগুণ বেড়েছে। ২০১৯-২০ অর্থবছরে ১৮৫টি বি/-এর মাধ্যমে ২০ হাজার ২৪৬ টন পণ্য রফতানি হয়েছে, যা থেকে আয় হয়েছে কোটি ৬০ লাখ মার্কিন ডলার। যেখানে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে বন্দর দিয়ে ৯৫টি বি/-এর মাধ্যমে ১০ হাজার ৩৯৪ টন রাইস ব্র্যান অয়েল রফতানি করে ৮৫ লাখ ডলার আয় হয়েছে।

হিলি স্থল শুল্ক স্টেশন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, হিলি স্থলবন্দর দিয়ে বর্তমানে রাইস ব্র্যান অয়েল, ওয়াটার পাম্প, ঝুট কাপড় ভারতে রফতানি হচ্ছে। যদিও আগে চিঁটাগুড়, প্লাস্টিকের ক্যারেট, সিমেন্ট সুতা রফতানি হতো। তবে ব্যাপক সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও পণ্য রফতানি বাণিজ্যের পরিমাণ বাড়ছে না। রফতানিকারক বন্দর কাস্টমস কর্তৃপক্ষ মনে করছে, অবকাঠামোগত সমস্যা জটিলতা নিরসন করা হলে বন্দর দিয়ে পণ্য রফতানির পরিমাণ যেমন বাড়বে, তেমনি বৈদেশিক মুদ্রায় আয়ও বাড়বে।

বন্দর দিয়ে দিন দিন আমদানি বাড়লেও, ব্যাপক পণ্য রফতানির সম্ভাবনা থাকলেও তা সম্ভব হচ্ছে না বলে মনে করেন হিলি স্থলবন্দর আমদানি-রফতানিকারক গ্রুপের সভাপতি হারুন উর রশীদ হারুন। তিনি বলেন, দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বন্দর হিলি স্থলবন্দর। কিন্তু ভারতের হিলি কাস্টমস সুপারের ওপরে কোনো ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ নেই। নেই উদ্ভিদ সঙ্গনিরোধ অফিসও। এছাড়া কোনো শেড নেই, রাস্তাঘাটগুলোও অপ্রশস্ত। এজন্য ভারতে ব্যাপক চাহিদা থাকলেও আমরা পণ্য রফতানি করতে পারছি না। এছাড়া বন্দরসহ অবকাঠামোগত সুবিধা না থাকার কারণে আমাদের রফতানীকৃত পণ্যবাহী ট্রাকগুলো ভারতে গিয়ে সময়মতো খালাস করা যায় না। ফলে সময়মতো পণ্য ডেলিভারি করা যায় না।

তিনি আরো বলেন, আগে বন্দর দিয়ে বেশকিছু পণ্য রফতানি হলেও বর্তমানে রফতানীকৃত পণ্যের পরিমাণ হ্রাস পেয়েছে। বন্দর দিয়ে বিভিন্ন ধরনের কাঁচা পণ্য বিশেষ করে কাঁচামরিচ, আলু, বেগুন, কলা, সজনেসহ বিভিন্ন মৌসুমি সবজি, তাঁতের শাড়ি, সিমেন্ট, রড ইত্যাদি পণ্য ভারতে রফতানির ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। বিষয়গুলো আমরা বিভিন্ন দপ্তরকে অবগত করেছি। সমস্যাগুলো যদি ত্বরিত সমাধান করা হয়, তাহলে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে ব্যাপক পরিমাণে বিভিন্ন পণ্য ভারতে রফতানি করা সম্ভব হবে।

বাংলাহিলি কাস্টমস সিঅ্যান্ডএফ অ্যাজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান লিটন বলেন, দেশে চাহিদা থাকায় আমরা হিলি স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে কাঁচামরিচ আমদানি করি ১০০ টাকা দরে। অন্যদিকে আমাদের দেশে যখন পর্যাপ্ত কাঁচামরিচের উৎপাদন হয়, সে সময় কাঁচামরিচ থেকে ১০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়। সে সময় কিন্তু আমরা কাঁচামরিচ ভারতে রফতানি করতে পারি না। এছাড়া জয়পুরহাট, বগুড়া, মোকামতলায় প্রচুর পরিমাণে কলা সজনের উৎপাদন হয়, যেগুলো আমরা ভারতে রফতানি করতে পারি। এগুলোর ব্যাপক চাহিদাও রয়েছে ভারতে। কিন্তু তাদের অভ্যন্তরে কিছু সমস্যার কারণে এসব পণ্য রফতানি করা সম্ভব হয় না।

হিলি স্থল শুল্কস্টেশনের সহকারী কমিশনার আব্দুল হান্নান বলেন, হিলি স্থলবন্দর দিয়ে আমদানির পাশাপাশি বেশকিছু পণ্য ভারতে রফতানি হয়। বন্দর দিয়ে শুধু রাইস ব্র্যান ক্রুড অয়েল, ওয়াটার পাম্প, ঝুট কাপড় ভারতে রফতানি হচ্ছে। বেশির ভাগই রাইস ব্র্যান ক্রুড অয়েল রফতানি হয়। চলতি অর্থবছরের শুরু থেকেই পণ্যের রফতানি সন্তোষজনক হারে বাড়ছে। এভাবে রফতানি হলে গত অর্থবছরের তুলনায় অধিক পণ্য রফতানি করা সম্ভব হবে।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন