শনিবার | সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২০ | ৪ আশ্বিন ১৪২৭

টেলিকম ও প্রযুক্তি

এপ্রিল-জুন প্রান্তিক

ফক্সকনের নিট মুনাফা বেড়েছে ৩৪%

বণিক বার্তা ডেস্ক

চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে (এপ্রিল-জুন) চুক্তিভিত্তিক পণ্য নির্মাতা ফক্সকনের নিট মুনাফা হাজার ২৯০ কোটি তাইওয়ানিজ ডলারে পৌঁছেছে, যা গত বছরের একই প্রান্তিকের তুলনায় ৩৪ শতাংশ বেশি। এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে প্রতিষ্ঠানটি মুনাফা আয়ে প্রত্যাশা ছাড়িয়েছে। বিশ্লেষকদের পূর্বাভাসে গত প্রান্তিকে এর নিট মুনাফা হাজার ৭৯৫ কোটি তাইওয়ানিজ ডলারে দাঁড়ানোর কথা বলা হয়েছিল। খবর রয়টার্স।

বিশ্বের সবচেয়ে বড় চুক্তিভিত্তিক ইলেকট্রনিকস পণ্য নির্মাতা ফক্সকন। তাইওয়ানভিত্তিক প্রতিষ্ঠান চীনে স্থাপিত কারখানায় অ্যাপলের আইফোন উৎপাদনের কাজ করে আসছে। কভিড-১৯ বৈশ্বিক মহামারীর কারণে বিভিন্ন খাতের প্রতিষ্ঠানের মতো চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ) ফক্সকনের মুনাফাতেও নেতিবাচক প্রভাব পড়েছিল। তবে দ্বিতীয় প্রান্তিকে সে ক্ষতি অনেকটাই কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

এপ্রিল-জুন প্রান্তিকের আর্থিক খতিয়ান প্রকাশের পর ফক্সকনের বিবৃতিতে বলা হয়, নভেল করোনাভাইরাসের কারণে সৃষ্ট বৈশ্বিক মহামারীর মধ্যে তথ্যপ্রযুক্তি পণ্যের ব্যবহার বেড়েছে। অনেক প্রতিষ্ঠান কর্মীদের বাসায় থেকে কাজের সুবিধা চালু করেছে। পরিস্থিতিতে কম্পিউটিং পণ্যের চাহিদা বেড়েছে। এপ্রিল-জুন প্রান্তিকের নিট আয় প্রবৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে সার্ভার কম্পিউটিং ব্যবসা বিভাগ। অথচ প্রতিষ্ঠানটির প্রধান ব্যবসা হলো কনজিউমার পণ্য। বিশেষ করে আইফোনসহ অন্যান্য স্মার্টফোন উৎপাদন থেকে ফক্সকনের সিংহভাগ রাজস্ব আসে। এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে ফক্সকনের স্মার্টফোন উৎপাদন ব্যবসা বিভাগের রাজস্ব কমেছে ১৫ শতাংশের বেশি।

চীনের হুবেই প্রদেশের রাজধানী উহান নভেল করোনাভাইরাসের উত্পত্তিস্থল। গত ডিসেম্বরের শেষ দিকে উহানে প্রথম নভেল করোনাভাইরাসে সংক্রমিত হয়ে সৃষ্ট রোগ কভিড-১৯ আক্রান্ত শনাক্ত হয়। এরপর উহান লকডাউন ঘোষণা করে চীন। ভাইরাসটি দ্রুত চীনের অন্যান্য প্রদেশেও ছড়িয়ে পড়েছিল। বাধ্য হয়ে কর্মীদের স্বাস্থ্য নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে আরো অনেক প্রতিষ্ঠানের মতো স্মার্টফোন উৎপাদন কারখানা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছিল ফক্সকন।

বিবৃতিতে ফক্সকন জানায়, নভেল করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে অন্যান্য শিল্পের মতো স্মার্টফোন উৎপাদন শিল্পেরও কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে। শুরুতে আমরা চীনে স্মার্টফোন উৎপাদন কারখানাগুলোর কর্মীদের অনির্দিষ্টকালের ছুটিতে পাঠাতে বাধ্য হয়েছি। এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে জানুয়ারি-মার্চ প্রান্তিকের আর্থিক খতিয়ানে। পরিস্থিতি এখন অনেকটা স্বাভাবিক হয়ে উঠেছে। অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে ভাইরাসের ঝুঁকি নিয়ে মানুষ কর্মস্থলে যোগ দিচ্ছে, যা এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে আমাদের মুনাফা প্রবৃদ্ধিতে ইতিবাচক ভূমিকা রেখেছে।

অ্যাপলের প্রধান চুক্তিভিত্তিক পণ্য সরবরাহকারী ফক্সকনের সিংহভাগ উৎপাদন কারখানা চীনে অবস্থিত। এর সরবরাহকারীদেরও বেশির ভাগই চীনে অবস্থিত। নভেল করোনাভাইরাসের ভয়াবহতা চীনের বাইরেও ছড়িয়ে পড়লে চলতি বছরের শুরুতেই প্রথম প্রান্তিকের রাজস্ব ১৫ শতাংশ হ্রাসের পূর্বাভাস দিয়েছিল প্রতিষ্ঠানটি। যদিও প্রথম প্রান্তিকে প্রতিষ্ঠানটির রাজস্ব পূর্বাভাসের চেয়ে বেশি কমেছে, যা ছিল গত সাত বছরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি। অবশ্য দ্বিতীয় প্রান্তিকে আর্থিক খতিয়ানে পূর্বাভাসের চেয়ে বেশি মুনাফা করতে সক্ষম হয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

আইফোন নির্মাতা অ্যাপল ফক্সকনের প্রধান গ্রাহক। চীনে নভেল করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ায় আইফোন উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার বিষয়ে আগেই সতর্ক করেছিল মার্কিন প্রতিষ্ঠানটি। চলতি বছরের জানুয়ারি-মার্চ প্রান্তিকে হাজার ৭০০ কোটি ডলার রাজস্ব আয়ের যে পূর্বাভাস প্রতিষ্ঠানটি দিয়েছিল, তা পূরণ সম্ভব হয়নি। কারণ আইফোন উৎপাদনের জন্য তারা এখনো শতভাগ ফক্সকনের ওপর নির্ভরশীল।

চীনভিত্তিক ডিভাইস ব্র্যান্ডগুলোর পাশাপাশি নভেল করোনাভাইরাসের প্রভাব অ্যাপলের আইফোন ব্যবসা বিভাগের ওপরও পড়ছে। বিনিয়োগকারীদের সতর্ক করে অ্যাপলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নভেল করোনাভাইরাসের কারণে চীনে আইফোনের উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় তাদের আগাম পূর্বাভাসের তুলনায় রাজস্ব আয় অনেকাংশে কম হবে। এপ্রিল-জুন প্রান্তিকের আর্থিক খতিয়ান এখনো প্রকাশ করেনি অ্যাপল।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, অ্যাপল প্রথম কোনো প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান, যা চীনে নভেল করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ায় আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ার বিষয় স্বীকার করে নেয়। দেশটিতে নভেল করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে আইফোন উৎপাদনে বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে। অ্যাপল চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে কোটি ১০ লাখ ইউনিট আইফোন উৎপাদনের যে লক্ষ্য নির্ধারণ করেছিল, তা পূরণ সম্ভব হয়নি। কারণ ফক্সকনের কারখানায় টানা কয়েক সপ্তাহ আইফোন উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ ছিল। উৎপাদন বিভ্রাটের কারণে সরবরাহ বিক্রিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। চাহিদা কম থাকায় দ্বিতীয় প্রান্তিকে আইফোন উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা কমিয়েছিল অ্যাপল।

ফক্সকনের দাবি, শিগগিরই বাজারে আসছে অ্যাপলের নতুন আইফোন, যা প্রতিষ্ঠান তৃতীয় প্রান্তিকের আয় বাড়াতে ভূমিকা রাখবে। নভেল করোনাভাইরাসের কারণে চলতি বছর নির্ধারিত সময়ের কিছুটা পর আইফোনের নতুন সংস্করণ উন্মোচন করা হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন