মঙ্গলবার | সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২০ | ১৪ আশ্বিন ১৪২৭

শেয়ারবাজার

পুঁজিবাজারে চারদিনে মূলধন বেড়েছে ২১ হাজার কোটি টাকারও বেশি

নিজস্ব প্রতিবেদক

টানা তিন সপ্তাহ ধরে ইতিবাচক প্রবণতা পরিলক্ষিত হচ্ছে দেশের পুঁজিবাজারে। সূচক ও লেনদেনের উর্ধমূখীতায় প্রাণ ফিরে আসছে বাজারে। গেল সপ্তাহে দেশের দুই পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্রগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সূচক ও লেনদেন বেড়েছে। অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ার দর বাড়ায় গেল সপ্তাহে ডিএসইর বাজার মূলধন বেড়েছে ২১ হাজার ৪০১ কোটি টাকা।

বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, গেল সপ্তাহের ৪ কার্যদিবসে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স বেড়েছে ৩৩৮ পয়েন্ট বা ৭ দশমিক ৭৫ শতাংশ। বৃহস্পতিবার লেনদেন শেষে ৪ হাজার ৭০৩ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে ডিএসইএক্স, আগের সপ্তাহ শেষে যা ছিল ৪ হাজার ৩৬৫ পয়েন্টে।

ডিএসইএক্সের পাশাপাশি গত সপ্তাহে ১১৮ পয়েন্ট বেড়েছে ব্লু চিপ সূচক ডিএস-৩০। ৮ শতাংশ বেড়ে সপ্তাহ শেষে ১ হাজার ৫৯৪ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে সূচকটি, আগের সপ্তাহ শেষে যা ছিল ১ হাজার ৪৭৬ পয়েন্ট। অন্যদিকে চার কার্যদিবসে ৭৭ পয়েন্ট বেড়েছে শরিয়াহ সূচক ডিএসইএস। বৃহস্পতিবার ১ হাজার ৮৮ পয়েন্টে অবস্থান করছে সূচকটি, আগের সপ্তাহ শেষে যা ছিল ১ হাজার ১১ পয়েন্টে।

গেল সপ্তাহে ডিএসইতে দৈনিক গড় লেনদেন আগের সপ্তাহের তুলনায় ৫৫ শতাংশ বেড়েছে। গত সপ্তাহে স্টক এক্সচেঞ্জটিতে প্রতি কার্যদিবসে গড়ে ১ হাজার ১২৬ কোটি ২২ লাখ টাকার সিকিউরিটিজ হাতবদল হয়, আগের সপ্তাহে যা ছিল ৭২৫ কোটি ৯৭ লাখ টাকা। 

ডিএসইতে গত সপ্তাহে বেশির ভাগ শেয়ারের দর বেড়েছে। লেনদেন হওয়া ৩৬১টি কোম্পানি, মিউচুয়াল ফান্ড ও করপোরেট বন্ডের মধ্যে সপ্তাহ শেষে দর বেড়েছে ২৮২টির, কমেছে ৫৯টির আর অপরিবর্তিত ছিল ১৮টির বাজার দর।

খাতভিত্তিক লেনদেনচিত্রে দেখা যায়, গত সপ্তাহে ডিএসইর লেনদেনের ১৭ শতাংশ দখলে নিয়ে শীর্ষে ছিল ওষুধ খাত। মোট লেনদেনের ১২ শতাংশ দখলে নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে ছিল প্রকৌশল ও ব্যাংক খাত। এছাড়া ১১ শতাংশ দখলে নিয়ে সাধারণ বীমা খাত তৃতীয়, ৭ শতাংশ নিয়ে বস্ত্র এবং জ্বালানি ও বিদ্যুত খাত চতুর্থ আর ৬ শতাংশ দখলে নিয়ে খাদ্য ও আনুষাঙ্গিক খাত পঞ্চম অবস্থানে ছিল।

গত সপ্তাহে ডিএসইতে লেনদেনের ভিত্তিতে শীর্ষ ১০ সিকিউরিটিজ ছিল যথাক্রমে বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস, স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস, বেক্সিমকো লিমিটেড, ব্র্যাক ব্যাংক, ব্রিটিশ অ্যামেরিকান টোব্যাকো বাংলাদেশ কোম্পানি লিমিটেড (বিএটিবিসি), গ্রামীণফোন, নাহী অ্যালুমিনিয়াম, বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবল, এসকে ট্রিমস, ও ফু-ওয়াং ফুড লিমিটেড। 

সমাপনী দরের ভিত্তিতে ডিএসইতে গেল সপ্তাহে দরবৃদ্ধির শীর্ষ কোম্পানিগুলো ছিল, স্টাইলক্রাফট, ইসলামী ব্যাংক, বেক্সিমকো লিমিটেড, নর্দান জুট, নিটল ইন্সুরেন্স, রূপালী ব্যাংক, সিটি ব্যাংক, লংকাবাংলা ফাইনান্স, দেশ গার্মেন্টস ও বে লিজিং অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড।

এদিকে গেল সপ্তাহে ডিএসইতে দর কমার দিক দিয়ে শীর্ষ কোম্পানির তালিকায় ছিল সিএপিএম আইবিবিএল ইসলামিক মিউজচুয়াল ফান্ড, আর্গন ডেনিমস, ইমাম বাটন, আইপিডিসি ফাইনান্স, পদ্মা ইসলামী লাইফ ইন্সুরেন্স, পপুলার লাইফ ইন্সুরেন্স, মেঘনা কনডেন্সড মিল্ক, কাশেম ইন্ডাস্ট্রিজ, গ্লোবাল হেভি কেমিক্যালস ও রূপালী ইন্সুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড।

দেশের আরেক পুঁজিবাজার সিএসইতে গেল সপ্তাহে সিএসসিএক্স সূচক ৭ দশমিক ৪৫ শতাংশ বেড়ে ৮ হাজার ৭৩ পয়েন্টে অবস্থান করছে, আগের সপ্তাহে যা ছিল ৭ হাজার ৫১৩ পয়েন্ট। নির্বাচিত ৩০ কোম্পানির সূচক সিএসই ৩০ ইনডেক্স ৬ দশমিক ৩৮ শতাংশ বেড়ে ১১ হাজার ৪৮৩ পয়েন্টে অবস্থান করছে, আগের সপ্তাহে যা ছিল ১০ হাজার ৭৯৫ পয়েন্টে।

সিএসইতে চার কার্যদিবসের লেনদেনে মোট ১৫৬ কোটি ৮২ লাখ টাকার সিকিউরিটিজ হাতবদল হয়েছে, আগের সপ্তাহে যা ছিল ৯৭ কোটি ২৭ লাখ টাকা। লেনদেন হওয়া ৩১৪টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ২২৬টির, কমেছে ৫৬টির আর অপরিবর্তিত ছিল ৩২টির বাজার দর।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন