সোমবার | সেপ্টেম্বর ২১, ২০২০ | ৫ আশ্বিন ১৪২৭

খবর

আ.লীগের আলোচনা সভায় বক্তারা

পরাশক্তির চক্রান্তে বেঈমানরা বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করেছিলো

নিজস্ব প্রতিবেদক

মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশকে সহায়তা করেছিল তৎকালীন পরাশক্তি সোভিয়েত ইউনিয়ন। আর পাকিস্তানকে সহায়তা করেছিল আরেক পরাশক্তি যুক্তরাষ্ট্র। বাংলাদেশের বিজয়ের মাধ্যমে তাদের পরাজয় হয়েছিল। পরাজিত সেই শক্তি কখনই বাংলাদেশের বিজয় মেনে নিতে পারেনি। তারা বাংলাদেশের বিরুদ্ধে নানা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিল। তাদের চক্রান্তে দেশের বেঈমান মীর জাফররা ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির জনক বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করেছিল।

গতকাল আওয়ামী লীগের বন পরিবেশ উপকমিটির উদ্যোগে ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে আয়োজিত ১৫ই আগস্টের নির্মম হত্যাকাণ্ড: নেপথ্যের ষড়যন্ত্রকারীদের বিরুদ্ধে আমাদের করণীয় শীর্ষক আলোচনা সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। আওয়ামী লীগের বন পরিবেশ উপকমিটির চেয়ারম্যান অধ্যাপক খন্দকার বজলুল হকের সভাপতিত্বে এবং বন পরিবেশ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেনের সঞ্চালনায় ভার্চুয়ালি আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

আলোচনায় অংশ নিয়ে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ বলেন, স্বাধীন রাষ্ট্র গঠনের সাড়ে তিন বছরের মাথায় বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করা হলো। ওই সময়ে গ্লোবাল রাজনীতি যদি দেখা যায়, তখন বিশ্ব রাজনীতিতে দুটি ধারা ছিল। একটি ধারা ছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে, আরেকটি ছিল সোভিয়েত ইউনিয়েনের নেতৃত্বে। আমাদের পার্শ্ববর্তী রাষ্ট্র ভারত সেই সময় সোভিয়েত ব্লকে, পক্ষান্তরে পাকিস্তান ছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে। ফলে গ্লোবাল পলিটিকস চলে আসে আমাদের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময়। বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতা ঘোষণা দেয়ার পর যুদ্ধের সময় পাকিস্তানকে সমর্থন করে মার্কিন তাদের মিত্ররা। পক্ষান্তরে ভারত সোভিয়েত ইউনিয়ন আমাদের সহায়তা করেছে। তাদের সহায়তায় নয় মাস যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছি।

তিনি বলেন, আমাদের স্বাধীনতার মধ্য দিয়ে একদিকে একাটি জাতির সৃষ্টি হলো, একটি দেশ হলো। আরেক দিকে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে একটা জয়-পরাজয় হলো। যারা আমাদের পক্ষে ছিল তারা বিজয়ী হল, আর বিপক্ষের শক্তি পরাজিত হলো। পরাজয় আন্তর্জাতিক মহল মেনে নিতে পারেনি, যার কারণে শুরু থেকে পাকিস্তান তাদের পশ্চিমা পরাশক্তি প্রভুতারা আমাদের বিজয়কে মেনে নিতে পারেনি। তাই তাদের চক্রান্তই ছিল বঙ্গবন্ধুর সরকারকে কীভাবে উত্খাত করা যায়। কীভাবে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করা যায়। ১৯৭২ সালে সরকার গঠনের পর তারা নানাভাবে চেষ্টা করেছিল সরকারকে অস্থিতিশীল করার জন্য। নানা ধরনের সন্ত্রাসী, উসকানি কর্মকাণ্ড, হাটবাজারে আগুন দেয়া, পাটের গুদামে আগুন দেয়াসহ নানা অস্থিতিশীল কর্মকাণ্ডে পট রচনা করেছিল বঙ্গবন্ধুকে উত্খাত করা জন্য। আর তারা ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট সফল হয়েছিল। তারা বঙ্গবন্ধুর সরকারকে শুধু উত্খাতই নয়, তার মতো একজন মহামানবকে নির্মমভাবে হত্যা করেছিল।

হানিফ বলেন, বঙ্গবন্ধু বাঙালিদের প্রচণ্ড বিশ্বাস করতেন। তিনি ভাবতে পারেননি কোনো বাঙালি কোনোদিন তাকে হত্যা করতে পারে বা তার বিরুদ্ধে যেতে পারে। দুর্ভাগ্য, আমাদের আন্তর্জাতিক চক্রান্তকারীরা সফল হয়েছিল আমাদের দেশের বেঈমান মীর জাফরদের মাধ্যমে।

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, স্বাধীনতার পর বাংলাদেশে ভারতজুজুর ভীতি দেখিয়ে একটি রাজনীতি শুরু হয়। সংকটটা ছিল প্রকট এবং বিরাট। এর নেপথ্যের নায়ক হিসেবে জিয়াউর রহমান ষড়যন্ত্রটা পাকাপোক্ত করেন। সে সময় মুক্তিযুদ্ধের শক্তির ভেতরেও ছিল একটি বিভেদ। জাতির পিতাকে হত্যায় সেটাকেও কাজে লাগানো হয়েছে। ১৫ আগস্ট হত্যাকাণ্ডের পর তাদের মুখোশ উন্মোচিত হয়। এটা পাকিস্তান বানানোর একটি ষড়যন্ত্র। সেই থেকে দীর্ঘ ২১ বছর ষড়যন্ত্র চলেছে।

আলোচনায় আরো অংশ নেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপ-উপাচার্য অধ্যাপক নাসরিন আহমেদ, সুপ্রিম কোর্টের সাবেক বিচারপতি এএইচএম শামসুদ্দীন চৌধুরী মানিক, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক হারুন-অর-রশিদ, লেখক সাংবাদিক আবেদ খান, ভাষাতাত্ত্বিক শিক্ষাবিদ পবিত্র সরকার প্রমুখ।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন