শনিবার | সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২০ | ৪ আশ্বিন ১৪২৭

করোনা

সময় এসেছে স্থায়ীভাবে হ্যান্ডশেক পরিহার করার

বণিক বার্তা ডেস্ক

ডোনাল্ড ট্রাম্পও কখনো কখনো সঠিক কথা বলেন। যেমনটা বলেছিলেন ১৯৯৭ সালে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সে বছর তার একটি বইয়ে হ্যান্ডশেকের বিরুদ্ধে কথা বলেছিলেন। একই সঙ্গে তিনি জাপানিদের মতো একে অন্যকে স্পর্শ না করে শরীরের ওপরের অংশ ঝুঁকিয়ে অভিবাদন রীতি গড়ে তোলার আশাবাদ ব্যক্ত করেছিলেন।

দ্য আর্ট অব দ্য কামব্যাক বইয়ে ট্রাম্প এবং সহলেখক কেট বোহনার লিখেছিলেন, জাপানিদের রীতিটা খুব ভালো। তারা একে অন্যের কাছ থেকে একটু দূরে দাঁড়ায় এবং অন্যকে অভিবাদন জানাতে হালকা করে মাথা ঝোঁকায়। আমার আফসোস যদি আমেরিকায়ও আমরা অনুরূপ শুভেচ্ছারীতি গড়ে তুলতে পারতাম। আসলে আমি প্রায়ই হ্যান্ডশেক প্রথাটি বিলুপ্তিকে উৎসাহিত করতে সংবাদপত্রে বিজ্ঞাপন দেয়ার কথা ভেবেছি।

সে সময় ট্রাম্পের আশাবাদটি সবাই হেসে উড়িয়ে দিলেও ২৩ বছর পর করোনাভাইরাস মহামারীর সময় এসে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জনগণকে হ্যান্ডশেক করা থেকে বিরত থাকার অনুরোধ করছেন। হ্যান্ডশেকের মাধ্যমে ভাইরাসটি একে অন্যের মধ্যে ছড়িয়ে যাওয়া ঠেকাতে নাগরিকরাও অস্থায়ীভাবে হ্যান্ডশেক করা থেকে বিরত থাকছেন। তার পরও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দুর্ভাগ্যক্রমে হ্যান্ডশেকের বিরুদ্ধে দৃঢ়ভাবে কথা না বললে এটা আবারো ফিরে আসতে পারে।

ট্রাম্প আরো লিখেছেন, সাম্প্রতিক মেডিকেল প্রতিবেদনগুলো বলছে হ্যান্ডশেকের মাধ্যমে সর্দি এবং অন্যান্য বিভিন্ন অসুস্থতা ছড়িয়ে পড়ছে। আর বিষয়ে আমার কোনো সন্দেহ নেই।

আসলে ১৯৯০ থেকে ১৯৯৭ সালের মধ্যে জার্নাল নিবন্ধগুলোতে হ্যান্ডশেক সংক্রমণ শব্দটি ব্যবহার করে জার্নাল অব ক্লিনিক্যাল মাইক্রোবায়োলজি পোটেনশিয়াল রোল অব হ্যান্ডস ইন দ্য স্প্রেড অব রেসপিরেটরি ভাইরাল ইনফেকশনস: স্টাডিজ উইথ হিউম্যান প্যারাইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাস থ্রি অ্যান্ড রাইনোভাইরাস ফোর্টিন শিরোনামে একটি বিশ্লেষণ প্রকাশিত হয়।

নিঃসন্দেহে ট্রাম্প লেখাটি পড়েছিলেন। এটা ছিল তার লেখার সম্ভাব্য উৎস। কারণ সেই সময়ের বেশির ভাগ অনুসন্ধানের ফলাফলে এইচআইভি প্রোটিন মানব কোষের মধ্যে আণবিক হ্যান্ডশেক নিয়ে কথা বলা হতো। মেডিকেল রেকর্ড জার্নালে প্রকাশিত আরেকটি অনুসন্ধানে চিকিৎসক নাথান ব্রেটার বন্ধুদের মধ্যে স্বয়ংক্রিয়ভাবে হ্যান্ডশেক করা নিয়ে লিখেছিলেন, এর মাধ্যমে তার হাত রুক্ষ তৈলাক্ত হয়ে যেত। এটা ছিল সিফিলিড নামে একটা সমস্যা, যা বন্ধুদের সঙ্গে হাত মেলানোর কারণে তার শরীরে এসেছিল। এরপর নিজস্ব অনুসন্ধান শেষে ব্রেটার হ্যান্ডশেককে ইতিহাসে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ডাস্টবিনে নিক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছিলেন।

তবে দুঃখের বিষয় প্রেসিডেন্ট হিসেবে ট্রাম্পই হ্যান্ডশেককে ঘৃণার পরিবর্তে অস্ত্র প্রয়োগের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা শুরু করেছিলেন। বিশ্বনেতাদের সঙ্গে তাকে বারবার হাতের তালু মেলাতে দেখা গেছে, তিনি তাদের কাছাকাছি অবস্থান করেছেন এবং কিছুক্ষণের জন্য তাদের হাতে নিজেকে জিম্মি রেখেছিলেন।

তবে আমরা হ্যান্ডশেক বাদেও বিভিন্নভাবে শুভেচ্ছা বিনিময় করতে পারি। সায়েন্টিফিক আমেরিকানের কলাম লেখক স্টিভ মিরস্কি যেমনটা বলছেন, হ্যান্ডশেকের পরিবর্তে অন্যভাবে শুভেচ্ছা বিনিময় করতে আমরা বিভিন্ন সংস্কৃতির দিকে তাকাতে পারি। যেমন হিন্দুদের দুই হাতের তালু মিলিয়ে মাথা নিচু করার রীতি, সামরিক সালাম ইত্যাদি। আমি ঐতিহ্যবাহী পশ্চিমা রীতির চেয়ে বিকল্প সব রীতি খুঁজে দেখতে চাই। এখন সময় এসেছে বলার, দেখুন আর হ্যান্ডশেক নয়

সায়েন্টিফিক আমেরিকান

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন