সোমবার | সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২০ | ১৩ আশ্বিন ১৪২৭

দেশের খবর

বগুড়ায় ১২শ কোটি টাকার ভুয়া চেকসহ ‘যুবলীগ নেতা’ গ্রেফতার

বণিক বার্তা প্রতিনিধি, বগুড়া

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভুয়া দুটি প্রতিষ্ঠানের নামে পেজ খুলে ঋণ পাইয়ে দেয়ার নাম করে প্রতারণার অভিযোগে মো. রাব্বী শাকিল (৩২) ওরফে ডিজে শাকিল নামে এক যুবকসহ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে বগুড়া পুলিশ। গ্রেফতারকৃত শাকিল নিজেকে সিরাগঞ্জের তাড়াশ উপজেলা যুবলীগের সহ-সভাপতি বলে দাবি করেছেন। গ্রেফতারের তাদের কাছ থেকে  এক হাজার ২০১ কোটি ৭২ লাখ ১০ হাজার টাকার ভুয়া চেক, সামরিক বাহিনীর ভুয়া নিয়োগপত্র, বিভিন্ন গণমাধ্যমের ভুয়া পরিচয়পত্র ও জালিয়াতির কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জামাদি জব্দ করা হয়েছে।

গতকাল বুধবার বিকেলে ওই তিনজনকে সিরাজগঞ্জের তাড়াশ থেকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে বগুড়া সদর থানায় প্রতারণা ও ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা হয়েছে।

পুলিশ বলছে, গ্রেফতারকৃতরা ফেসবুকে ‘রিশান ইন্টারন্যাশনাল’ ও ‘ইন্টারন্যাশনাল ব্যাংক লোন সার্ভিস’ নামে দুটি পেজ খুলে প্রতারণার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছিলেন। 

গ্রেফতারকৃতদের আজ বৃহস্পতিবার বগুড়ার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঠিয়ে ছয়দিনের রিমান্ড আবেদন করেছেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা।

বগুড়ার গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ওসি আছলাম আলী জানান, ‘ইন্টারন্যাশনাল লোন সার্ভিস’ নামে ফেসবুক পেজে বিজ্ঞাপন দেখে বগুড়ার আমায়রা এগ্রো ফার্মের সত্ত্বাধিকারী আমানত উল্লাহ তারেক ও অভি এগ্রো ফার্মের সত্ত্বাধিকারী আশিক তাদের সাথে যোগাযোগ করেন। কমিশনের মাধ্যমে তাদের পাঁচ কোটি টাকা লোন পাইয়ে দেওয়ার নাম করে কয়েক দফায় ১৪ লাখ ৩৫ হাজার টাকা নেন ডিজে শাকিল। পরে তাদের যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর থেকে ঋণ অনুমোদনের চিঠি এবং সাড়ে চার কোটির দুটি চেকের স্ক্যান কপিও মেইল করে পাঠান তিনি। কিন্তু দীর্ঘ দিনেও চেকের মূল কপি না দেয়ায় তারা খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন ঋণ অনুমোদনের চিঠি এবং চেকগুলো ভুয়া। পরে তারা বিষয়টি বগুড়া জেলা পুলিশকে জানান।

খবর পেয়ে পুলিশ সদস্যরা তাড়াশে অভিযান পরিচালনা করে বলে জানান আছলাম আলী। তিনি বলেন, অভিযান চালিয়ে শাকিলসহ তিনজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এদের মধ্যে তাড়াশ উপজেলা যুবলীগের সহ-সভাপতি এবং উপজেলার বারুহাস পশ্চিমপাড়া গ্রামের গোলাম মোস্তফার পুত্র রাব্বী শাকিল ওরফে ডিজে শাকিল (৩২) একজন। গ্রেফতারকৃত অপর দুজন হলেন- তার সহযোগী আইটি স্পেশালিস্ট কুস্মবী গ্রামের আব্দুল মালেকের পুত্র হুমায়ুন কবির মিলন (২৮) ও ম্যানেজার নওগাঁ জেলার মান্দা উপজেলার গাড়ীক্ষেত্র গ্রামের সাইদুর রহমানের পুত্র হারুনার রশিদ ওরফে সাইফুল ইসলাম (২৬)।

এসময় ভুয়া চেক ছাড়াও সামরিক বাহিনী ও সরকারী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ভূয়া নিয়োগপত্র ও চুক্তিনামা, ৬০ টি সিম কার্ড, তিনটি কম্পিউটার ও বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার ভুয়া পরিচয় পত্রও উদ্ধার করেছে পুলিশ।

বগুড়া পুলিশ সুপার আলী আশরাফ ভূঞা বিপিএম (বার) জানান, যেকোন অপরাধ দমনে জেলা পুলিশ সদা তৎপর রয়েছে। বগুড়ার এক ব্যবসায়ীর মামলায় পুলিশ অভিযান চালিয়ে প্রতারকদের গ্রেফতার করেছে।

তাড়াশের বারুহাস গ্রামের বেশ কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বছর দশেক আগে ঢাকায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান বিশেষ করে ডিজে পার্টি পরিচালনা করতেন এমন ব্যক্তিদের সঙ্গে ঘোরাফেরা করতেন শাকিল। তাদের সহযোগী হিসেবে কাজ করতে করতে শাকিল থেকে ডিজে শাকিল হিসেবে পরিচিতি পান তিনি। এরপর তাড়াশ সদরে বিয়ের পর বদলে যেতে থাকে তার অবস্থান। আগে কখনই দলীয় রাজনীতিতে সম্পৃক্ত না থাকলেও হঠাৎ করেই উপজেলা যুবলীগের সহ-সভাপতির পদ বাগিয়ে নেন তিনি। আর এই পদ ব্যবহার করে নেতাদের সাথে প্রতারক সাহেদের (রিজেন্ট হাসপাতালের এমডি) মতো ঘনিষ্ঠ হতে থাকেন। বিভিন্ন জনের সাথে প্রতারণা করে অর্থ হাতিয়ে নিয়ে তার কিছু অংশ শাকিল দুই একজন নেতাদের কাছে পৌঁছে দিয়ে সব ‘ম্যানেজ করতেন’ বলে এলাকায় আলোচনা রয়েছে। এলাকায় বিভিন্ন স্থানে ‘একাধিক পদ’ ব্যবহার করে পোস্টার সাঁটাতেও দেখা গেছে শাকিলকে। তিনি এসব পোস্টারে যেসব পরিচয় ব্যবহার করে থাকেন তার অধিকাংশই ভুয়া বলেও দাবি স্থানীয়দের।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন