বৃহস্পতিবার | অক্টোবর ০১, ২০২০ | ১৬ আশ্বিন ১৪২৭

আন্তর্জাতিক খবর

৮০ কোটি শিক্ষার্থী স্কুলে হাত ধোয়ারই সুযোগ পায় না

বণিক বার্তা ডেস্ক

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও জাতিসংঘের শিশু তহবিল ইউনিসেফ এক যৌথ প্রতিবেদনে বলছে, বিশ্বে অন্তত ৮০ কোটি শিশুর জন্য স্কুলে হাত ধোয়ার কোনো ব্যবস্থা নেই।

কভিড-১৯ মহামারীর মধ্যেই বিশ্বব্যাপী স্কুল খুলে দেয়ার তোরজোর। অনেক দেশে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে সীমিত আকারে ক্লাস শুরু করে মহড়ার মতো চলছে। এ সময় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও ইউনিসেফ নিজেদের উদ্যোগে স্কুলগুলোর জন্য কিছু স্বাস্থ্যবিধি পালনের সুপারিশ করেছে। নিয়মিত হাত ধোয়া, একজন আরেকজনের চেয়ে নির্দিষ্ট দূরত্ব বজায় রেখে বসা, মাস্ক পরাসহ ইত্যাদি। এসব সুপারিশ করা হয়েছে যাতে ভাইরাসটির বিস্তার রোধ করা যায়। 

প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘৬০টি দেশকে চিহ্নিত করা হয়েছে যেগুলোতে কভিড-১৯ এর কারণে উচ্চ স্বাস্থ্য ঝুঁকি আর মানবিক সংকট তৈরি হতে পারে। মহামারীর শুরুর দিকে দেখা যায়, বিশ্বে দুটি স্কুলের মধ্যে একটিতে পানি ও টয়লেট সুবিধার অভাব আর চারটির মধ্যে তিনটিতেই হাত ধোয়ার সুব্যবস্থা নেই।’

বিশ্বব্যাপী ৮১ কোটি ৮০ লাখ শিশু স্কুলে হাত ধোয়ার মতো মৌলিক পানি পায় না। এর মধ্যে ৩৫ কোটি ৫০ লাখ শিশু যারা মূলত উত্তর আফ্রিকা ও পশ্চিম এশিয়ার- স্কুলে পানি পেলেও সাবান পায় না। বাকি ৪৬ কোটি ২০ লাখ শিশু স্কুলে হাত ধোয়ার কেনো সুযোগই পায় না। 

যত শিশু হাত ধোয়ার সুযোগ পায় না তাদের অর্ধেকেরই বাস আফ্রিকার সাব-সাহারা অঞ্চলে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রায় ৭০ শতাংশ স্কুলেই মৌলিক খাওয়ার পানির ব্যবস্থা রয়েছে, তারপরও বিশ্বব্যাপী স্কুলে মৌলিক খাওয়ার পানি পায় না ৫৮ কোটি ৪০ লাখ শিশু। এসব শিশুর বেশিরভাগই সাব-সাহারা অঞ্চলে এবং মূলত তিনটি দেশে: ইথিওপিয়া, নাইজেরিয়া ও ডেমোক্র্যাটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো। 

প্রায় ৭০ কোটি শিশু স্কুলে মৌলিক স্যানিটেশন থেকে বঞ্চিত এবং ২০ শতাংশ কিংবা ৩৫ কোটিরও বেশি শিশু স্কুলে কোনো ধরনের স্যানিটেশন সেবাই পায় না।  

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাসচিব ড. টেড্রোস আধানোম গেব্রেইসাস বলেন, ‘পর্যাপ্ত পানি, স্যানিটেশন আর স্বাস্থ্যসেবা সংক্রমণ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণের জন্য অত্যন্ত কার্যকর। চলমান কভিড-১৯ মহামারীর সময় নিরাপদে স্কুল খুলে দিতে সরকারগুলোকে কৌশল প্রণয়নে এসব বিষয়ের প্রতি খেয়াল রাখতে হবে।’

২০২০ সালের জুন মাসে ‘হ্যান্ড হাইজিন ফর অল’ কমূর্সচি হাতে নিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও ইউনিসেফ। এটি কভিড-১৯কে সামনে রেখে শিশুসহ সবার জন্যই প্রযোজ্য। 

সূত্র: সিএনএন

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন