বুধবার | সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২০ | ৮ আশ্বিন ১৪২৭

খেলা

নাটকীয় জয়ে সেমিফাইনালে পিএসজি

বণিক বার্তা ডেস্ক

চরম নাটকীয় এক জয়ে ২৫ বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো চ্যাম্পিয়ন্স লিগ সেমিফাইনালে উঠল প্যারিস সেন্ট জার্মেই (পিএসজি)। ৯০ মিনিট পর্যন্ত এগিয়ে থাকা ইতালির দল আটালান্টার খেলোয়াড়রা জয়োৎসব করার প্রস্তুতিই হয়তো নিচ্ছিল। কিন্তু ভাগ্য সুপ্রসন্ন হলো না প্রথমবারের মতো চ্যাম্পিয়ন্স লিগ খেলতে আসা দলটির জন্য। ১৪৯ সেকেন্ডের ব্যবধানে দুটি গোল করে অবিশ্বাস্য এক জয় তুলে নিয়ে শেষ চারের টিকিট পেল পিএসজিই।

লিসবনে বুধবার রাতের স্নায়ুক্ষয়ী লড়াইয়ে মারিও পাসালিচের গোলে ম্যাচের ২৬ মিনিটেই লিড নেয় আটালান্টা। এরপর গোলের জন্য হন্যে হয়ে ওঠা পিএসজি তারকাদের বারবার হতাশ করছিল আটালান্টার ডিফেন্স। ৮৯ মিনিট গড়িয়ে ম্যাচ ৯০ মিনিটে প্রবেশ করায় আরেকবার কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে পিএসজির বিদায়ের শঙ্কা তৈরি হলো। কিন্তু ৯০ মিনিটে মার্কিনোস গোল করে ম্যাচে সমতা নিয়ে আসলেন। যোগ করা সময়ের তৃতীয় মিনিটে উজ্জীবিত পিএসজির জয়সূচক গোলটি করলেন বদলি খেলোয়াড় এরিক ম্যাক্সিম চুপো-মোটিং।

৫০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বড় মঞ্চে আরেকবার ব্যর্থ হয়ে বিদায়ের শঙ্কা জাগে পিএসজির। বিশ্বের সবচেয়ে ব্যয়বহুল খেলোয়াড় নেইমারকে কিনেও সফল হচ্ছিল না প্যারিস জায়ান্টরা। গতকাল তিনি ফিনিশিংয়ে বারবার ব্যর্থ হচ্ছিলেন। দুইবার নিশ্চিত সুযোগ হারিয়ে অপরাধীও হন। ৬০ মিনিটে বদলি হিসেবে নামা কিলিয়ান এমবাপ্পেই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন। তার গতি ও দক্ষতা ব্যবধান গড়ে দেয়। যদিও নেইমারের পাশাপাশি ফরাসি সুপারস্টারও লক্ষ্যভেদ করতে পারছিলেন না। শেষ পর্যন্ত দলের জয়ের অন্যতম কাণ্ডারি হয়ে ওঠেন এ দুজনই। স্বদেশী মার্কিনোসকে দিয়ে গোল করিয়েছেন নেইমার আর চুপো-মোটিংয়ের গোলে পাস দেন এমবাপ্পে। 

সেমিফাইনালে পিএসজির প্রতিপক্ষ কে, তা নির্ধারণ হবে আজ রাতে। দ্বিতীয় কোয়ার্টার ফাইনালে মুখোমুখি হবে স্পেনের অ্যাথলেটিকো মাদ্রিদ ও জার্মানির আরবি লিপজিগ। 

গতকাল জয় শেষে নেইমারের অনুভূতি, ‘আমি কখনই বাড়ি ফেরার কথা ভাবিনি। ওয়ার্ম-আপ থেকে শুরু করে শেষ পর্যন্ত, আমাদের বিশ্বাস ছিল। আমরা কখনই আশা ছাড়িনি। ফাইনালে ওঠার স্বপ্ন আমার কেউই কেড়ে নিতে পারবে না। আমরা একটি গ্রুপ, একটি পরিবার। আমাদের সবার মনের মধ্যে বিষয়টি স্পষ্ট, কাজেই আমাদের বিদায় ঘটানো অসম্ভব।’ 

পিএসজির জার্মান কোচ টমাস টুখেল বলেন, ‘৮৮ মিনিট পর্যন্ত ১-০ থাকার পর আমি তো বিদায়ের কথাই ভাবছিলাম। আমি বাস্তববাদী। কিন্তু আমরা গোল করতে পারব না এমনটাও আমি ভাবিনি। সহকারীদের বলেছি, একটি গোল করতে পারলে আমরাই জিতে যাব।’

আটালান্টা কোচ জিয়ান পিয়েরে গ্যাসপেরেনি এমবাপ্পের মাঠে নামাকেই তাদের হারের পেছনের কারণ হিসেবে দেখছেন। এ কোচ বলেন, ‘আমরা খুব কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিলাম, অনেক কাছে। ভাবছিলাম, জিতলে তা আমাদের বড় অর্জন হবে। এমবাপ্পে ম্যাচে এল, নেইমারকে নিয়ে কম্বিনেশন তৈরি করল ও পিএসজিকে পাল্টে দিল। পিএসজিতে সেই প্রাণ ফিরিয়ে দিল, যারা কিনা ম্যাচটি হারতে বসেছিল। সে ম্যাচে যে প্রাণ নিয়ে এসেছে, সেটাই ব্যবধান গড়ে দিয়েছে।’

সূত্র: বিবিসি

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন