বৃহস্পতিবার | অক্টোবর ০১, ২০২০ | ১৬ আশ্বিন ১৪২৭

শেষ পাতা

‘মুজিব কিল্লা’ নির্মাণ

সাড়ে তিন বছরের প্রকল্পে অগ্রগতিহীন ২ বছর পার

নিজস্ব প্রতিবেদক

ঘূর্ণিঝড় বন্যাপ্রবণ এলাকার মানুষের নিরাপত্তার জন্য স্বাধীনতার পরমুজিব কিল্লানির্মাণ করে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সরকার। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় ওইসব স্থাপনা বর্তমানে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর পরিত্যক্ত মুজিব কিল্লা সংস্কারের পাশাপাশি নতুন করে আরো কিল্লা নির্মাণের উদ্যোগ নেয়। এর অংশ হিসেবে ২০১৮ সালের অক্টোবর একনেকেমুজিব কিল্লা নির্মাণ, সংস্কার উন্নয়ন প্রকল্পটিগ্রহণ করা হয়। প্রকল্পের মেয়াদকাল হচ্ছে জুলাই ২০১৮ থেকে ডিসেম্বর ২০২১।

মেয়াদের অর্ধেকের বেশি সময় পার হলেওমুজিব কিল্লানির্মাণ বা সংস্কারে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই।

মুজিব কিল্লা নির্মাণে এমন ধীরগতিতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ত্রাণ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। গতকাল সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত স্থায়ী কমিটির বৈঠকে বিষয়টি আলোচনা হয়। বৈঠকে প্রকল্প বাস্তবায়নে সমস্যা জানতে একটি উপকমিটিও গঠন করা হয়েছে। ওই উপকমিটি প্রকল্প বাস্তবায়ন না হওয়ার জটিলতা কারণ চিহ্নিত করে প্রতিবেদন দেবে। মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে আহ্বায়ক করে গঠিত উপকমিটির অন্য দুই সদস্য হলেন জুয়েল আরেং মুজিবুর রহমান চৌধুরী (নিক্সন)

সম্পূর্ণ রাজস্ব খাতভুক্ত হাজার ৯৫৭ কোটি ৪৯ লাখ টাকার প্রকল্পের আওতায় ঘূর্ণিঝড়প্রবণ ১৬ জেলার ৬৪ উপজেলা, বন্যা নদীভাঙনপ্রবণ ২২ জেলার ৮৪ উপজেলায় বিদ্যমান ১৭২টি মুজিব কিল্লা সংস্কার উন্নয়নের কথা। এছাড়া ৩৭৮টি নতুন কিল্লাও নির্মাণ করা হবে। কিন্তু সাড়ে তিন বছর মেয়াদি প্রকল্পের দুই বছরের বেশি সময় পার হলেও দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই।

বৈঠক শেষে কমিটির সভাপতি এবি তাজুল ইসলাম জানান, অনেকদিন হলো প্রকল্পটি গ্রহণ করা হয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত আমরা এর দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি দেখতে পাইনি। এটা কেন হয়নি, এর কী জটিলতা, কোথায় কী অনিয়ম রয়েছে তা চিহ্নিত করার জন্য আমরা সাবকমিটি গঠন করেছি। কমিটিকে সার্বিক বিষয়ে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

এদিকে সংসদীয় কমিটির বৈঠকে চলমান বন্যায় সমান হারে বরাদ্দ না দিয়ে বন্যায় ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি নিরূপণ করে চাহিদা অনুযায়ী ত্রাণ সহায়তা দেয়ার সুপারিশ করেছে কমিটি। তাজুল ইসলাম বিষয়ে বলেন, দেখা যাচ্ছে কোনো এলাকার কোথাও বন্যায় ক্ষয়ক্ষতি বেশি আবার কোথাও কম হয়েছে। কিন্তু দুটি এলাকায় একই পরিমাণ বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এতে করে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার মানুষের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হয় না। এজন্য আমরা প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি নিরূপণ করে বরাদ্দ দেয়ার ?সুপারিশ করেছি।

এবি তাজুল ইসলামের সভাপতিত্বে বৈঠকে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী মো. এনামুর রহমান, আফতাব উদ্দিন সরকার, মীর মোস্তাক আহমেদ রবি, জুয়েল আরেং, মজিবুর রহমান চৌধুরী, মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী কাজী কানিজ সুলতানা অংশ নেন।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন