শনিবার | সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২০ | ৪ আশ্বিন ১৪২৭

টেলিকম ও প্রযুক্তি

যুক্তরাষ্ট্রের ভিডিওগেম আর শোবিজে চীনা টেনসেন্টের প্রভাব

বণিক বার্তা অনলাইন

বাণিজ্য বিরোধ থেকে ভূরাজনৈতিক বিরোধে পর্যবসিত চীন-মার্কিন উত্তেজনা এখন চরম পর্যায়ে। এরই মধ্যে টেনেসেন্টের জনপ্রিয় মেসেজিং অ্যাপ উইচ্যাট এবং বাইটড্যান্সের টিকটক যুক্তরাষ্ট্রে নিষিদ্ধ করে নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। 

মূলত চীনকে শায়েস্তা করার জন্য ট্রাম্প এই পদক্ষেপ নিলেও মার্কিন অর্থনীতির একাধিক খাতও এতে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা আছে। কারণ, বিশেষ করে গেম ও শোবিজ মিডিয়াতে এই চীনা জায়ান্টের প্রভাব উল্লেখযোগ্য। বহু ছোটবড় কোম্পানিতে তাদের বিনিয়োগ রয়েছে।

চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে টেনসেন্ট ১৫ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার রাজস্ব আয় করেছে। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এ রাজস্ব ২৬ শতাংশ বেশি। এই করোনা মহামারীর মধ্যেও রাজস্বে এমন উল্লম্ফন সত্যিই অভূতপূর্ব। একই সময়ে মার্কিন সার্চ জায়ান্ট গুগলের পেরেন্ট কোম্পানি অ্যালফাবেট রাজস্ব আয় করেছে ৪১ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার। 

কম্পিউটার গেমিং ইন্ডাস্ট্রিতে টেনসেন্ট অত্যন্ত প্রভাবশালী বিনিয়োগকারী। এ কোম্পানি বর্তমানে এখাতে বিশ্বের বৃহত্তম ভিডিও গেম নির্মাতা। সবচেয়ে জনপ্রিয় ব্যাটল রয়্যাল স্টাইল গেম: ফোর্টনাইট এবং প্লেয়ার আননৌনস ব্যাটলগ্রাউন্ডস বা পাবজির উল্লেখযোগ্য অংশীদারিত্ব আছে এই কোম্পানির।

ফোর্টনাইট স্টুডিও এবং এপিক গেমসের ৪০ শতাংশ অংশীদারিত্ব টেনসেন্টের। পাবজির লাইসেন্স আছে তাদের। যদিও চীনে এই গেম ছাড়ার অনুমতি তারা পায়নি। এছাড়া লিগ অব লিজেন্ডস স্টুডিও এবং রায়ট গেমসের মালিক টেনসেন্ট।

২০১৯ সালের অক্টোবরে পিসি গেমার চীনের বাইরে ১৬টি ভিডিওগেম নির্মাতা কোম্পানির তালিকা প্রকাশ করে, যেখানে টেনসেন্ট বিনিয়োগ করেছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো ইউবিসফট এবং ডিসকর্ড।

পশ্চিমা সঙ্গীত ও সিনেমা শিল্পেও টেনসেন্টের উল্লেখযোগ্য বিনিয়োগ রয়েছে। এরই মধ্যে কোম্পানিটি ইউনিভার্সাল মিউজিকের ১০ শতাংশ শেয়ার কেনার চুক্তি করেছে। এই প্রতিষ্ঠানের শিল্পী তালিকায় রয়েছেন লেডি গাগা, টেলর সুইফট, ড্রেইক এবং কেনড্রিক ল্যামারের মতো সেলিব্রেটি।

এছাড়া টেনসেন্ট নিজের মিউজিক স্টুডিও খুলেছে। টেনসেন্ট মিউজিক এন্টারটেইনমেন্ট (টিএমই) বহু ব্যয়বহুল মিউজিক ভিডিও করেছে। 

২০১৭ সালে এই চীনা কোম্পানি আরেক মার্কিন স্ট্রিমিং জায়ান্ট স্পটিফাইয়ের সঙ্গে অংশদারিত্ব বিনিময় করে। এর ফলে স্পটিফাইয়ের ৭ দশমিক ৫ শতাংশের মালিক বনে যায় টেনসেন্ট আর বিনিময়ে স্পটিফাই টিএমইর ৯ দশমিক ৫ শতাংশের মালিকানা পায়। 

২০১৭ সালে স্ন্যাপচ্যাটের ১২ শতাংশ মালিকানা কিনে নেয় টেনসেন্ট।

টেনসেন্ট পিকাচার্স হলো টেনসেন্টের চলচ্চিত্র প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান। হলিউডের বেশ কয়েকটি ব্লকবাস্টার সিনেমার প্রযোজনা করেছে টেনসেন্ট। এর মধ্যে টার্মিনেটর: ডার্ক ফেস (২০১৯), ওন্ডার উম্যান (২০১৭) এবং মুক্তির অপেক্ষায় থাকা টপ গান সিক্যুয়াল টপ গান: ম্যাভেরিক (২০২১) প্রযোজনা করেছে টেনসেন্ট।

শুধু তাই নয়, মার্কিন বিদ্যুচ্চালিত কার কোম্পানি টেসলার ৫ শতাংশের মালিকও কিন্তু চীনা জায়ান্ট টেনসেন্ট।

বিবিসি ও ভার্জ অবলম্বনে

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন