বুধবার | সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২০ | ১৪ আশ্বিন ১৪২৭

পণ্যবাজার

যশোরাঞ্চলে বছরে ১৯ হাজার বেল তুলা উৎপাদন

বণিক বার্তা প্রতিনিধি যশোর

যশোরাঞ্চলের ছয় জেলার ১২টি উপজেলায় তুলার আবাদ প্রতি বছর বাড়ছে বর্তমানে অঞ্চলে বছরে ১৯ হাজার বেল তুলা উৎপাদন হচ্ছে কয়েক বছর ধরে ধানসহ অন্যান্য ফসলে লাভ না হওয়ায় চাষীরা লাভজনক বিবেচনা করে তুলা আবাদে ঝুঁকছেন তাদের মতে, তুলা দেরিতে ফলন দিলেও লোকসানের আশঙ্কা থাকে না কারণে বৃহত্তর যশোরাঞ্চলে তুলা আবাদ ক্রমেই জনপ্রিয়তা পাচ্ছে

যশোর তুলা উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, ২০১৪-১৫ অর্থবছরে যশোরাঞ্চলে চার হাজার হেক্টর জমিতে তুলা আবাদের লক্ষ্য ধরা হয়েছিল ওই অর্থবছরে পণ্যটির আবাদ হয়েছিল হাজার ৯৬০ হেক্টর জমিতে তুলা উৎপাদন হয়েছিল ১৬ হাজার ২৬৩ বেল পরের অর্থবছরে যশোরে তুলা আবাদের লক্ষ্য ছিল হাজার হেক্টর জমিতে আবাদ হয়েছিল হাজার ৯৬০ হেক্টর জমিতে তুলা উত্পদন হয়েছিল ১৬ হাজার ৭১৪ বেল ২০১৬-১৭ অর্থবছরে তুলা আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল হাজার ৩২০ হেক্টর জমি আবাদ হয়েছিল তিন হাজার হেক্টর জমিতে উৎপাদন হয়েছিল ১৬ হাজার ৬৮৬ বেল তুলা

প্রবৃদ্ধির ধারাবাহিকতায় ২০১৭-১৮ অর্থবছরে যশোরাঞ্চলে তুলা আবাদের লক্ষ্য ছিল হাজার ৪৬৫ হেক্টর জমিতে আবাদ হয়েছিল হাজার ২০০ হেক্টর জমিতে আর তুলা উৎপাদন হয়েছিল ১৮ হাজার ২৬৫ বেল ২০১৮-১৯ অর্থবছরে হাজার ৫০০ হেক্টর লক্ষ্যের বিপরীতে অঞ্চলের হাজার ১০৫ হেক্টর জমিতে তুলা আবাদ হয়েছিল উৎপাদন হয়েছিল ১৮ হাজার ৬৯৮ বেল তুলা সর্বশেষ ২০১৯-২০ অর্থবছরে যশোরাঞ্চলে তুলা আবাদের লক্ষ্য ধরা হয় হাজার ৫০০ হেক্টর জমি আবাদ করা হয় হাজার ১২৫ হেক্টর জমিতে উৎপাদন হয় ১৯ হাজার ২৩০ বেল তুলা এদিকে ২০২০-২১ অর্থবছরে হাজার ২০০ হেক্টর জমিতে তুলা আবাদের লক্ষ্য ধরে বীজ বপন শুরু করেছেন স্থানীয় চাষীরা

যশোরের সুজলপুর গ্রামের তুলাচাষী মোজাফফর হোসেন বার্তার সঙ্গে আলাপকালে বলেন, এবার আমি দুই বিঘা জমিতে তুলা আবাদ করব এরই মধ্যে বীজ বপন শুরু করেছি আশা করছি ফলন ভালো হবে

একইভাবে ঝিনাইদহের বারোবাজার এলাকার চাষী আসাদুল ইসলাম চলতি মৌসুমে তিন বিঘা জমিতে তুলা আবাদের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন গত মৌসুমে তিনি একই পরিমাণ জমিতে তুলা আবাদ করে ভালো ফলন পেয়েছিলেন খাজুরার রেজাউল ইসলাম এবার পাঁচ বিঘা জমিতে তুলা আবাদ করছেন গত মৌসুমে তিনি দুই বিঘা জমিতে আবাদ করে ৩২ মণ তুলা উৎপাদন করেছিলেন উৎপাদিত তুলা হাজার ৫০০ টাকা মণ দরে বিক্রি করেছিলেন

ঝিকরগাছা উপজেলার শিওরদা গ্রামের মিজানুর রহমান জানান, গত বছর তিন বিঘা জমিতে তুলা আবাদ করে ১৪ মণ ফলন পেয়েছিলেন খরচ পড়েছিল প্রায় ১২ হাজার টাকা চলতি মৌসুমেও একই পরিমাণ জমিতে তুলা আবাদ করছেন তিনি বণিক বার্তাকে মিজানুর রহমান বলেন, ধান পাট আবাদ করে লাভের মুখ দেখা যায় না সেই তুলনায় তুলা আবাদ বেশ লাভজনক বিক্রি নিয়েও চিন্তা করতে হয় না

তুলা উন্নয়ন বোর্ড যশোর জোনাল অফিসের প্রধান তুলা উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. কুতুব উদ্দিন বণিক বার্তাকে বলেন, পাঁচ-ছয় বছর ধরে যশোরাঞ্চলে তুলার আবাদ বাড়ছে ধানসহ অন্যান্য ফসলে তেমন লাভ না হওয়ার কারণে চাষীরা ফসলের দিকে ঝুঁকছেন সরকারের পক্ষ থেকে মৌসুমের শুরুতেই চাষীদের তুলার দেশীয় বীজ সরবরাহ করা হয় বীজে বিঘাপ্রতি ২১ মণ তুলা উৎপাদন হয় একই সঙ্গে তুলা উৎপাদনে আগ্রহী করে তুলতে স্থানীয় চাষীদের গত পাঁচ বছরে কোটি লাখ টাকা সহজ শর্তে ঋণ দেয়া হয়েছে

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন