মঙ্গলবার | অক্টোবর ২০, ২০২০ | ৫ কার্তিক ১৪২৭

করোনা

হাত ধোয়া ইমিউন সিস্টেমকে দুর্বল করে না

ভাসো আপস্টোলোপোলোস

কভিড-১৯ মহামারীর সময়ে আমাদের বারবার মনে করিয়ে দেয়া হচ্ছে উন্নত স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার বিষয়টি। বারবার হাত ধোয়া এবং আশপাশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার কথা বলা হচ্ছে সবচেয়ে বেশি। এই চর্চার মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে করোনাভাইরাসকে ধ্বংস করা, যা কিনা কভিড-১৯-এর কারণ। এতে আমাদের সংক্রমণের ঝুঁকিও অনেকটা কমে আসবে।

তবে এখানে এমন কথাও প্রচলিত আছে যে হ্যান্ড স্যানিটাইজার এবং অন্য স্বাস্থ্যবিধি রীতি মেনে চলার ফলে আমাদের ইমিউন সিস্টেম দুর্বল হয়ে যেতে পারে। এটি সম্পন্ন হয় আমাদের শরীরকে জীবাণুর সংস্পর্শ থেকে দূরে রেখে এবং এতে আমাদের ইমিউন ডিফেন্সের প্রশিক্ষিত হওয়ার সুযোগও হ্রাস পায়। তবে আশার খবর হচ্ছে, ধরনের খবরের কোনো ধরনের প্রমাণ মেলেনি।

হাইজিন হাইপোথিসিস

স্বাস্থ্য ইমিউন কার্যক্রমের জন্য এটা গুরুত্বপূর্ণ যে আমরা পরিবেশের বিভিন্ন পরীসিমায় ক্ষুদ্র জীবাণুর সংস্পর্শে আসব। যাদের বেশির ভাগই আমাদের অসুস্থ করে না। উচ্চমাত্রার একটি বিশ্বাস এই যে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন হয়ে চলা এবং ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা আমাদের ইমিউন সিস্টেমকে দুর্বল করে, এটিই মূলত সেটি যাকে হাইজিন হাইপোথিসিস বলা হয়।

হাইজিন হাইপোথিসিস একটি তত্ত্ব যা বলছে, একটি ছোট বাচ্চার পরিবেশ খুব পরিষ্কার হতে পারে এবং তারা এসব অণুজীবের সঙ্গে যথেষ্ট পরিমাণে সংস্পর্শে আসতে পারে না, যাতে তারা তাদের ইমিউন সিস্টেমকে কার্যকরভাবে উজ্জীবিত করতে পারে।

যুক্তিটি হলো এর ফলে অ্যালার্জি, হাঁপানি এবং নির্দিষ্ট অটোইমিউন বিশৃঙ্খলা বৃদ্ধি পায়। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিজ্ঞানীরা এই হাইপোথিসিস ভুল প্রমাণ করেছেন। গবেষণায় দেখা গেছে, এসবের প্রকোপ বৃদ্ধির আরো একাধিক কারণ রয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হচ্ছে, অনেক বেশি নোংরা থাকা আমাদের ইমিউন সিস্টেমকে কোনো সাহায্য করে না। এটি সাধারণত প্রদাহকে আরো খারাপ করে তোলে।

ইমিউন সিস্টেম কী?

ইমিউন সিস্টেম কাজ করে ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থ, ব্যাকটেরিয়া ভাইরাসের দ্বারা অসুস্থ হওয়ার হাত থেকে আমাদের শরীরকে রক্ষা করার জন্য। এটি দুই লাইনের ইমিউন ডিফেন্স তৈরি করে। প্রথমটি হচ্ছে সহজাত প্রতিরোধ ব্যবস্থা, যা কিনা সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই করতে এবং টিস্যুর ক্ষতি রোধ করতে বিভিন্ন রোগ-জীবাণুর বিরুদ্ধে দ্রুত প্রতিক্রিয়া দেখায়।

পরেরটি ইমিউন সেলগুলো দ্বারা তৈরি হচ্ছে অভিযোজিত ইমিউন সিস্টেম, যা কিনা ভাইরাসের মতো কঠিন জীবাণুগুলোর বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য আরো লক্ষ্যবস্তু বা নির্দিষ্ট প্রতিক্রিয়ার বিকাশ ঘটায়। অভিযোজিত ইমিউন কোসগুলো কাজ করে সংক্রমিত কোষের বাইরে ভাইরাসের ছোট অংশগুলোকে শনাক্ত করার মাধ্যমে এবং তাদের ধ্বংস করার মাধ্যমে। এই কোষগুলোকে মেমোরি সেল বলে থাকি। পরেরবার তারা যখন একই ভাইরাসের মুখোমুখি হয়, তারা তখন সরাসরি সেগুলোকে ধ্বংস করতে পারে। ইমিউন সিস্টেমের এই বিকাশ শুরু হয় জন্মের পর থেকে এবং এটি হ্রাস পায় বুড়ো হওয়ার সঙ্গে।

কী আমাদের ইমিউন সিস্টেমকে দুর্বল করতে পারে?

আমাদের আধুনিক ধারার জীবনযাপনের কিছু পদ্ধতির কারণে আমাদের ইমিউন সিস্টেম দুর্বল হতে পারে। যেখানে উল্লেখযোগ্য হলো

 .         পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব

.        কিছু নির্দিষ্ট ওষুধ এবং অ্যান্টিবায়োটিকসের অতিরিক্ত ব্যবহার

.        ভিটামিন ডি-এর স্বল্পতা

.         প্রক্রিয়াজাত খাবারসমৃদ্ধ পশ্চিমা ডায়েট এবং ফল শাকসবজি কম খাওয়া।

.        শারীরিক পরিশ্রমের অভাব

.        উদ্বেগ উত্কণ্ঠা

 কিন্তু এমন কোনো বৈজ্ঞানিক প্রমাণাদি নেই যা এটি সমর্থন করে যে অতিরিক্ত স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা আমাদের ইমিউন সিস্টেমকে দুর্বল করতে পারে কিংবা ভাইরাস ব্যাকটেরিয়া দ্বারা আমাদের সংক্রমিত হওয়ার জন্য অধিক সংবেদন করে তুলতে পারে।

জীবাণু সব জায়গায়ই আছে: বাতাসে, খাবারে, গাছে, প্রাণীদের মাঝে, মাটি পানিতেও। তারা প্রায় সব ধরনের পৃষ্ঠেই অবস্থান করে। এমনকি আমাদের শরীরের ভেতরে বাইরেও।

কভিড-১৯-এর সময়কালে স্বাস্থ্যবিধি নীতি সাহায্য করে সংক্রমণের বিস্তৃতিকে সীমায়িত রাখতে এবং সংক্রমণের ঝুঁকি কমিয়ে দিতে। কিন্তু এটা আমাদের জীবন থেকে জীবাণুকে দূর করতে পারবে না।

পরিচ্ছন্ন রাখুন

পরিচ্ছন্নতা বলতে পৃষ্ঠতল থেকে জীবাণু, নোংরা, দূষণ দূর করাকে  বোঝানো হয়। এটি জীবাণুকে হত্যা করে না। কিন্তু এগুলোকে পরিষ্কার করার মাধ্যমে এর সংখ্যা কমিয়ে আনা যায় এবং সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকিও কমানো যায়। বিপরীতে জীবাণুমুক্তকরণ বলতে বোঝায় রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহারের মাধ্যমে পৃষ্ঠতলে থাকা জীবাণুকে হত্যা করা। পরিচ্ছন্নতা জীবাণুমুক্তকরণকে সম্মিলিতভাবে ব্যবহার করার মাধ্যমে সবচেয়ে কার্যকরভাবে করোনাভাইরাসের মতো জীবাণুকে দূর করা যায়। অতিরিক্ত হাত ধোয়া অবশ্যই সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপায়। সে কারণে আমাদের সাবান পানি দিয়ে ২০ সেকেন্ড ধরে হাত ধোয়ার কথা বলা হয়েছে। যদি সেটা সম্ভব না হয় তবে হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার করা যেতে পারে।

সায়েন্স অ্যালার্ট

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন