শনিবার | সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২০ | ৪ আশ্বিন ১৪২৭

খবর

নির্মাণশ্রমিক থেকে আবাসন ব্যবসায়ী, লেনদেনের বিরোধেই খুন আবুল খায়ের

নিজস্ব প্রতিবেদক

আবুল খায়েরের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সজিব বিল্ডার্সের শ্রমিকদের প্রধান ছিলেন মো. মিলন। আবুল খায়ের তার ভগ্নিপতি। মূলত দেনা-পাওনা নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরেই মিলন প্রথমে রড এবং পরে কাঠ দিয়ে মাথায় আঘাত করে আবুল খায়েরকে হত্যা করেন। 

গতকাল শনিবার রাজধানীর ভাটারা এলাকা থেকে মিলনকে গ্রেফতারের পর আজ রোববার ডিএমপির গুলশান বিভাগের ডিসি সুদীপ কুমার চক্রবর্তী সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান।

তিনি বলেন, গত শুক্রবার সকালে ভাটারা এলাকার একটি নির্মাণাধীন ভবন থেকে আবুল খায়েরের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহতের মেয়ে খাদিজা আক্তার স্বর্ণা বাদী হয়ে ভাটারা থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। ওই মামলায় তদন্তে মিলনের সম্পৃক্ততা বেরিয়ে আসে। পরে তাকে গ্রেফতার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামি মিলন হত্যার দায় স্বীকার করে ঘটনার বিবরণ তুলে ধরেন। পরে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন মিলন।

তিনি আরো বলেন, শুক্রবার বেলা ৩টায় একটি ফোন পেয়ে বাসা থেকে বের হন আবুল খায়ের। প্রতিদিন সন্ধ্যার মধ্যে বাসায় ফিরলেও সেদিন ফেরেননি। তার ফোনও বন্ধ পাওয়া যাচ্ছিল। পরে স্ত্রী রূপালী বেগম আবুল খায়েরের নির্মাণাধীন ভবনে যান। সেখানে স্বামীর ব্যবহৃত মোটরসাইকেল দেখতে পান। পরে ওই ভবনের দ্বিতীয় তলায় আবুল খায়েরের রক্তাক্ত মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন। ভাটারা থানা পুলিশকে খবর দিলে মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) মর্গে পাঠানো হয়।

ডিসি সুদীপ বলেন, মিলন ও আবুল খায়ের দীর্ঘ ২৭ বছর ধরে একসঙ্গে কাজ করছিলেন। প্রথমে দুজনই নির্মাণশ্রমিক ছিলেন। পরে তারা নির্মাণ প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। এই নির্মাণ প্রতিষ্ঠানের এমডি হোন আবুল খায়ের। এতে আবুল খায়েরের ভাগ্য ফিরলেও ফেরেনি মিলনের। তিনি এখনো নির্মাণ শ্রমিকই। দৈনিক ৬০০ টাকা মজুরিতে মিলন সজিব বিল্ডার্সেই রড বাইন্ডার হিসেবে কাজ করতেন। তাদের মধ্যে ব্যবসায়িক লেনদেন ছিল। নির্মাণ ব্যবসা করেই তারা জীবিকা নির্বাহ করতেন।

যে প্রজেক্টে কাজ চলছিল সেখানে আবুল খায়ের ছিলেন মূলত ঠিকাদার এবং মিলন ছিলেন প্রধান শ্রমিক। মিলন দাবি করেন, তিনি মজুরি হিসেবে প্রায় ৮ লাখ টাকা আবুল খায়েরের কাছে পেতেন। ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে যে মুনাফা আসতো তার কোনো ভাগই মিলন পেতেন না। একই প্রজেক্টে তিনি এবং তার ভগ্নিপতি কাজ করেন। কিন্তু ভগ্নিপতি মুনাফা পাচ্ছিলেন, তিনি পাচ্ছিলেন না। তাছাড়া মিলনকে শ্রমিক হিসেবেই ব্যবহার করতেন আবুল খায়ের। এসব তিনি মানতে পারেননি।

ডিসি সুদীপ আরো বলেন, আদালতে ১৬৪ ধারায় দেয়া জবানবন্দিতে মিলন বলেন, তিনি প্রায়ই বোনের বাসায় যেতেন। বোন এবং ভগ্নিপতি আবুল খায়েরের মধ্যেও দ্বন্দ্ব ছিল। সেটি ভেবেই তিনি ভগ্নিপতি আবুল খায়েরকে ওই নির্মাণাধীন ভবনে কথা বলতে ডেকেছিলেন। কিন্তু সেখানে যাওয়ার পর তাদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। এতে ক্ষেপে গিয়ে ওই ভবনে থাকা লোহার রড ও কাঠ দিয়ে আবুল খায়েরের মাথায় আঘাত করেন।

মিলন একাই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে উল্লেখ করে ডিসি বলেন, আমরা খুব দ্রুতই এই মামলার অভিযোগপত্র আদালতে দাখিল করবো।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন