বৃহস্পতিবার | অক্টোবর ০১, ২০২০ | ১৬ আশ্বিন ১৪২৭

দেশের খবর

অপহরণের আড়াই বছর পর ত্রিশাল থেকে কলেজ ছাত্রী উদ্ধার

বণিক বার্তা প্রতিনিধি, ময়মনসিংহ

অপহরণের দীর্ঘ দুই বছর পাঁচ মাস পর ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলা এলাকা থেকে কলেজ ছাত্রী নাসরীন সুলতানাকে উদ্ধার করেছে পুলিশ ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন পিবিআই। গতকাল শনিবার তাকে উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ সুপার পিবিআই গৌতম কুমার বিশ্বাস জানান, নান্দাইল উপজেলার পুরহরি গ্রামের আবদুল আউয়ালের মেয়ে নাসরিন সুলতানা নান্দাইল শহীদ স্মৃতি ডিগ্রী কলেজে পড়াকালীন আসামি আল আমিন (২৩) প্রায়শই ভিকটিমকে ‘ইভটিজিং’ করতো। সে কারণে ২০১৬ সালের ৭ নভেম্বর ভ্রাম্যমাণ আদালত তাকে ৪০ দিন বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেয়। 

তিনি জানান, কারাভোগ শেষে আল আমিন ‘প্রতিশোধ নিতে’ নাসরিন সুলতানার পরিবারের ক্ষতি করার নানান চেষ্টা করতে থাকেন। নাসরিনের বাবা ভ্রাম্যমাণ আদালতে মামলার বাদি আবদুল আউয়ালের বিরুদ্ধেও থানায় মিথ্যা অভিযোগ দায়ের করেন। এমনকি সংবাদ সম্মেলন ও ফেসবুকসহ বিভিন্ন স্থানীয় গণমাধ্যমে মিথ্যা সংবাদ পরিবেশন করেন। এতে আবদুল আউয়াল আল আমিন ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে মানহানি একটি মানহানির মামলা করেন।

অপহরণের ঘটনার বিবরণ দিয়ে পুলিশ সুপার গৌতম কুমার বিশ্বাস জানান, ২০১৮ সালে ভিকটিম নাসরিন সুলতানা কিশোরগঞ্জ গুরুদয়াল সরকারি কলেজে স্নাতক প্রথম বর্ষের ছাত্রী। ওই বছর ১৯ ফেব্রুয়ারি সকাল ৮টার দিকে কলেজে যাচ্ছিলেন নাসরিন। পথে বাটুয়ারাপাড়ার উত্তর দিকে আচারগাঁও ফাজিল মাদরাসার পাশ থেকে তাকে একটি মাইক্রোবাসে করে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে অপহরণ করে আল আমিন ও তার সহযোগীরা।

এ ঘটনায় তার বাবা আবদুল আউয়াল বাদী হয়ে নান্দাইল থানায় অপহরণ মামলা দায়ের করেন। থানা পুলিশ মামলা তদন্ত শেষে ভিকটিমকে উদ্ধারসহ তার জবানবন্দি নাঃ শিঃ ২২ ধারায় বিজ্ঞ আদালতে লিপিবদ্ধ না করে তথ্যগত ভুলসহ চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেয়। বাদী এই প্রতিবেদনে নারাজি দিলে গেল বছর ১ এপ্রিল আদালত মামলাটি পুনর্তদন্তের জন্য ময়মনসিংহ পিবিআইকে নির্দেশ দেয়।

মামলাটির ভিকটিম নাসরিন সুলতানাকে (২১) গতকাল শনিবার (৮ আগস্ট) ত্রিশাল থানা এলাকা হতে উদ্ধার করে পিবিআই। তবে আসামিরা জামিনে মুক্ত থাকায় কাউকে গ্রেফতার করা যায়নি বলেও জানান পিবিআই পুলিশ সুপার গৌতম কুমার বিশ্বাস। উদ্ধারের পর নাসরিন সুলতানার জবানবন্দি লিপিবদ্ধ করানোর জন্য গতকালই আদালতে পাঠানো হয়েছে বলেও জানান তিনি।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন