সোমবার | সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২০ | ১৩ আশ্বিন ১৪২৭

শিল্প বাণিজ্য

যমুনা ব্যাংকের মহাখালী শাখা

করোনার মধ্যেও ৬ মাসে ৫৩ কোটি টাকার মুনাফা

নিজস্ব প্রতিবেদক

২০১৯-২০ অর্থবছরের শেষ পাঁচ মাসে নতুন করে খুব বেশি ঋণ বিতরণ করা সম্ভব হয়নি। আবার পুরনো ঋণ আদায়ও হয়নি। আমদানি-রফতানি বাণিজ্য কম হওয়ার কারণে কমে গেছে কমিশন। অন্যদিকে ঝুঁকিভাতাসহ সুরক্ষাসামগ্রী কিনতে ব্যাংকগুলোর ব্যয় বেড়েছে। তবে বৈরী সময়েও ব্যতিক্রমী যমুনা ব্যাংকের মহাখালী শাখা। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত সময়ে পরিচালন মুনাফা হয়েছে ৫৩ কোটি টাকা।

যমুনা ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, যমুনা ব্যাংকের মহাখালী শাখায় চলতি বছরের জুন শেষে আমানত ছাড়িয়েছে হাজার ৫১৬ কোটি টাকা, যা ২০১৪ সালের তুলনায় ২৪৬ শতাংশ বেশি। শাখা থেকে বিতরণ হওয়া ঋণের পরিমাণ হাজার ৮৪৫ কোটি টাকা, যা ২০১৪ সালের তুলনায় ৮৪৪ শতাংশ বেশি। অন্যদিকে শাখার মাধ্যমে আমদানি বাণিজ্য হয়েছে হাজার ৫৬৩ কোটি টাকা। আমদানি বাণিজ্য বেড়েছে প্রায় ৫৫ শতাংশ। গত ছয় মাসে গ্যারান্টি ব্যবসা হয়েছে প্রায় ৯৪ কোটি টাকা, যা ২০১৪ সালে ছিল মাত্র কোটি ৪৮ লাখ টাকা। শাখাটির নানামুখী ব্যবসা সম্প্রসারণের ফলে মুনাফা বৃদ্ধি পেয়েছে।

গত কয়েক বছরের মুনাফা বিশ্লেষণ করলে দেখা যাবে, ২০১৬ সালে যমুনা ব্যাংকের মহাখালী শাখায় মুনাফার পরিমাণ ছিল ৪৪ কোটি লাখ, ২০১৭ সালে ৫০ কোটি ৭৩ লাখ, ২০১৮ সালে ৯৫ কোটি ১৯ লাখ এবং ২০১৯ সালে ২১২ কোটি ৮৭ লাখ টাকা। আর চলতি বছরের জুন পর্যন্ত যমুনা ব্যাংকের মহাখালী শাখার মাধ্যমে ৫২ কোটি ৯৭ লাখ টাকা মুনাফা অর্জিত হয়েছে। ছয় মাসের মুনাফা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় দশমিক শতাংশ বেশি। বর্তমানে সারা দেশব্যাপী ১৪২টি শাখার মাধ্যমে যমুনা ব্যাংক তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। যমুনা ব্যাংক গত ছয় মাসে ২৮০ কোটি টাকা পরিচালন মুনাফা করেছে।

বিষয়ে যমুনা ব্যাংকের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আব্দুস সালাম বণিক বার্তাকে বলেন, করোনা পরিস্থিতির মধ্যে মুনাফার লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে আমাদের কার্যক্রমকে বহুমুখী করার চেষ্টা করেছি। মোট মুনাফার এক-পঞ্চমাংশ মহাখালী শাখার মাধ্যমে অর্জন করতে সক্ষম হয়েছি। বর্তমান গ্রাহকদের সর্বোচ্চ পরিমাণে সেবা প্রদানের পাশাপাশি নতুন গ্রাহক আকর্ষণে আমাদের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। আশা করছি, সামনের দিনে উন্নতির ধারা অব্যাহত রাখতে পারব। ২০১৫ সালের জানুয়ারিতে মহাখালী শাখার ম্যানেজার হিসেবে যোগ দেয়ার পর থেকে ধারাবাহিকভাবে শাখা মুনাফার ক্ষেত্রে উন্নতি করছে।

উল্লেখ্য, ব্যাংকের পরিচালন মুনাফা প্রকৃত (নিট) মুনাফা নয়। পরিচালন মুনাফা থেকে খেলাপি ঋণ অন্যান্য সম্পদের বিপরীতে প্রভিশন (নিরাপত্তা সঞ্চিতি) এবং সরকারকে কর প্রদান করতে হয়। প্রভিশন কর-পরবর্তী মুনাফাই হলো একটি ব্যাংকের প্রকৃত বা নিট মুনাফা।

খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রায় সব ঋণেরই সুদহার কমে গেছে। ব্যাংকঋণের সুদহার শতাংশ আমানত শতাংশ নির্ধারণ করে দিয়েছে সরকার। সুদহার কমে যাওয়ার কারণে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর সুদহার কমে গেছে। এরপর আবার করোনার অভিঘাতে কমেছে ব্যাংকের পরিচালন মুনাফা। সময়ে অনেক ব্যাংক আগের বছরের চেয়ে ২৫-৩০ শতাংশ মুনাফা কমে গেছে। ২০২০ সালের প্রথম ছয় মাস শেষে অনেক ব্যাংকের সব শাখা মিলে ৫৩ কোটি টাকা পরিচালন মুনাফা অর্জন করতে পারেনি। তবে বেশকিছু ব্যাংকের শাখা বেশ ভালো করেছে। এর মধ্যে শাখাভিত্তিক পরিচালন মুনাফার হিসাবে মার্কেন্টাইল ব্যাংকের প্রধান শাখা ৪৬ কোটি এবং মহাখালী শাখা ৩৩ কোটি টাকা মুনাফা অর্জন করেছে। বেশির ভাগ ব্যাংকেরই পরিচালন মুনাফা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় কমেছে। ব্যাংকগুলোর প্রাথমিক হিসাব প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, বছরের প্রথম ছয় মাসে রাষ্ট্রীয় মালিকানার ব্যাংকগুলো ভালো মুনাফা করেছে।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন