বৃহস্পতিবার | অক্টোবর ০১, ২০২০ | ১৬ আশ্বিন ১৪২৭

আন্তর্জাতিক খবর

মানবিক সংকটের মুখে লেবানন: জাতিসংঘ

বণিক বার্তা ডেস্ক

লেবাননের রাজধানী বৈরুতে ভয়াবহ বিস্ফোরণে বন্দর ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কারণে খাদ্য সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হওয়া দাম বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে জানিয়ে দেশটিতে মানবিক সংকট তৈরি হওয়ার বিষয়ে সতর্ক করছে জাতিসংঘ। খবর বিবিসি।

জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির (ডব্লিউএফপি) এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, লেবানন প্রায় ৮৫ শতাংশ খাদ্যশস্য আমদানি করে। সংস্থাটি এরই মধ্যে বৈরুতবাসীর জন্য পাঁচ হাজার প্যাকেট খাদ্যদ্রব্য পাঠিয়েছে। প্রতি প্যাকেটে পাঁচ সদস্যের পরিবার একমাস চলতে পারবে।

এদিকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) জানিয়েছে, লেবাননের ভঙ্গুর স্বাস্থ্যব্যবস্থা বিস্ফোরণের কারণে আরো ভেঙে পড়েছে। বিস্ফোরণে তিনটি হাসপাতাল সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া ডব্লিউএইচওর গুদামে রাখা ১৭ কনটেইনার ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জামও বিস্ফোরণে ধ্বংস হয়ে গেছে।

বহিঃসংশ্লিষ্টতার সন্দেহ প্রেসিডেন্টের

বৈরুতে বিস্ফোরণের ঘটনায় বাইরের সংশ্লিষ্টতা থাকার সম্ভাবনা দেখছেন লেবাননের প্রেসিডেন্ট মিশেল আউন। বিস্ফোরণটির সঙ্গে বোমা হামলা বা বাইরের কোনো সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কিনা, তা তদন্ত করে দেখার কথা বলেছেন তিনি।

স্থানীয় গণমাধ্যমে শুক্রবার প্রেসিডেন্ট আউন বলেন, ‘বিস্ফোরণের কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। রকেট বা বোমা অথবা অন্য তত্পরতার মধ্য দিয়ে বাইরের হস্তক্ষেপ থাকতে পারে এতে।

তবে বিস্ফোরণের কারণ গাফিলতি কিংবা দুর্ঘটনা কিনা, তা- দেখা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। গণমাধ্যমে প্রেসিডেন্টের দেয়া বক্তব্য নিশ্চিত করেছে তার কার্যালয়।

ক্ষোভে ফুঁসছে লেবাননবাসী

লেবাননের কর্মকর্তারা বিস্ফোরণের জন্য বন্দরের গুদামে হাজার হাজার টন অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট নিরাপদে না রাখাকে দুষছেন। বিপজ্জনক পদার্থের গুদাম নিরাপদে কেন রাখা হলো না? এর জন্য দায়ী কে? এমন নানা প্রশ্নের জবাব চেয়ে সরকারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভে ফুঁসছে লেবাননবাসী।

প্রেসিডেন্ট আউন এর আগে বলেছিলেন, মারাত্মক বিস্ফোরক পদার্থ বন্দরের গুদামে অনিরাপদভাবে বছরের পর বছর ধরে মজুদ করে রাখা হয়েছিল। প্রাথমিক একটি তদন্তে ওই বিস্ফোরকের মজুদ নিয়ে গাফিলতিকে দোষারোপ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন এক কর্মকর্তা।

আগের অবস্থায় ফেরার আশা নেই

লেবাননে বিস্ফোরকের গুদামে ভয়াবহ বিস্ফোরণে বিধ্বস্ত রাজধানী বৈরুতে তছনছ হয়ে যাওয়া জীবন আবার আগের অবস্থায় ফেরার আশা দেখছেন না অসহায় হয়ে পড়া বাসিন্দারা।

গত মঙ্গলবার বৈরুতের বন্দর এলাকায় বিস্ফোরণটি ঘটে। এতে শহরটির অর্ধেকই ধূলিসাৎ হয়েছে। প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ১৪৫ জন। লাখো মানুষ বাস্তুহারা হয়েছে। ধ্বংস হয়েছে খাদ্যদ্রব্যের মজুদ। যতদূর চোখ যায় কেবল ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে ধ্বংসস্তূপ। সেই ধ্বংসস্তূপ থেকে আবার নিজেদের বাড়িঘর নতুন করে তোলার চেষ্টা করছে বৈরুতবাসী। কিন্তু আগের অবস্থা আর ফিরে পাওয়ার আশা নেই অনেকের।

কেবল বৈরুতের বাসিন্দারাই নন, বিশ্লেষকরাও বলছেন, নগরী আর কখনই আগের অবস্থায় ফিরে যাবে না। আমেরিকান ইউনিভার্সিটি অব বৈরুতের সহযোগী অধ্যাপক করিম মাকদিসি বলেন, ‘বিস্ফোরণের পর বৈরুত আবার সেই আগের অবস্থায় ফিরে যাবে বলে আমি মনে করি না। বিশ্বের সঙ্গে লেবাননের যোগাযোগের প্রাণকেন্দ্র একেবারেই ধ্বংস হয়ে গেছে।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন