শনিবার | সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২০ | ১১ আশ্বিন ১৪২৭

আন্তর্জাতিক খবর

প্রাণঘাতী বৈরুত বিস্ফোরণে জনরোষ বিক্ষোভে পুলিশের টিয়ার গ্যাস

বণিক বার্তা ডেস্ক

নেতৃত্বের ব্যর্থতায় বৈরুতে ভয়াবহ বিস্ফোরণের বিরুদ্ধে লেবাননের সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। গতকাল রাজধানীতে বিক্ষুব্ধ জনতার মিছিলে টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করেছে লেবানন পুলিশ। খবর গার্ডিয়ান বিবিসি।

রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত সংবাদ সংস্থা ন্যাশনাল নিউজ এজেন্সি (এনএনএ) বলছে, বৃহস্পতিবার রাতে মধ্য বৈরুতে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারীরা। সেখানে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী থেকে বাধাপ্রাপ্ত হয়ে সংসদ ভবনের কাছে জমায়েত হয়। সেখানে রাস্তায় আগুন ধরিয়ে এবং নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর পাথর নিক্ষেপ করে ক্ষোভ প্রকাশ করে তারা।

গত মঙ্গলবারের প্রাণঘাতী বিস্ফোরণে সাধারণ মানুষদের শোক ক্ষোভে পরিণত হয়। ভয়াবহ ওই বিস্ফোরণে ১৫৪ জন নিহত হয়েছে এবং পাঁচ হাজারেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছে। গতকালও একজনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে বলে বিবিসির এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়।

সরকারের অবহেলায় ধরনের ভয়াবহ বিস্ফোরণ হয়েছে এমন অভিযোগ তুলে বেশ কয়েকজন কূটনীতিক সরকারি আমলা পদত্যাগ করেছেন। এটাকে ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ বলে মনে করছেন পদত্যাগী শীর্ষ কর্মকর্তারা।

এদিকে বৈরুতের ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ১৬ জনকে আটক করেছে প্রশাসন। আটক সবাই বৈরুত বন্দরের কর্মী। তবে গ্রেফতার নয়, তদন্তের কাজে ১৬ বন্দরকর্মীকে হেফাজতে নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন বৈরুতের সামরিক কৌঁসুলি ফাদি আকিকি।

এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, বৈরুত বন্দরের ১৮ জন স্টাফকে তদন্তের কাজে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডেকে আনা হয়েছিল। তাদের মধ্যে ১৬ জন এখনো নিরাপত্তা বাহিনীর হেফাজতে আছেন। তদন্তের স্বার্থেই তাদের হেফাজতে রাখা হয়েছে। আটকদের মধ্যে বন্দর কাস্টমসের বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা, কর্মী ব্যবস্থাপক রয়েছেন।

আকিকি আরো জানান, আটক হওয়াদের মধ্যে বন্দর কাস্টমসের বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা, কর্মী ব্যবস্থাপক রয়েছেন। এর আগে ওই বিস্ফোরণের ঘটনায় দায়ী সন্দেহভাজন বেশ কয়েকজন কর্মকর্তাকে গৃহবন্দি করার নির্দেশ দেয় দেশটির সরকার।

ভয়াবহ দুর্ঘটনার কারণ হিসেবে এখন পর্যন্ত দায়ী করা হচ্ছে কারখানায় অনিরাপদভাবে মজুদ করে রাখা হাজার ৭৫০ টন অ্যামোনিয়াম নাইট্রেটকে।

মঙ্গলবার লেবাননের রাজধানী বৈরুত যেই শক্তিশালী বিস্ফোরণে কেঁপে উঠল, তার জন্য বন্দরে সংরক্ষিত কয়েক হাজার টন অ্যামোনিয়াম নাইট্রেটকে দায়ী করছেন স্থানীয় কর্মকর্তারা। এখন পর্যন্ত ওই বিস্ফোরণের কারণে ১৩০ জন নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। আহত হয়েছেন চার হাজার জন। প্রায় তিন লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।

অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট মূলত কৃষি জমিতে সার হিসেবে ব্যবহূত হয়। এছাড়া খনিতে রাসায়নিক ব্যবহার করা হয় পাথর ভাঙতে। এছাড়া এর সামরিক ব্যবহারও আছে কিছু।

এর আগেও বহু শিল্প দুর্ঘটনার কারণ ছিল অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট। সন্ত্রাসবাদেও ব্যবহূত হয়েছে। ১৯৯৫ সালে ওকলাহোমা সিটির আলফ্রেড পি. মুরে ফেডারেল বিল্ডিং উড়িয়ে দিতে রাসায়নিক ব্যবহার করেছিল শ্বেতাঙ্গ বর্ণবাদীরা।

লেবানন সরকার বলছে, বৈরুতের উপকূলে এক গুদামে হাজার ৭৫০ টন অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট সার রাখা ছিল। সেখানেই আগুন ধরে যায়, যা পরে বিস্ফোরিত হয়। প্রায় ছয় বছর আগে রাশিয়ান মালিকানাধীন একটি কার্গো জাহাজে করে এসেছিল সার। বন্দর কর্মকর্তারা বলেন, তারা অনেকদিন ধরেই আদালতে আবেদন করেছেন যেন মজুদ সরিয়ে নেয়া হয়। তবে এতদিন কেউই ব্যবস্থা নেয়নি।

অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট নিজে তেমন ক্ষতিকর কিছু নয়। কিন্তু যদি আগুনের সংস্পর্শে আসে বা প্রচণ্ড তাপ চাপের মধ্যে থাকে, তাহলে এটি বিস্ফোরিত হতে পারে। বৈরুতের ক্ষেত্রে ঠিক কী হয়েছিল, তা এখনো সম্পূর্ণ জানা না গেলেও এটি বোঝা যায় সেখানে এত বিপুল পরিমাণ রাসায়নিক এমনিতেই ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। পরিমাণ সারে যদি আগুন লাগে, আর তা যদি রাখা থাকে গুদামের মতো নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে, তাহলে বিস্ফোরণের আশঙ্কা বেশ জোরালো।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন