সোমবার | সেপ্টেম্বর ২১, ২০২০ | ৫ আশ্বিন ১৪২৭

শেষ পাতা

মেজর (অব.) সিনহা হত্যা মামলা

প্রদীপ-লিয়াকতসহ তিন পুলিশ সদস্য সাতদিনের রিমান্ডে

বণিক বার্তা প্রতিনিধি কক্সবাজার

পুলিশের গুলিতে সাবেক সেনা কর্মকর্তা মেজর (অব.) সিনহা মো. রাশেদ খান নিহতের ঘটনায় করা হত্যা মামলায় টেকনাফ থানার প্রত্যাহার হওয়া ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রদীপ কুমার দাশসহ তিন আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে সাতদিনের জন্য র্যাবের হেফাজতের পাঠিয়েছেন আদালত। মামলার আরো চারজন আসামিকে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারবে র্যাব। গতকাল কক্সবাজার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট হেলাল উদ্দিনের আদালত আদেশ দেন।

এর আগে আদালত মামলার নয় আসামির মধ্যে সাতজনের জামিন নামঞ্জুর করেন। বাকি দুজন জামিন আবেদন দিয়েও আদালতে উপস্থিত না হওয়ায় তাদের ব্যাপারে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাদীপক্ষের আইনজীবী মোহাম্মদ মোস্তফা।

গতকাল বিকালে নয় আসামির মধ্যে ওসি প্রদীপ কুমার দাশসহ সাতজন কক্সবাজার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। ওই সময় আদালত ছিল লোকে লোকারণ্য। মানুষের ভিড়ে আদালত প্রাঙ্গণে পা ফেলার জায়গা ছিল না।

আদালতে মামলার আসামি পক্ষে মামলা পরিচালনা করেন অ্যাডভোকেট রাখাল চন্দ্র মিত্র অ্যাডভোকেট সম্যক দৃষ্টি। অপরদিকে বাদী পক্ষে মামলা পরিচালনা করেন সিনিয়র আইনজীবী মোহাম্মদ মোস্তফা অ্যাডভোকেট মাহবুবুল আলম টিপু।

সিনহা রাশেদ হত্যা মামলাটি করেছেন সিনহার বোন শারমিন। মামলায় তিনি মোট নয়জনকে আসামি করেছেন। এর আগে গত মঙ্গলবার ওসি প্রদীপ অসুস্থ দাবি করে ছুটি নিয়ে থানা থেকে বেরিয়ে যান। পরে চট্টগ্রামে পুলিশ হাসপাতালে ভর্তি হন।

কক্সবাজারের টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কের শামলাপুর পুলিশ তল্লাশিচৌকিতে গত ৩১ জুলাই রাতে পুলিশের গুলিতে নিহত হন সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মো. রাশেদ খান (৩৬) ঘটনার বিচার চেয়ে বুধবার কক্সবাজার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলাটি করেন নিহত রাশেদের বড় বোন শারমিন শাহরিয়া ফেরদৌস। আদালতের বিচারক তামান্না ফারাহ মামলাটি গ্রহণ করেন। তিনি এজাহারটি মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করে সাতদিনের মধ্যে আদালতকে অবহিত করতে টেকনাফ থানার ওসিকে নির্দেশ দেন। পাশাপাশি মামলাটি তদন্ত করে আদালতকে জানানোর জন্য র্যাব-১৫ কক্সবাজার ক্যাম্পের অধিনায়ককে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।

মামলার অন্যতম আলোচিত আসামি প্রদীপ কুমার দাশ টেকনাফ মডেল থানায় ওসি হিসেবে যোগ দেন ২০১৮ সালে। তিনি উপপরিদর্শক পদে ১৯৯৫ সালে পুলিশ বাহিনীতে যোগ দেন। প্রদীপ কুমার দাশ ২০১৯ সালে পুলিশের সর্বোচ্চ পদক বাংলাদেশ পুলিশ পদক (বিপিএম) পান। এর আগে একাধিকবার রাষ্ট্রপতির পুলিশ পদক (পিপিএম) পেয়েছেন তিনি।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন