সোমবার | সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২০ | ১৩ আশ্বিন ১৪২৭

খবর

ডা. সাবরিনাসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র

আদালত প্রতিবেদক

করোনাভাইরাসের নমুনা পরীক্ষা নিয়ে প্রতারণা জালিয়াতির মামলায় জেকেজি হেলথকেয়ারের চেয়ারম্যান ডা. সাবরিনা চৌধুরী তার স্বামী প্রতিষ্ঠানটির সিইও আরিফুল হক চৌধুরীসহ আটজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেছে ডিবি পুলিশ। গতকাল ঢাকা সিএমএম আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন ডিবি পুলিশের পরিদর্শক লিয়াকত আলী।

অভিযুক্ত অন্য আসামিরা হলেন আবু সাঈদ চৌধুরী, হুমায়ূন কবির হিমু, তানজিলা পাটোয়ারী, বিপ্লব দাস, শফিকুল ইসলাম রোমিও জেবুন্নেসা।

মামলার নথি থেকে জানা যায়, মামলায় গত ২২ জুন জেকেজির সাবেক গ্রাফিক্স ডিজাইনার হুমায়ুন কবীর হিরু তার স্ত্রী তানজীন পাটোয়ারীকে আটক করে পুলিশ। হিরু স্বীকারোক্তিতে জানান, সে ভুয়া করোনা সার্টিফিকেটের ডিজাইন তৈরি করত। এর সঙ্গে জেকেজি গ্রুপের লোকজন জড়িত। ওই তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ জেকেজির সিইও আরিফুলসহ চারজনকে আটক করে। সিইও জানান, প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান ডা. সাবরিনা চৌধুরীর জ্ঞাতসারেই সব কিছু হয়েছে। এরপর গত ১২ জুলাই ডা. সাবরিনা চৌধুরীকে গ্রেফতার করে ১৩ জুলাই তিনদিনের রিমান্ডে নেয়া হয়। ওই রিমান্ডের পর ১৭ জুলাই তার ফের দুইদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। আর মামলায় গত ২৩ জুন আরিফ চৌধুরীকে গ্রেফতার করে রিমান্ডে নেয়া হয়। পরবর্তী সময়ে গত ১৫ জুলাই তাকে ফের চারদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। রিমান্ড শেষে সব আসামিই বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন।

উল্লেখ্য, ডা. সাবরিনা জাতীয় হূদরোগ ইনস্টিটিউটের চিকিৎসক। তার কারণেই করোনার নমুনা সংগ্রহের কাজ পায় জেকেজি হেলথকেয়ার। প্রথমে তিতুমীর কলেজ মাঠে স্যাম্পল কালেকশন বুথ স্থাপনের অনুমতি মিললেও প্রভাব খাটিয়ে ঢাকা, নায়ায়ণগঞ্জ, নরসিংদী গাজীপুরসহ বিভিন্ন স্থানে ৪৪টি বুথ স্থাপন করা হয় এবং নমুনা সংগ্রহের জন্য মাঠকর্মী নিয়োগ দেয়া হয়। তাদের হটলাইন নম্বরে রোগীরা ফোন দিলে মাঠকর্মীরা বাড়ি গিয়ে এবং বুথ থেকেও নমুনা সংগ্রহ করতেন। এভাবে নমুনা সংগ্রহ করে তারা ২৭ হাজার রোগীকে করোনা টেস্টের রিপোর্ট প্রদান করে প্রতিষ্ঠানটি। এর মধ্যে ১১ হাজার ৫৪০ জনের করোনার নমুনা আইইডিসিআরের মাধ্যমে সঠিক পরীক্ষা করানো হয়েছিল। বাকি ১৫ হাজার ৪৬০ জনের রিপোর্ট প্রতিষ্ঠানটি জালিয়াতির মাধ্যমে তৈরি করে। আর প্রতিটি সার্টিফিকেট প্রদানের বিনিময়ে তারা হাজার টাকা করে নিয়েছে।

 

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন