শনিবার | সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২০ | ৪ আশ্বিন ১৪২৭

টেলিকম ও প্রযুক্তি

পেটেন্ট লঙ্ঘন

অ্যাপলের বিরুদ্ধে ১৪০ কোটি ডলারের মামলা

বণিক বার্তা ডেস্ক

পেটেন্ট লঙ্ঘনের অভিযোগে মার্কিন প্রযুক্তি জায়ান্ট অ্যাপলের মামলা দায়ের করেছে চীনভিত্তিক আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই) কোম্পানি সাংহাই ঝিঝেন ইন্টেলিজেন্ট নেটওয়ার্ক টেকনোলজি, যা শাও-আই নামেও পরিচিত। মামলায় ১৪০ কোটি ডলার ক্ষতিপূরণ দাবি করা হয়েছে। খবর রয়টার্স।

শাও-আই পেটেন্ট লঙ্ঘনের মামলায় ক্ষতিপূরণ চাওয়ার পাশাপাশি যেসব পণ্য উত্পাদন, ব্যবহার, বিক্রির অঙ্গীকারবদ্ধ, বিক্রি হচ্ছে এবং আমদানির ক্ষেত্রে পেটেন্ট মানা হয়নি, সেগুলো জব্দ করার দাবি জানিয়েছে। শাও-আইয়ের দাবি, অ্যাপলের ভয়েস-রিকগনিশন প্রযুক্তি সিরিতে তাদের একটি পেটেন্ট অমান্য করা হয়েছে। পেটেন্টের জন্য তারা ২০০৪ সালে আবেদন করেছে এবং এটি অনুমোদন পেয়েছে ২০০৯ সালে। অ্যাপল পেটেন্টের বিষয়টি জেনেশুনে লঙ্ঘন করেছে।

আদালতের মামলার কপি অ্যাপলের হাতে পৌঁছায়নি বলে জানানো হয়েছে। মামলার কপি হাতে পেলে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করা হবে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। ধারণা করা হচ্ছে, বিষয়টি আইনি লড়াইয়ের মাধ্যমে সমাধানের পথে হাঁটবে অ্যাপল।

বিবৃতিতে অ্যাপল জানায়, সিরিতে শাও-আইয়ের পেটেন্ট করা কোনো প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়নি। শাও-আই যে প্রযুক্তির কথা বলছে সেটা গেম এবং ইনস্ট্যান্ট মেসেজিং সংশ্লিষ্ট, যা সিরিতে ব্যবহারের প্রশ্নই ওঠে না। অ্যাপল পণ্যে শাও-আইয়ের রোবট প্রযুক্তির কোনো ব্যবহার হয়নি।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১২ সালে প্রথম অ্যাপলের বিরুদ্ধে ভয়েস রিকগনিশন প্রযুক্তির পেটেন্ট লঙ্ঘনের মামলা করে শাও-আই। ওই পেটেন্ট বৈধ বলে গত জুলাই মাসে রুল জারি করেছে চীনের সুপ্রিম পিপল আদালত।

গত বছর ডিসেম্বরে চীনে নভেল করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ায় আইফোন উত্পাদন ব্যাহত হয়। যে কারণে চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে হাজার ৭০০ কোটি ডলার রাজস্ব আয়ের যে পূর্বাভাস ছিল, তা পূরণ করতে পারেনি অ্যাপল। চীনে উত্পাদন ব্যাহত হওয়া বৈশ্বিক স্মার্টফোন বাজারে অ্যাপল ক্ষতির মুখে পড়ল। পরিস্থিতিতে চীনে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে বড় অংকের পেটেন্ট লঙ্ঘনের মামলা ডিভাইস ব্যবসায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে মনে করা হচ্ছে।

সম্প্রতি অ্যাপলের বিবৃতিতে জানানো হয়, চীনভিত্তিক ডিভাইস ব্র্যান্ডগুলোর পাশাপাশি নভেল করোনাভাইরাসের প্রভাব অ্যাপলের আইফোন ব্যবসা বিভাগের ওপরও পড়ছে। যে কারণে বিনিয়োগকারীদের সতর্কও করেছে অ্যাপল। যেখানে বলা হয় নভেল করোনাভাইরাসের কারণে চীনে আইফোনের উত্পাদন ব্যাহত হওয়ায় চলতি বছরজুড়ে পূর্বাভাসের তুলনায় রাজস্ব আয় অনেকাংশে কম হবে।

অ্যাপল প্রথম কোনো প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান, যার পক্ষ থেকে নভেল করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ায় আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ার বিষয়টি স্বীকার করে নেয়া হয়। নভেল করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে আইফোন উত্পাদনে বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে। অ্যাপল চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে কোটি ১০ লাখ ইউনিট আইফোন উত্পাদনের যে লক্ষ্য নির্ধারণ করেছিল, তা পূরণ সম্ভব হয়নি। উত্পাদন বিভ্রাটের কারণে সরবরাহ বিক্রিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। পরিস্থিতি কতদিন স্থায়ী হবে তা নিশ্চিত নয়। জুলাই-সেপ্টেম্বর প্রান্তিকেও প্রত্যাশার চেয়ে অনেক কম আয় হওয়ার আশঙ্কা করছে আইফোন নির্মাতা প্রতিষ্ঠানটি।

 

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন