রবিবার | আগস্ট ০৯, ২০২০ | ২৫ শ্রাবণ ১৪২৭

দেশের খবর

জোড়াগেট পশুর হাটে পাঁচদিনে কেসিসির আয় ১ কোটি ৬৪ লাখ টাকা

গত বছরের চেয়ে ৪৪ লাখ টাকা কম

বণিক বার্তা প্রতিনিধি, খুলনা

খুলনা জোড়াগেট কোরবানি পশুর হাটে এবার পাঁচদিনে ছয় হাজার ১৬৯টি পশু বিক্রি হয়েছে। এ থেকে হাসিল আদায়ের মাধ্যমে খুলনা সিটি করপোরেশনের (কেসিসি) আয় হয়েছে ১ কোটি ৬৪ লাখ ৭৭ হাজার টাকা। খুলনা সিটি করপোরেশন পরিচালিত এ হাটে ক্রেতা-বিক্রেতাদের সকল সুযোগ সুবিধা বিদ্যমান ছিল। তবে করোনা মহামারীর কারণে ২০১৯ সালের চেয়ে এবছর এক হাজার ৬৩৬টি পশু বিক্রি কম হয়েছে। আর হাসিল আদায় কমেছে ৪৪ লাখ টাকা। আর ২০১৮ সালের চেয়ে ২০১৯ সালে ৭৭৩টি পশু বিক্রি বেড়ে হাসিল আদায় বেড়েছিল ৪২ লাখ ৭৪ হাজার টাকা।

কেসিসির নির্বাহী প্রকৌশলী (বিদ্যুৎ) জাহিদ হোসেন শনিবার ভোরে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, করোনার প্রভাবের কারণে এ হাটে স্বাস্থ্যবিধি কঠোরভাবে পালন করার কারণে ক্রেতা ও পশু কম আসায় এবার বিক্রি ও হাসিল আদায় কমেছে। 

তিনি বলেন, গত ২৬ জুলাই থেকে এ হাটে বেচা বিক্রি শুরু হয়। ১ আগস্ট ভোর রাত ৫টায় এ হাটে বেচাকেনা শেষ করা হয়। এ সময়ের মধ্যে হাটে ছয় হাজার ১৬৯টি পশু বিক্রি হয়। এর মধ্যে রয়েছে চার  হাজার ৭৭২টি গরু, এক হাজার ৩৬০টি ছাগল ও ৩৬টি অন্যান্য। এ থেকে কেসিসি হাসিল হিসেবে পেয়েছে ১ কোটি ৬৪ লাখ ৭৭ হাজার ৭ টাকা। 

২০১৯ সালে এ হাটে ৭৮০৫টি পশু বিক্রি হয়। এর মধ্যে ছিল ৬১৪৪টি গরু, ১৬৫৬টি ছাগল ও ৫টি ভেড়া। এ থেকে কেসিসি হাসিল হিসেবে পেয়েছিল ২ কোটি ৮ লাখ ৯ হাজার ৯শ' ৫৫ টাকা। ২০১৮ সালে হাসিল আদায় হয়েছিল ১ কোটি ৬৫ লাখ ৩৫ হাজার ৮৮১ টাকা। পশু বিক্রি হয়েছিল ৭ হাজার ৩২টি। এর মধ্যে গরু ৫ হাজার ৩৮২টি ও ছাগল ১ হাজার ৬৪২টি বিক্রি হয়। ২০১৭ সালে হাসিল আদায় হয় ২ কোটি ১০ লাখ ৩০ হাজার ৩৪৩ টাকা। পশু বিক্রি হয় ৮ হাজার ৪০৩টি। এর মধ্যে গরু ছিল ৬ হাজার ৭৩৭টি, ছাগল ১ হাজার ৬৫৭টি আর ভেড়া ৫টি। 

উল্লেখ্য, কোরবানির পশুর কেনাবেচার জন্য প্রতিবছর নগরীর জোড়াগেট পাইকারী কাঁচা বাজারে পশুর হাট বসায় কেসিসি। আগে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান হাট পরিচালনা করতো। ২০০৯ সালে এ হাট থেকে কেসিসির আয় ছিল ৪৭ লাখ টাকা। ২০১১ সাল থেকে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় হাট পরিচালনার উদ্যোগ নেয় কেসিসি। সেই থেকে এ হাটের মাধ্যমে কোটি টাকার রাজস্ব আয় করছে কেসিসি। 

২০১১ সালে আয়ের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৬ লাখ ৫৮ হাজার ৭১ টাকা। বিক্রি হয়েছিল ৮ হাজার ৩৯৬টি পশু। ২০১২ সালে হাট থেকে ৭ হাজার ৬২৯টি পশু বিক্রি থেকে আয় হয় ১ কোটি ৬ লাখ ৩২ হাজার ৫৯৮ টাকা। ২০১৩ সালে হাটে ৮ হাজার ৮৯১টি পশু বিক্রি থেকে রাজস্ব আয় হয় ১ কোটি ২৬ লাখ ৬ হাজার ৫১৮ টাকা। ২০১৪ সালে পশুর হাটে ১০ হাজার ১৫৫টি পশু বিক্রি হয়েছে। রাজস্ব আয় হয় ১ কোটি ৫৪ লাখ ৪২ হাজার ৪২০ টাকা। ২০১৫ সালে হাসিল আদায় হয় ১ কোটি ৭৭ লাখ ৩০ হাজার ৪৩০ টাকা। ওই বছর পশু বিক্রি হয় ৯ হাজার ৩২৪টি, এর মধ্যে গরু ছিল ৭ হাজার ৯০৮টি, ছাগল ছিল ১ হাজার ৪১৬টি। ২০১৬ সালে হাসিল আদায় হয় ১ কোটি ৯৩ লাখ ৩৩ হাজার ৫৪৩ টাকা। ওই বছর পশু বিক্রি হয় ৯ হাজার ২৪৪টি, এর মধ্যে গরু ছিল ৭ হাজার ৬২৭টি, ছাগল ছিল ১ হাজার ৬১২টি ও ভেড়া ছিল ৫টি।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন