রবিবার | আগস্ট ০৯, ২০২০ | ২৫ শ্রাবণ ১৪২৭

ফিচার

বাড়িতে বসেই অফিস করতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্য কর্মীদের, কেন?

বণিক বার্তা ডেস্ক

মার্চের শেষ দিকে যখন চারদিকে লকডাউন লকডাউন আওয়াজ, তখন নিয়মিত যারা অফিস করেন এমন কর্মীরাই সবচেয়ে বেশি আতঙ্কিত ছিলেন এটা ভেবে যে, অফিসের কাজের তাহলে হবেটা কী! আর এভাবেই বা কতোদিল চলবে? করোনা পরিস্থিতির সঙ্গে তাল মেলাতে শুরু হলো হোম অফিস বা বাড়িতে বসে অফিসে মতো করে অফিসের কাজ করার বিষয়টি। প্রথম দুই, তিনদিন কেউ হাপিয়ে উঠলেও বা কারো কারে কাজের ছন্দ পতন হলেও ঠিকই এক সময় সবাই-ই কম বেশি মানিয়ে নিলেন। বাসার একটি কর্নারে তৈরি করলেন ওয়ার্ক স্টেশন। বেডরুম, ডাইনিং টেবিল কিংবা ড্রয়িংরুমে ১০টা ৫টা কাজের রুটিন শুরু হলো। বর্তমানে স্বল্প পরিসরে আবার খুলতে শুরু করেছে সবকিছু। অফিসগুলো ঈদের পরে পূর্ণ পরিসরেই খুলে যাবে হয়তো। বিশ্বের বিভিন্ন জায়গাতেই একই অবস্থা। যেখানে কভিড সংক্রমণের মাত্রা কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এসেছে কিংবা বাড়ছে না নতুন আক্রান্তের সংখ্যা সে সব দেশে চলমান নিউ নরমালের সঙ্গে মানিয়েই অফিসমুখী কর্মীরা। 

যুক্তরাষ্ট্রের অফিসগুলো যদি নিরাপদ মনে  করে তবে ১ আগস্ট থেকে নিজস্ব বিবেচনায় তারা তাদের কর্মীদের অফিসে ফেরাতে পারবে। আমাদের এখানেও  পরিস্থিতি কিছুটা একইরকম বলা চলে। ঈদের পর খুলে যাবে অনেক অফিস। এ অবস্থায় অন্যরকম একটি জরিপ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের অফিস ফর ন্যাশনাল স্ট্যাটিস্টিক (ওএনএস)। জরিপে দেখা যাচ্ছে যে, অফিস নিরাপদ হলেও  যুক্তরাষ্ট্রের ৯১ শতাংশ কর্মীই এ সময়টাতে বাড়িতে বসেই কাজ করতে বেশি স্বাচ্ছদ্য বোধ করছেন। উল্লেখ্য, জুলাই থেকে দেশটির প্রায় ৩০ শতাংশ তরুণ কর্মী বাড়ি থেকে কাজ করছে।

যাই হোক কর্মীরা কেন বাড়িতে বসে কাজ করতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করছেন। জরিপে দেখানো কারণগুলোর মধ্যে  একটি  হলো, সময় এবং অর্থ দুটি ক্ষেত্রেই খরচ কমে যাওয়া। প্রতিদিন পেট্রোল পুড়য়ে  বা বাসে করে অফিস যেতে হচ্ছে না বলে অর্থ সাশ্রয় হচ্ছে আবার সময়ও বাঁচছে। আবার লাঞ্চের সময় বাইরে খাওয়া হচ্ছে না, তেমনি অফিস থেকে বাসায় ফেরার পথে শপিং মল বা রেস্তোঁরাতে বসে চা, কফি, বিকেলের নাস্তা খাওয়ারও প্রয়োজন পড়ছে না। আবার শপিং মলে ঘুরতে ঘুরতেও অপ্রয়োজনীয় কিছু ক্রয় করা হচ্ছে না। এভাবেই অর্থ সাশ্রয় হচ্ছে, সঙ্গে সময়ও। 

আর বাড়তি সময়টা দেয়া যাচ্ছে পরিবারকে। যে সব ছোট পরিবারের  কর্মজীবী বাবা-মাকে সন্তানকে সাহায্যকারী বা ডে কেয়ার সেন্টারে রেখে কাজে যেতে হতো বাসায় বসে কাজ করাতে এ সমস্যাটা মিটে গেছে। বাবা-মা দুইজনই হয়তো হোম অফিস করছেন, একই সঙ্গে সন্তানের দেখা-শোনাও করতে পারছেন। তাছাড়া স্কুল পড়ুয়া সন্তানের অনলাইন ক্লাসসহ পড়াশুনার বিভিন্ন বিষয়ে সহযোগিতাও করতে পারছেন। অফিসে গিয়ে কাজ করতে হলে যা সম্ভব ছিল না।

অযথা সময় ও অর্থ নষ্ট না হওয়াতে এবং পরিবার পরিজনদের সঙ্গে বেশী সময় কাটানোর ফলে আমাদের মানসিক স্বাস্থ্যের উপর একধরনের ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে বলেও উল্লেখ করা হয় জরিপে। অফিসের চার দেয়ালের বাইরে থেকে ৩০ বছর বয়সী লন্ডনের নাগরিক সারার কাজের অভিজ্ঞতা ইতিবাচক। পেশায় তিনি একজন অ্যানিমেটর। তার মতে, অফিসে ডেস্কের চারপাশ ভর্তি সহকর্মীদের বদলে বাসার খোলা পরিসরে কাজ করতে বসে আমি যেন আরো বেশি সৃষ্টিশীল হয়ে উঠেছি। কাজে মনোযোগ পাচ্ছি, অহেতুক কিছু আমার মনের একাগ্রতা কেড়ে নিচ্ছে না। তাছাড়া রোজ রোজ অফিসে গিয়ে কাজ করতে করতে আমি যতটা উদ্বিগ্ন ও চাপে থাকতাম, বাসায় থেকে কাজ করে এখন আমি অনেক বেশি চাপমুক্ত। সময় মতো কাজ জমা দিতে পারছি। মিস হচ্ছে না একটা ডেডলাইনও।

সারাকে অফিস যেতে হতো ট্রেনে চেপে। এতে তার মাসে খরচ হতো ৪৫০ ডলার। যাতায়াতের এ বাড়তি অর্থটা তাকে এখন গুণতে হচ্ছে না। এটাও তো কম স্বস্তির নয়। 

 সূত্র: বিবিসি

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন