বুধবার | আগস্ট ১২, ২০২০ | ২৮ শ্রাবণ ১৪২৭

পণ্যবাজার

বছরের প্রথম ৬ মাস

১ কোটি ৬১ লাখ টন চাল উৎপাদন ইন্দোনেশিয়ার

বণিক বার্তা ডেস্ক

চাল উৎপাদনের জন্য ইন্দোনেশিয়ার খ্যাতি বিশ্বজোড়া। জনবহুল দেশটির অধিবাসীদের প্রধান খাদ্য চাল চাল থেকে তৈরি বিভিন্ন খাবার। কারণে প্রতি বছর দেশটিতে উল্লেখযোগ্য চাল উৎপাদন হয়। বাড়তি চাহিদার কারণে আন্তর্জাতিক বাজার থেকেও খাদ্যপণ্যটি আমদানি করে ইন্দোনেশিয়া। চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে (জানুয়ারি-জুন) দেশটিতে আগের তুলনায় কমে কোটি ৬১ লাখ টন চাল উৎপাদন হয়েছে। বছরের বাকি সময় ইন্দোনেশিয়ায় আরো দেড় কোটি টনের মতো চাল উৎপাদনের প্রত্যাশা করছেন খাতসংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, বছরের শুরু থেকে খরা নভেল করোনাভাইরাসের বৈশ্বিক মহামারীর সঙ্গে তীব্র লড়াই করেছে ইন্দোনেশিয়ার চাল উৎপাদন খাত। মূলত এসব কারণে দেশটিতে চাল উৎপাদন কমে এসেছে। খবর এগ্রিমানি জাকার্তা পোস্ট।

জাতিসংঘের ওয়ার্ল্ড ফুড প্রোগ্রামের (ডব্লিউএফপি) সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছরের জানুয়ারি-জুন সময়ে ইন্দোনেশিয়ায় সব মিলিয়ে কোটি ৬১ লাখ টন চাল উৎপাদন হয়েছে, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৩ দশমিক শতাংশ কম। ২০১৯ সাল থেকেই ইন্দোনেশিয়ার চাল উৎপাদনকারী এলাকাগুলোয় খরা দেখা দেয়, যা চলতি বছরের প্রথমার্ধেও অব্যাহত ছিল। সময়মতো বৃষ্টির দেখা মিলেনি। খরার কারণে এবার ইন্দোনেশিয়ায় ধান-চাল উৎপাদন বিঘ্নিত হতে পারে, আগেই এমন পূর্বাভাস দিয়ে রেখেছিল ডব্লিউএফপি। সেই সঙ্গে বলা হয়, বর্ষার শেষ ভাগে ইন্দোনেশিয়ায় বন্যার সম্ভাবনা রয়েছে। ওই সময় ধান ক্ষেতে থাকলে নষ্ট হয়ে যেতে পারে। একদিকে খরার কারণে আবাদ মৌসুম দেরিতে শুরু হওয়া, অন্যদিকে বন্যার পূর্বাভাসস্বাভাবিকভাবেই এবার দেশটিতে ধান উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। কমে আসতে পারে চাল উৎপাদনও।

সাধারণত ইন্দোনেশিয়ায় ধানের উৎপাদন মৌসুম শুরু হয় মে মাসে। মে-জুনে কৃষকরা ধান রোপণ করেন। আগস্ট-সেপ্টেম্বরে পাকা ধানে ভরে ওঠে ইন্দোনেশীয় কৃষকদের গোলা। তবে এবার ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে। ডব্লিউএফপির পূর্বাভাস আমলে নিয়ে ইন্দোনেশিয়া সরকার সংকট এড়াতে ধানের উৎপাদন মৌসুম কিছুটা আগেই শুরু করে। সরকারের আহ্বানে সাড়া দিয়ে মার্চের শেষ দিকে এপ্রিলে বেশির ভাগ কৃষক ধান রোপণ করে ফেলেছিলেন। মূলত খরা পরিস্থিতি বর্ষায় শেষ ভাগে ফসলহানির আশঙ্কা থেকে এবার একটু আগেই ধানের উৎপাদন মৌসুম শুরু করা হয়।

একদিকে মৌসুমের শুরুতে তীব্র খরা, অন্যদিকে ফসল সংগ্রহের সময়ে বন্যার পূর্বাভাসবিপরীতমুখী দুই পরিস্থিতি ইন্দোনেশিয়ার কৃষিতে ভয়াবহ রকমের চ্যালেঞ্জের জন্ম দিয়েছে। বছরের শুরু থেকে চাল উৎপাদন ১৩ শতাংশের বেশি কমে গেছে। ডব্লিউএফপি বলছে, বৈরী পরিস্থিতির কারণে চলতি বছরের অবশিষ্ট ছয় মাসে (জুলাই-ডিসেম্বর) ইন্দোনেশিয়ায় আরো কোটি ২৫ লাখ থেকে সর্বোচ্চ কোটি ৫০ লাখ টন চাল উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে।

ইন্দোনেশিয়া বিশ্বের চতুর্থ শীর্ষ চাল উৎপাদনকারী দেশ। মার্কিন কৃষি বিভাগের (ইউএসডিএ) ফরেন এগ্রিকালচারাল সার্ভিসের প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, পরপর দুই বছর ধরে ইন্দোনেশিয়ায় চাল উৎপাদনে মন্দা ভাব বজায় রয়েছে। ২০১৭ সালে দেশটিতে কোটি ৭০ লাখ টন চাল উৎপাদন হয়েছিল, যা আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৩৯ শতাংশ বেশি। পরের বছর দেশটিতে দশমিক ৫৭ শতাংশ কমে খাদ্যপণ্যটির বার্ষিক উৎপাদন কোটি ৪২ লাখ টনে নেমে আসে। আর গত বছর ইন্দোনেশিয়ায় সব মিলিয়ে কোটি ৩৫ লাখ টন চাল উৎপাদন হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় দশমিক শূন্য শতাংশ কম। এক বছরের ব্যবধানে দেশটিতে খাদ্যপণ্যটির উৎপাদন কমেছে সাত লাখ টন।

প্রতিকূল আবহাওয়া পরিস্থিতির পাশাপাশি বছরের শুরু থেকে নভেল করোনাভাইরাসের মহামারী ইন্দোনেশিয়ার ধান-চাল উৎপাদন খাতে নতুন চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দেয়। ভাইরাস সংক্রমণের পর থেকে শ্রমিক সংকটে ব্যাহত হয় উৎপাদন কার্যক্রম। তবে নানামুখী চ্যালেঞ্জ ছাপিয়ে চলতি বছর শেষে ইন্দোনেশিয়ায় সব মিলিয়ে কোটি ৪৯ লাখ টন চাল উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে বলে প্রতিবেদনে জানিয়েছে ইউএসডিএ।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন