শনিবার | সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২০ | ৪ আশ্বিন ১৪২৭

সাক্ষাৎকার

নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে জোর দিতে চাই

মঈনউদ্দিন হাসান রশীদ। সম্প্রতি দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় কনগ্লোমারেট ইউনাইটেড গ্রুপের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নিয়েছেন। ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের ট্রিপল-ইর এ স্নাতক ২০১১ সাল থেকেই গ্রুপটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ইউনাইটেড গ্রুপের চেয়ারম্যান হিসেবে নিজের লক্ষ্য ও পরিকল্পনার পাশাপাশি আর্থিক ও ব্যবসায়িক বিভিন্ন দিক নিয়ে সম্প্রতি বণিক বার্তার সঙ্গে কথা বলেছেন তিনি। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন মেহেদী হাসান রাহাত।

সম্প্রতি ইউনাইটেড গ্রুপের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। এর মাধ্যমে প্রথম প্রজন্মের কাছ থেকে দ্বিতীয় প্রজন্মের কাছে গ্রুপের দায়িত্ব হস্তান্তরিত হয়েছে। চেয়ারম্যান হিসেবে আপনার লক্ষ্য ও পরিকল্পনার বিষয়ে জানতে চাই।

১৯৭৮ সালে ছয় বন্ধুর হাত ধরে ইউনাইটেড গ্রুপের যাত্রা শুরু হয়। আর গ্রুপের ব্যবসায় দ্বিতীয় প্রজন্মের অংশগ্রহণ শুরু হয় ১৫ বছর আগে। ২০০৫ সালে ইউনাইটেড পাওয়ারের পরিচালক হিসেবে দ্বিতীয় প্রজন্মের সদস্যদের মধ্যে সবার আগে আমাকে দায়িত্ব দেয়া হয়। এর পর থেকেই গ্রুপের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে দ্বিতীয় প্রজন্মের সদস্যরা আসতে থাকেন। ২০১১ সালে আমাকে গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দায়িত্ব দেয়া হয়। বর্তমানে গ্রুপের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বে রয়েছেন দ্বিতীয় প্রজন্মের ১১ জন। অনেক পারিবারিক ব্যবসায় প্রথম প্রজন্মের কাছ থেকে দ্বিতীয় প্রজন্মের কাছে কখন ও কীভাবে দায়িত্ব হস্তান্তর করা হবে এর কোনো সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা থাকে না। কিন্তু আমাদের প্রথম প্রজন্মের সদস্যরা সবকিছু আরো আগে থেকেই পরিকল্পনা করে রেখেছিলেন। সে পরিকল্পনা অনুসারেই তারা দ্বিতীয় প্রজন্মকে ব্যবসায় সম্পৃক্ত করে ধীরে ধীরে গড়ে তুলেছেন। যখন তারা মনে করেছেন যে দ্বিতীয় প্রজন্ম সক্ষমতা অর্জন করেছে, তখন তারা পর্যায়ক্রমে দায়িত্ব হস্তান্তর করেছেন। উন্নয়নমূলক কার্যক্রমের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট থাকাই আমাদের লক্ষ্য। আমরা দেশেই আমাদের ব্যবসাকে আরো বিস্তৃত করতে চাই। দেশের বাইরে আমাদের কোনো কার্যক্রম নেই। আমরা মনে করি দেশেই ব্যবসায় যথেষ্ট সুযোগ ও সম্ভাবনা রয়েছে। যথাসম্ভব ঋণ ছাড়াই ব্যবসা করার লক্ষ্য থাকবে আমাদের। ঋণের চাপে ভবিষ্যতে যাতে ব্যবসায় কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত চাপ তৈরি না হয় সে বিষয়ে আমরা সচেতন।

আমাদের পূর্বসূরিদের কিছু ব্যবসায়িক দর্শন ছিল, যেমন দেশকে অগ্রাধিকার দেয়া, কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা ও ঋণমুক্ত থাকা। তাদের এ দর্শন আমরাও ধারণ করেছি। প্রথম প্রজন্ম ট্রেডিং ব্যবসায় মনোনিবেশ করেছিলেন। আমরা সেবা খাতের পাশাপাশি রিয়েল এস্টেট, শিক্ষা ও হেলথকেয়ার ব্যবসায় জোর দিতে চাই। এর বাইরেও অন্য কোনো খাতের ব্যবসায় যথেষ্ট সম্ভাবনা দেখতে পেলে সেখানেও আমরা মনোনিবেশ করব। তবে যাই করি না কেন আমাদের লক্ষ্যই থাকবে যত বেশি সম্ভব নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা। অবশ্য ব্যবসার ক্ষেত্রে আমাদের বিচার-বিবেচনার ওপর প্রথম প্রজন্মের সদস্যদের আস্থা রয়েছে এবং তারা আমাদের স্বাধীনতাও দিয়েছেন। আর প্রয়োজনবোধে তারা তো রয়েছেনই পরামর্শের জন্য। ব্যবসার পাশাপাশি আমরা ইউনাটেড ট্রাস্টের কার্যক্রমকে এগিয়ে নেব।

একেবারে শূন্য থেকে শুরু করে বর্তমানে গ্রুপটিকে মহীরুহে পরিণত করেছেন প্রথম প্রজন্ম। এমন একটি কনগ্লোমারেটের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব নিয়ে কোনো চ্যালেঞ্জ অনুভব করছেন কি?

প্রকৃতপক্ষে যে ধরনের চ্যালেঞ্জ অনুভব করার কথা ছিল সেটি করছি না। এর কারণ হচ্ছে আজ থেকে ১৫ বছর আগে থেকেই আমাদের গড়ে তোলার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। আর প্রথম প্রজন্মের সদস্যরা ধাপে ধাপে আমাদের কাছে তাদের দায়িত্ব হস্তান্তর করেছেন। এতে গ্রুপের ব্যবসার খুটিনাটি সম্পর্কে আমরা জেনেছি ও বড় দায়িত্ব নেয়ার জন্য নিজেদের তৈরি করতে পেরেছি। প্রথম প্রজন্ম যখন ব্যবসা শুরু করেছিলেন তখন পরিস্থিতি ও সুযোগ-সুবিধা ছিল এক ধরনের। আর বর্তমানে তা অনেকটাই ভিন্ন। তাই এক্ষেত্রে কিছুটা চ্যালেঞ্জ তো রয়েছেই। তবে বিদ্যমান অবস্থান ধরে রাখার পাশাপাশি ভবিষ্যতে কীভাবে একে আরো সমৃদ্ধ করা যায়, সেটি নিয়েই আমাদের চিন্তাভাবনা। প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য তো অবশ্যই থাকবে, তবে ব্যবসা যাতে টেকসই থাকে সেটি সবার আগে নিশ্চিত করতে হবে। কভিড-১৯-পরবর্তী সময়ে ব্যবসায়িক পরিস্থিতিতে একটি পরিবর্তন আসবে। সেটি নিয়েও আমরা সচেতন রয়েছি।

কভিড-১৯-এর কারণে ব্যবসায়িক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। পরিস্থিতি আবার কবে স্বাভাবিক হবে, সে বিষয়ে কেউই সুনির্দিষ্ট কিছু বলতে পারছেন না। এ অবস্থায় ব্যবসার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা করাও কঠিন হয়ে পড়েছে।

এটা ঠিক যে সবকিছু নিয়ে এক ধরনের অনিশ্চতা তৈরি হয়েছে। তবে এর মধ্যেও আমাদের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে এগিয়ে যেতে হবে। কভিডের আগে আমাদের বিভিন্ন ধরনের ব্যবসায়িক পরিকল্পনা ছিল। রিটেইল ও সেবা খাতে বিনিয়োগের চিন্তাভাবনাও ছিল। কিন্তু কভিডের কারণে আমাদের অনেক পরিকল্পনায়ই পরিবর্তন আনতে হয়েছে। আমরা কিন্তু আগে কখনই অনলাইনে পণ্য সরবরাহ করার কথা চিন্তা করিনি। কিন্তু কভিডের কারণে আমাদের অনলাইন সেবা চালু করতে হয়েছে। আবার যেসব গ্রাহক আগে স্টোরে এসে পণ্য কিনতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করতেন তারাও কিন্তু এখন স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণে অনলাইনে পণ্য অর্ডার করছেন। কভিডের কারণে তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার বেড়েছে। এতদিন যাদের টেকফোবিয়া ছিল, তারাও এখন বাধ্য হয়ে প্রযুক্তিনির্ভর হচ্ছেন। ফলে সামনের দিনগুলোতে ব্যবসায় তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার আরো বাড়বে। আমরা সেভাবেই নিজেদের প্রস্তুত করছি। ইউনাইটেড হাসপাতাল, ইউনিমার্ট ও ওয়েলবিং ফার্মেসির জন্য তিনটি আলাদা অ্যাপ চালু করেছি। কভিড পরিস্থিতি সত্ত্বেও সেবা খাতের ব্যবসায় সামনের দিনগুলোতে আমরা সম্ভাবনা দেখছি। অবশ্য বিদ্যমান পরিস্থিতিতে সাপ্লাই চেইন সিস্টেম ঠিক রাখাটা একটি চ্যালেঞ্জ। এক্ষেত্রে অনেক সময় সমস্যায় পড়তে হয়। এছাড়া অটোমেশনে গুরুত্ব দেয়ায় কিছু ক্ষেত্রে কর্মীর চাহিদা হ্রাস পাবে ও আধা দক্ষ কর্মীদের অনেকেই হয়তো কর্মহীন হয়ে পড়বেন। সবকিছু মিলিয়ে একটি অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। তবে আমি আশাবাদী যে সবাই মিলে কভিডের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে সক্ষম হব। আগে যেভাবে আমরা ডায়রিয়া, ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়াকে মোকাবেলা করেছি, একইভাবে কভিড সংকটও কাটিয়ে উঠতে পারব। প্রথমদিকে মানুষের মধ্যে ভয় ও আতঙ্ক কাজ করলেও ধীরে ধীরে মানুষ মানিয়ে নিতে শুরু করেছে। ঝুঁকির সঙ্গে মানিয়ে নিয়েই সামনে এগিয়ে যেতে হবে তা অনেকেই এখন অনুধাবন করতে পারছেন।

ইউনাইটেড গ্রুপের ব্যবসায় কভিড-১৯-এর কী প্রভাব পড়েছে?

কভিডের কারণে আমাদের স্পিনিং মিলের ব্যবসায় নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। তবে সেবা খাতের ব্যবসায় খুব বেশি প্রভাব পড়েনি। বিদ্যুৎ, হাসপাতাল ও রিটেইল ব্যবসায় প্রবৃদ্ধি না হলেও রাজস্ব আয় খুব বেশি কমেনি। আর পোর্টের ব্যবসায় তো এ সময়েও আমাদের ভালো মুনাফা হয়েছে। মূলত রোহিঙ্গা সংকটের কারণে মিয়ানমারের সঙ্গে সীমান্ত এলাকায় নজরদারি আগের তুলনায় অনেক বেড়েছে। এ কারণে পোর্টের মাধ্যমে বৈধ চ্যানেলে লেনদেন বেড়েছে। এতে স্বাভাবিকভাবেই আমাদের পোর্টের ব্যবসা বেড়ে গেছে। কভিড সংকটের মধ্যেও এখন পর্যন্ত আমরা কর্মীদের আগের মতো বেতন-ভাতা দিতে পেরেছি।

কভিডের কারণে কর্মহীন হয়ে পড়ার ঝুঁকির কথা বলছেন। এতে সার্বিকভাবে অর্থনীতিতেও একটি নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণের উপায় কী?

সাময়িকভাবে অনেকে কর্মহীন হয়ে পড়বেন এটা ঠিক। কিন্তু এর বিপরীতে আমাদের জন্য অনেক সুযোগও তৈরি হবে। যেমন চীন থেকে এখন অনেকেই অন্যান্য দেশে কারখানা স্থানান্তর করছেন। ভবিষ্যতে বাংলাদেশেও অনেক কারখানা স্থানান্তরের সুযোগ রয়েছে। এতে করে কিন্তু নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হবে। এক্ষেত্রে সরকারের সক্রিয় ভূমিকার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ।

চীন থেকে এরই মধ্যে যেসব কারখানা স্থানান্তরের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে সেগুলোর অধিকাংশেরই গন্তব্য ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ড ও ইন্দোনেশিয়া। বিদেশী বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার ক্ষেত্রে আমরা এসব দেশের তুলনায় অনেক পিছিয়ে রয়েছি। এমনকি মিয়ানমারও এক্ষেত্রে আমাদের থেকে এগিয়ে। এক্ষেত্রে বাংলাদেশের ঘাটতি কোথায়?

অবকাঠামোর ক্ষেত্রে আমার এসব দেশের তুলনায় পিছিয়ে রয়েছি। নিয়ন্ত্রণ কাঠামো আরো বেশি সহজ করার প্রয়োজন রয়েছে। গভীর সমুদ্রবন্দর সুবিধার অপ্রতুলতাও অন্যতম একটি কারণ। সবকিছু মিলিয়ে ব্যবসা সহজীকরণ সূচকে আমাদের কিছুটা উন্নতি হলেও এখনো অনেক প্রতিযোগী দেশের তুলনায় পিছিয়ে আছি। এসব জায়গায় আমাদের আরো উন্নতি করতে হবে।

কভিড-১৯-এর কারণে বিশ্বব্যাপী স্বাস্থ্য খাতের সক্ষমতার বিষয়টি সবচেয়ে বেশি আলোচিত হচ্ছে। আমাদের দেশে প্রয়োজনের তুলনায় স্বাস্থ্যসেবা বেশ অপ্রতুল। কভিড পরিস্থিতিতে বিষয়টি আরো প্রকটভাবে অনুভূত হচ্ছে। স্বাস্থ্য খাতে ইউনাইটেড গ্রুপের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। বর্তমানের এ সংকটকে আপনি কীভাবে দেখছেন?

কভিড-১৯-এর শুরু থেকেই ইউনাইটেড গ্রুপ সেবা দেয়ার চেষ্টা করেছে। স্বাস্থ্যসেবাই বর্তমানে আমাদের মূল ফোকাস। তবে মাঝখানে একটি দুর্ঘটনার কারণে আমাদের পিছিয়ে যেতে হয়েছে। এতে একটি বিষয় প্রমাণিত হয়েছে যে স্বাস্থ্য খাতে তাড়াহুড়া করে কাজ করা সম্ভব নয়। ইউনাইটেড হাসপাতালে এখন পর্যন্ত ২৮০ জন কভিড-১৯-এ আক্রান্ত রোগীকে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে ১৭৫ জনের মতো সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছে। আইসিইউ এমনকি ভেন্টিলেটর দেয়া দুজন রোগীও সুস্থ হয়েছে। শুরুর দিকে চিকিৎসকরা কিছুটা অপ্রস্তুত ছিলেন। কিন্তু এই কয়েক মাসের অভিজ্ঞতায় তারা আত্মবিশ্বাস ফিরে পেয়েছেন। আমাদের দেশের স্বাস্থ্য খাতে সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে চাহিদা ও জোগানের মধ্যে বিশাল ঘাটতি। আমাদের বর্তমানে ৫০ হাজারের মতো নার্স ও এক লাখ চিকিৎসক রয়েছেন। অথচ প্রয়োজন আরো বেশি। আর তাই কোনো নার্স বা চিকিৎসক দায়িত্বে অবহেলা করলেও তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার আগে দ্বিতীয়বার চিন্তা করতে হচ্ছে। এজন্য সবার আগে চিকিৎসক ও নার্সের সংখ্যা বাড়াতে হবে। মেডিকেলে পড়াশোনার ব্যয় কমিয়ে সবার নাগালের মধ্যে নিয়ে আসতে হবে। প্রয়োজনে বিদেশ থেকে চিকিৎসাবিদ্যায় অভিজ্ঞ শিক্ষক নিয়ে আসতে হবে। যখন সংখ্যার দিক দিয়ে আমার উন্নতি করতে পারব তখন গুণগত মানের বিষয়ে নজর দেয়া সম্ভব হবে।

অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায় রোগীদের মধ্যে হাসপাতাল ও চিকিৎসকের বিষয়ে আস্থার সংকট রয়েছে। এটি দূর করতে করণীয় কী?

এক্ষেত্রে চিকিৎসক ও নার্সের সংখ্যা বাড়ানোর কোনো বিকল্প নেই। বাইরের দেশের চিকিৎসকদের রোগীদের সঙ্গে যোগাযোগ দক্ষতা অনেক ভালো। আমাদের দেশের চিকিৎসকদের এক্ষেত্রে ঘাটতি রয়েছে। এটি দূর করতে হবে। শহরের বাইরে প্রত্যন্ত অঞ্চলে চিকিৎসকরা যাতে কাজ করতে উৎসাহী হন, সেজন্য শহর ও গ্রামের ক্ষেত্রে আলাদা প্রণোদনা ঘোষণা করা যেতে পারে। আমরা জামালপুরে একটি ২০০ শয্যার হাসপাতাল করেছি। এর ৪০ শতাংশ রোগীদের কাছ থেকে চিকিৎসার জন্য অর্থ নেয়া হবে। আর এ অর্থ দিয়ে বাকি ৬০ শতাংশ রোগীকে বিনা মূল্যে চিকিৎসা দেয়া হবে। এ মডেলের মাধ্যমে ভালো চিকিৎসকদের আকৃষ্ট করতে পারব বলে আমাদের প্রত্যাশা। সমালোচনা থাকলেও সময়ের পরিক্রমায় আমাদের চিকিৎসা ব্যবস্থার কিন্তু উন্নতি হয়েছে। বর্তমানে ক্যান্সার, হার্ট, কিডনি ও নিউরোসার্জারির মতো জটিল রোগের উন্নত চিকিৎসা দেশেই পাওয়া যাচ্ছে। এটি এখন থেকে ১৫ বছর আগেও অপ্রতুলই ছিল। গণমাধ্যমের প্রতি আমার অনুরোধ থাকবে যেসব ক্ষেত্রে ত্রুটিবিচ্যুতি হয়, সেগুলো অবশ্যই তুলে ধরতে হবে। পাশাপাশি স্বাস্থ্য খাতের যেসব ইতিবাচক দিক রয়েছে সেগুলোকেও তুলে আনতে হবে। তাহলে এ খাতের প্রতি মানুষের আস্থা বাড়বে।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন