শনিবার | আগস্ট ০৮, ২০২০ | ২৪ শ্রাবণ ১৪২৭

টকিজ

মহামারীর সিনেমা: কেবিন ফিবার

দুর্গম বনে ভাইরাসের হানা

ফিচার ডেস্ক

জঙ্গলে নির্জনে বসবাসকারী এক ব্যক্তি হঠাৎ আবিষ্কার করে তার কুকুরটি অজানা রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে। একদিন সেই জঙ্গলেরই এক নির্জন ভিলায় পাঁচজন তরুণ-তরুণী পল, ক্যারেন, বার্ট, জেফ আর মার্সি তাদের এক সপ্তাহের ছুটি কাটাতে যায়। জঙ্গলে প্রবেশের আগে দোকান থেকে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কেনার সময় দোকানদারের বুদ্ধি-প্রতিবন্ধী শিশুটি পলকে হঠাৎ কামড়ে দেয়। আর জঙ্গলে বার্ট যখন ঘুরতে যায়, তখন সেই নির্জনে বসবাসকারী ব্যক্তির সম্মুখীন হয়। কিছুক্ষণ পরেই বুঝতে পারে সেই ব্যক্তিটি আসলে একটি রোগে আক্রান্ত। বার্ট তাকে আক্রমণ করতে গেলে সে পালিয়ে যায়। বার্ট ঘটনাটি বন্ধুদের কাছে গোপন করে।

পাঁচ বন্ধুর এমন জঙ্গলে এক সপ্তাহের ছুটি কাটানোর গল্পকে অবলম্বন করে গড়ে উঠেছে কেবিন ফিবার চলচ্চিত্রটির কাহিনী। ২০১৬ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ছবিটি মূলত ২০০২ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত একই নামের চলচ্চিত্রটির পুনর্নির্মাণ। হরর ঘরানার ছবিতে একটি অজানা রোগের কারণে মানুষের অতিমাত্রায় অসুস্থ হয়ে পড়া পরে জম্বি হয়ে ওঠার গল্প বর্ণনা করা হয়েছে।

ছবির গল্পে দেখা যায়, সন্ধ্যায় যখন সবাই মিলে বনফায়ার করছিল, তখন একজন অজানা ব্যক্তি সেখানে তার কুকুর নিয়ে উপস্থিত হয়। ব্যক্তিটি নিজেকে গ্রিম আর কুকুরকে . ম্যাম্বো বলে পরিচয় করিয়ে দেয়। অজানা ব্যক্তিকে নিয়ে সবাই অস্বস্তিতে পড়লেও যখন সে সবাইকে মাদক দেখায়, তখন তাকে আশ্রয় দেয় তারা। কিন্তু দুর্ভাগ্যক্রমে সে রাতেই জঙ্গলে বসবাস করা সে অসুস্থ ব্যক্তি ভিলায় আক্রমণ করে বসে। সবাই মিলে তাকে প্রতিহত করে এবং তার শরীরে আগুন ধরে যায়। কিন্তু দুর্ভাগ্যক্রমে তাদের একমাত্র গাড়িটিও আগুনে পুড়ে যায়।


পরদিন জেফ আর বার্ট সাহায্যের জন্য যায়। সময় পুলিশ অফিসার উইনস্টনের সঙ্গে তাদের দেখা হয়। তিনি ভিলায় আসেন পুরো ঘটনার তদন্ত করতে। পুলিশ সব শুনে তাদের একটি গাড়ি পাঠিয়ে দেবেন বলে নিশ্চয়তা দেন। ঠিক তখনই . ম্যাম্বো নামের কুকুরটি সেখানে উপস্থিত হয়। তবে তার মালিক তার সঙ্গে ছিল না আর কুকুরটিও আক্রান্ত হয়েছে সেই অজানা ভাইরাসে।

পরদিন পল আর ক্যারেন যখন একসঙ্গে সময় কাটাচ্ছিল, হঠাৎ তারা বুঝতে পারে সেই একই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে ক্যারেনও। সঙ্গে সঙ্গে তারা ক্যারেনকে একটি রুমে বন্ধ করে রাখে। পল সাহায্য খুঁজতে যায়। বাকিরাও প্রস্তুতি নেয় ভিলা ছাড়ার। তবে তখনই ঘটে বিপত্তি, মার্সি আবিষ্কার করে সেও আক্রান্ত হয়েছে একই ভাইরাসে। চোখ-মুখ দিয়ে রক্ত বেরোচ্ছে শুধু। এরপর একে একে সবাই অসুস্থ হওয়া শুরু হয়। সাহায্য করার মতো পুলিশ অফিসার উইনস্টনও অনেক দূরে।

৯৮ মিনিট দৈর্ঘ্যের ছবিটি পরিচালনা করেন ট্রেভিস জেড। ছবিতে বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেন স্যামুয়েল ডেভিস (পল), গেজ গলিংটলি (ক্যারেন), ম্যাথু দাড্যারিও (জেফ), ন্যাদিন ক্রোকার (মার্সি), ডাস্টিন ইনগ্রাম (বার্ট) লুইস লিনটন (উইনস্টন) ২০১৬ সালের ছবিটি দর্শক সমালোচকদের কাছ থেকে নেতিবাচক মন্তব্য পেলেও ২০০২ সালে এলি রোথের লেখা পরিচালনায় মূল ছবিটি প্রশংসিত হয়েছিল।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন