মঙ্গলবার | আগস্ট ১১, ২০২০ | ২৭ শ্রাবণ ১৪২৭

শেয়ারবাজার

স্টার্টআপ ও ভেঞ্চার ক্যাপিটাল ইকোসিস্টেম উন্নয়নে সহায়তা করবে বিএসইসি

নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের ভেঞ্চার ক্যাপিটাল, প্রাইভেট ইকুইটি এবং স্টার্টআপ ইকোসিস্টেমকে শক্তিশালী করতে নীতিগত সহায়তা দিবে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। গতকাল ভেঞ্চার ক্যাপিটাল অ্যান্ড প্রাইভেট ইকুইটি অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ভিসিপিয়াব) প্রতিনিধিদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত ভিডিও কনফারেন্সে এ কথা জানান বিএসইসির চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াতুল ইসলাম।

বৈঠকে বিএসইসি চেয়ারম্যান বলেন, দেশের বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সহজ করা ও স্বচ্ছতা আনতে বিএসইসি নিয়মিতভাবে কাজ করে যাচ্ছে। ভেঞ্চার ক্যাপিটাল ও প্রইভেট ইকুইটি এন্টারপ্রাইজের জন্য প্রয়োজনীয় নীতিগত পরিবর্তনগুলো অবশ্যই সম্পন্ন করা হবে।

ভিসিপিয়াব সভাপতি শামীম আহসান নীতিগত সহায়তার মাধ্যমে ভেঞ্চার ক্যাপিটাল ও প্রাইভেট ইকুইটি খাতের জন্য সহায়ক সুযোগ বৃদ্ধির দাবি করে বলেন, এর মাধ্যমে এই খাত দেশের উদ্ভাবনী স্টার্টআপে বিনিয়োগ করে অর্থনীতিতে ভূমিকা রাখতে পরবে। এসব স্টার্টআপ এমন একটি ইকোসিস্টেম তৈরি করতে পারবে যা ২০২৫ সাল নাগাদ বাংলাদেশের জিডিপিতে ২ শতাংশ পর্যন্ত অবদান রাখতে পারবে। গুগল, ফেসবুকের মতো বিশ্বের সফল কোম্পানিগুলো শুধুমাত্র তাদের প্রতিষ্ঠাতাদের জন্য সফল হয়নি। এক্ষেত্রে এসব প্রতিষ্ঠান স্টার্টআপ থাকাকালীন ভেঞ্চার ক্যাপিটাল বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান যেমন সিকুইয়া ক্যাপিটাল, অ্যাক্সেল পার্টনারস, গ্রেলক পার্টনারসহ অন্যান্যদের ভূমিকা রয়েছে। একইভাবে, দেশের সেরা কোম্পানিগুলো ভেঞ্চার ক্যাপিটাল ও প্রাইভেট ইকুইটি ফান্ডের বিনিয়োগের মাধ্যমে সফল হবে।

বিএসইসি কমিশনার অধ্যাপক ড. শেখ শামসউদ্দিন আহমেদ জানান তারা দেশে স্টার্টআপ ও ভেঞ্চার ক্যাপিটাল খাতের উন্নয়নে প্রয়োজনীয় সব ধরণের সহায়তা করবেন।

ভিসিপিয়াব সাধারণ সম্পাদক শওকত হোসেন ভেঞ্চার ক্যাপিটাল ও প্রাইভেট ইকুইটি খাতের উন্নয়নে প্রয়োজনীয় নীতিগত পরিবর্তনের বিষয়গুলো নিয়ে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন কালে বলেন, আমরা দেখতে পেয়েছি আমাদের বর্তমান নীতিগুলো বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় অনেক পিছিয়ে রয়েছে। ভিসিপিয়াবের পক্ষ থেকে আমরা সেগুলো পরিবর্তনের মাধ্যমে সময়োপযোগী করার প্রস্তাব দিচ্ছি, যা স্থানীয় স্টার্টআপ তৈরিতে এই খাতকে সহায়তা করবে।

আইডিএলসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও ভিসিপিয়াব সদস্য আরিফ খান বিশ্বের বিভিন্ন দেশের উদাহরণ দিয়ে বলেন, স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক উভয় বিনিয়োগকারীদের জন্য বিনিয়োগ পরিবেশ সহায়ক করতে হবে। বিনিয়োগ ও বিনিয়োগ প্রত্যাহারের কৌশল নির্ধারণ করতে হবে। এতে দীর্ঘস্থায়ী বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি হবে।

ভিসিপিয়াব পরিচালক ও মসলিন ক্যাপিটাল লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ওয়ালিউল মারুফ মতিন বলেন, বড় ধরণের কিছু নীতিমালার অভাব এবং যথাযথভাবে বিনিয়োগ করার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা রয়েছে। ফান্ড ম্যানেজারদের জন্য এসব নীতিমালা আরও বিনিয়োগবান্ধব করা জরুরি।

বৈঠকে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিডি ভেঞ্চার লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শফিক-উল-আজম, সিফ বাংলাদেশ ভেঞ্চারস এলএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক আসিফ মাহমুদ, অ্যালায়েন্স ক্যাপিটাল অ্যাসেট লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও খন্দকার আসাদুল ইসলাম, লংকা বাংলা অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মাসুম আলী, ইমপ্রেস ক্যাপিটাল লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও মীর সাজেদ-উল-বাশার, অ্যাথেনা ভেঞ্চার অ্যান্ড ইকুইটি লিমিটেডের প্রধান বিনিয়োগ কর্মকর্তা মাহাদী হাসান ও বাংলাদেশে ভেঞ্চার লিমিটেডের ইনভেস্টমেন্ট অ্যাসোসিয়েট আনোয়ার জাহিদ।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন