মঙ্গলবার | আগস্ট ১১, ২০২০ | ২৭ শ্রাবণ ১৪২৭

আন্তর্জাতিক খবর

আদালতের রায়ে পিছু হটলেন ট্রাম্প, যুক্তরাষ্ট্রেই থাকবেন বিদেশী শিক্ষার্থীরা

বণিক বার্তা ডেস্ক

করোনাভাইরাস মহামারীর কারণে বিদেশী শিক্ষার্থীদের জন্য সব কোর্স অনলাইনভিত্তিক করেছে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো। যেসব শিক্ষার্থী এই অনলাইন কোর্সের সুবিধা নিচ্ছেন তাদের যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিতাড়নের পরিকল্পনা করছিল ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। তবে সেই পরিকল্পনা থেকে পিছু হটলো সরকার।

গত সোমবার (১৩ জুলাই) পরিকল্পনার ঘোষণা দেয়ার এক সপ্তাহ পরই এ থেকে ইউটার্ন করল ট্রাম্প প্রশাসন। মূলত ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (এমআইটি) এবং হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটি সরকারের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে আদালতে যায়। রায় বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষেই আসে। এতে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন লাখ লাখ বিদেশী শিক্ষার্থী। 

ম্যাসাচুসেটসের জেলা জজ অ্যালিসন বারো জানান, পক্ষগুলো বিবদমান বিষয়টি নিয়ে নিষ্পত্তিতে রাজি হয়েছে। এ চুক্তি গত মার্চ মাসের পরিকল্পনাকেই পুনর্বহাল করবে। তখন বলা হয়েছিল, কভিড-১৯ মহামারীর কারণে বিদেশী শিক্ষার্থীরা প্রয়োজনে ভার্চুয়াল ক্লাসে অংশগ্রহণ করবেন এবং তারা স্টুডেন্ট ভিসায় বৈধভাবেই যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করতে পারবেন। 

প্রচুরসংখ্যক বিদেশী শিক্ষার্থী প্রতি বছর যুক্তরাষ্ট্রে পড়তে যান এবং এসব শিক্ষার্থী যুক্তরাষ্ট্রের রাজস্বের বিরাট একটি উৎস। অলাভজনক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘ইন্টারন্যাশনাল এডুকেশন’ এর তথ্যমতে, ২০১৮ সালে চীন, ভারত ও দক্ষিণ কোরিয়ার শিক্ষার্থীরা যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে অবদান রেখেছে ২৫ বিলিয়ন বা আড়াই হাজার ডলার।  

গত সোমবার সরকার এক ঘোষণায় জানায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠদান শুধুই অনলাইন-ভিত্তিক হয়ে গেলে ১০ লাখেরও বেশি বিদেশী শিক্ষার্থীকে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়তে হবে। যারা স্বেচ্ছায় যাবে না, তাদের যুক্তরাষ্ট্র ছাড়তে বাধ্য করা হবে। যদিও এখন আর এদের যুক্তরাষ্ট্র ছাড়তে হবে না। 

যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশী শিক্ষার্থীদের মধ্যে অর্ধেকই এশিয়ার। এর মধ্যে আবার সবচেয়ে বেশি চীনের। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে রাজনৈতিকভাবে বৈরী এ দেশের ৩ লাখ ৭০ হাজার শিক্ষার্থী ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষে যুক্তরাষ্ট্রে ভর্তি হয়েছেন। এ সময় ভারত থেকে ২ লাখ ২ হাজার, দক্ষিণ কোরিয়া থেকে ৫২ হাজার, সৌদি আরব থেকে ৩৭ হাজার, কানাডা থেকে ২৬ হাজার, ভিয়েতনাম থেকে ২৪ হাজার, তাইওয়ান থেকে ২৩ হাজার, জাপান থেকে ১৮ হাজার, ব্রাজিল থেকে ১৬ হাজার ও মেক্সিকো থেকে ১৫ হাজার শিক্ষার্থী ভর্তি হয়। এর মধ্যে বাংলাদেশী শিক্ষার্থীও রয়েছেন।

সূত্র: বিবিসি ও সিএনএন

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন