রবিবার | আগস্ট ০৯, ২০২০ | ২৫ শ্রাবণ ১৪২৭

শিল্প বাণিজ্য

অর্থনীতি টিকিয়ে রাখতে তারল্য সংকট নিয়ে কাজ করবে বিএলএফসিএ

নিজস্ব প্রতিবেদক

চলমান নভেল করোনাভাইরাসের (কভিড-১৯) ফলে সৃষ্ট সংকটের মধ্যে দেশের অর্থনীতিকে ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য তারল্য সংকট সংস্থান, অভ্যন্তরীণ সামর্থ্য এবং দেশের বন্ড মার্কেট বৃদ্ধির জন্য ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো (এনবিএফআই) আরো এগিয়ে আসবে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ লিজিং অ্যান্ড ফিন্যান্স কোম্পানিজ অ্যাসোসিয়েশনের (বিএলএফসিএ) নেতারা। আগামী দুই বছরের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে গতকাল বিএলএফসিএর নবনিযুক্ত কমিটির সদস্যদের নিয়ে প্রথম অনলাইন সংবাদ সম্মেলনে এমনটি বলা হয়েছে।

আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সাফল্য তুলে ধরে সংবাদ সম্মেলনে বিএলএফসিএর চেয়ারম্যান আইপিডিসি ফিন্যান্স লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মমিনুল ইসলাম বলেন, দেশের অর্থনৈতিক সামাজিক উন্নয়নে কয়েক বছর ধরে অবদান রেখে চলছে এনবিএফআইয়ের প্রতিষ্ঠানগুলো। বর্তমানে আমাদের ৩৩ আর্থিক প্রতিষ্ঠান রয়েছে, যার মধ্যে সারা দেশে ২৭৬ শাখায় হাজার ৩৫৮ জন কর্মকর্তাসহ লাখ ৫৫ হাজার গ্রাহক রয়েছেন। আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ডিসেম্বর ২০১৯ ভিত্তিক ঋণের স্থিতি ৬৭ হাজার কোটি টাকার ওপরে। এর বেশির ভাগ মেয়াদি শিল্প ঋণ, এসএমই ঋণ এবং আবাসন খাতে বিতরণের মাধ্যমে বছরে এক লাখেরও বেশি নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হচ্ছে।

তিনি বলেন, বর্তমানে দেখা যায় আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মূলধনের সামর্থ্য ১৬ দশমিক শতাংশ। সেখানে ব্যাংকিং খাতের মূলধনের সামর্থ্য ১১ দশমিক শতাংশ। এছাড়া তাদের চেয়ে প্রবৃদ্ধির দিক দিয়েও শতাংশ এগিয়ে রয়েছে নন-ব্যাংক বা ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান।

সংবাদ সম্মেলনে বিএলএফসিএর কার্যনির্বাহী সদস্য আইডিএলসি ফিন্যান্স লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) এবং প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) আরিফ খান বলেন, সরকারি ট্রেজারি বিলের হার বেশি থাকায় বেসরকারি আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোয় কেউ ইনভেস্ট করতে চায় না। এজন্য বন্ড মার্কেট বৃদ্ধি করার জন্য সরকারকে মিউচুয়াল ফান্ডের দিকে বেশি নজর দিতে হবে। দেশে বন্ড মার্কেটে উন্নয়ন হলে ব্যাংকিং খাতেরও উন্নয়ন হবে।

আগামী দুই বছরের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে বিএলএফসিএর ভাইস চেয়ারম্যান আইআইডিএফসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) গোলাম সারওয়ার ভূঁইয়া বলেন, দেশের মধ্যে নন-ব্যাংক বা ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরো এগিয়ে নিতে আমরা সেক্টরে থাকা সব কর্মীর দক্ষতার জন্য বিভিন্ন কর্মশালা, সরকারের সঙ্গে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো দূরত্ব কমানো, আইসিটিভিত্তিক উন্নয়ন এবং বন্ড মার্কেট বৃদ্ধির জন্য বাংলাদেশে ব্যাংক সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে চলেছি।

বিএলএফসিএর ভাইস চেয়ারম্যান ইসলামিক ফিন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) এবং প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) আবু জাফর মো. সালেহ বলেন, দেশের উন্নয়নের জন্য প্রতিটি সেক্টরের কাজ নিয়মনীতি ভাগ করে দেয়া প্রয়োজন। প্রতিটি সেক্টর যদি একই কাজ করে তাহলে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে বড় ধরনের বাধা আসবে। এছাড়া দেশের নন-ব্যাংকিং আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো প্রতিটি সেক্টরে এগিয়ে যাচ্ছে।

দেশের নন-ব্যাংকিং আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো ব্যাংকের প্রতিযোগী হতে চায় না উল্লেখ করে সংবাদ সম্মেলনে বিএলএফসিএর কার্যনির্বাহী সদস্য উত্তরা ফিন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্টস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) এসএম শামসুল আরেফিন বলেন, আমরা তাদের (ব্যাংকের) সহযোগী হয়ে অর্থনৈতিক সামাজিক উন্নয়নে অবদান রাখতে চাই। ব্যাংকিং খাতগুলোর চেয়ে আমাদের সাভির্সগুলো অনেকটাই সহজ। এক্ষেত্রে গ্রাহকরা বিড়ম্বনায় না পড়ে সহজেই লোন সুবিধা পেয়ে থাকেন।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন