বৃহস্পতিবার | আগস্ট ০৬, ২০২০ | ২২ শ্রাবণ ১৪২৭

পণ্যবাজার

উত্থান-পতনে এশিয়ার চালের বাজার

বণিক বার্তা ডেস্ক

সবচেয়ে বেশি চাল উৎপাদন হয় এশিয়ার দেশগুলোয়। খাদ্যপণ্যটির রফতানিতেও অঞ্চলের দেশগুলো এগিয়ে রয়েছে। স্বাভাবিকভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে চালের দামের উত্থান-পতনে ভারত, থাইল্যান্ড ভিয়েতনামের মতো এশিয়ার দেশগুলো গুরুত্বপূর্ণ প্রভাবক হিসেবে কাজ করে। গত সপ্তাহে ভারত ভিয়েতনামের বাজারে চালের দাম আগের তুলনায় বেড়েছে। উল্টোচিত্র বজায় ছিল থাইল্যান্ডে। এশিয়ার বাজারে খাদ্যপণ্যটির দাম নিয়ে এবারের আয়োজন

ভারত

বিশ্বের দ্বিতীয় শীর্ষ চাল উৎপাদনকারী দেশ ভারত। তবে খাদ্যপণ্যটির বৈশ্বিক রফতানিকারকদের তালিকায় দেশটি শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে। সর্বশেষ সপ্তাহে ভারতের বাজারে রফতানিযোগ্য শতাংশ ভাঙা চালের দাম আগের তুলনায় বেড়েছে। সময় প্রতি টন শতাংশ ভাঙা চাল মানভেদে ৩৭৭-৩৮২ ডলারে বিক্রি হয়েছে, যা আগের সপ্তাহের তুলনায় টনপ্রতি ডলার বেশি। এর আগের সপ্তাহে প্রতি টন শতাংশ ভাঙা চাল মানভেদে ৩৭৩-৩৭৮ ডলারে বিক্রি হয়েছিল।

ভারত থেকে রফতানি হওয়া চালের অন্যতম প্রধান গন্তব্য আফ্রিকার দেশগুলো। করোনা মহামারীর মধ্যেও আফ্রিকার দেশগুলোয় ভারত থেকে রফতানি হওয়া চালের চাহিদা বেড়েছে। এর প্রভাব পড়েছে ভারতের চালের বাজারে। দক্ষিণাঞ্চলীয় রাজ্য অন্ধ্রপ্রদেশের রফতানিকারকরা বলেন, আফ্রিকার দেশগুলো থেকে একের পর এক চালের আমদানি অর্ডার আসছে। লকডাউন পরিস্থিতিও আগের তুলনায় স্বাভাবিক হয়ে আসায় শ্রমিক পরিবহন সংকট কাটানো গেছে। সব মিলিয়ে চালের রফতানি বাজারে খুব ভালো পরিবেশ বিরাজ করছে। এর জের ধরে খাদ্যপণ্যটির রফতানিমূল্য বাড়তে শুরু করেছে। একই সঙ্গে মুদ্রাবাজারে মার্কিন ডলারের বিপরীতে ভারতীয় রুপির চাঙ্গা ভাব রফতানিযোগ্য চালের দাম বাড়াতে প্রভাবক হিসেবে কাজ করেছে।

থাইল্যান্ড

বিশ্বের বুকে চাল উৎপাদনকারী দেশগুলোর শীর্ষ তালিকায় থাইল্যান্ডের অবস্থান ছয়। তবে উৎপাদনে কিছুটা পিছিয়ে থাকলেও খাদ্যপণ্যটি রফতানিতে দেশটির অবস্থান একদম সামনের সারিতে। থাইল্যান্ড বিশ্বের দ্বিতীয় শীর্ষ চাল রফতানিকারক দেশ। সর্বশেষ সপ্তাহে দেশটির বাজারে রফতানিযোগ্য শতাংশ ভাঙা চালের দাম আগের তুলনায় কমেছে। সময় প্রতি টন শতাংশ ভাঙা চাল মানভেদে ৪৫৫-৪৮৫ ডলারে বিক্রি হয়েছে, যা আগের সপ্তাহের তুলনায় টনপ্রতি সর্বোচ্চ ৫৯ ডলার কম। এর আগের সপ্তাহে প্রতি টন শতাংশ ভাঙা চাল মানভেদে ৫১৪-৫২০ ডলারে বিক্রি হয়েছিল। এর মধ্য দিয়ে দেশটির বাজারে রফতানিযোগ্য চালের দাম গত চার মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন অবস্থানে নেমে এসেছে।

ব্যাংককভিত্তিক রফতানিকারকরা জানান, থাইল্যান্ডের বাজারে চালের দরপতনের প্রধান কারণ চাহিদায় শ্লথতা। করোনা মহামারীর মধ্যে ভারতে চালের রফতানি চাহিদা যেমন বেড়েছে, থাইল্যান্ডে তেমন বাড়েনি। এর জের ধরে দেশটির বাজারে রফতানিযোগ্য শতাংশ ভাঙা চালের দাম কমতে শুরু করেছে। একই সঙ্গে মুদ্রাবাজারে মার্কিন ডলারের বিপরীতে থাই বাথের মন্দা ভাব দেশটিতে রফতানিযোগ্য চালের দাম কমাতে প্রভাবক হিসেবে কাজ করেছে। বর্তমানে ডলারের বিপরীতে বাথের মান এক মাসের মধ্যে সর্বনিম্নে অবস্থান করছে।

ভিয়েতনাম

চাল উৎপাদনকারী দেশগুলোর বৈশ্বিক শীর্ষ তালিকায় পঞ্চম অবস্থানে রয়েছে ভিয়েতনাম। তবে খাদ্যপণ্যটির রফতানিকারকদের বৈশ্বিক তালিকায় তৃতীয় শীর্ষ অবস্থান দেশটির। সর্বশেষ সপ্তাহে দেশটির বাজারে রফতানিযোগ্য শতাংশ ভাঙা চালের দাম আগের তুলনায় বেড়েছে। সময় প্রতি টন শতাংশ ভাঙা চাল মানভেদে ৪২৫-৪৫৭ ডলারে বিক্রি হয়েছে, যা আগের সপ্তাহের তুলনায় টনপ্রতি সর্বোচ্চ ১০ ডলার বেশি। এর আগের সপ্তাহে প্রতি টন শতাংশ ভাঙা চাল মানভেদে ৪১৫-৪৫০ ডলারে বিক্রি হয়েছিল। এর মধ্য দিয়ে দেশটির বাজারে রফতানিযোগ্য চালের দাম গত তিন সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ অবস্থানে উন্নীত হয়েছে।

বাড়তি রফতানি দেশটিতে চালের দাম বাড়িয়েছে। ভিয়েতনামের কৃষি পল্লী উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের এগ্রো প্রসেসিং অ্যান্ড মার্কেট ডেভেলপমেন্ট অথরিটির তথ্য অনুযায়ী, ২০২০ সালের প্রথম থেকে জুনের শেষ পর্যন্ত ছয় মাসে ভিয়েতনাম থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে সব মিলিয়ে ৩৫ লাখ টন চাল রফতানি হয়েছে, আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় যা দশমিক শতাংশ বেশি। সময়ে চাল রফতানি থেকে দেশটির আয় হয়েছে ১৭১ কোটি ডলার। আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় খাতে দেশটির আয় বেড়েছে ১৭ দশমিক শতাংশ।

বিজনেস রেকর্ডার রয়টার্স

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন