বৃহস্পতিবার | আগস্ট ০৬, ২০২০ | ২১ শ্রাবণ ১৪২৭

শেষ পাতা

মানবসম্পদ মূল্যায়ন কমিটির প্রতিবেদন

ডিএসইতে প্রয়োজনের অতিরিক্ত ১৪২ জন কর্মী

নিজস্ব প্রতিবেদক

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) বর্তমানে ১৪২ জন কর্মী প্রয়োজনের চেয়ে বেশি রয়েছেন। তাদের তেমন কোনো উল্লেখযোগ্য দায়িত্ব নেই। অন্যদিকে এক্সচেঞ্জটির প্রধান অর্থ কর্মকর্তা (সিএফও) প্রধান কারিগরি কর্মকর্তার (সিটিও) মতো সি লেভেল কর্মকর্তাকে চাকরি বিধি লঙ্ঘন করে চুক্তি থেকে স্থায়ী করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে ডিএসই কী ফল পেয়েছে, অবিলম্বে সেটি মূল্যায়ন করার পাশাপাশি তাদের আগের মতো চুক্তিতে ফিরিয়ে আনার সুপারিশ করেছে -সংক্রান্ত কমিটি।

বছরের জুন ডিএসইর পর্ষদ সভায় এক্সচেঞ্জটির মানবসম্পদ মূল্যায়ন অন্যান্য ইস্যু পরীক্ষার জন্য পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছিল। ডিএসইর স্বতন্ত্র পরিচালক সালমা নাসরিনের নেতৃত্বে গঠিত কমিটির অন্য চার সদস্য হলেন এক্সচেঞ্জটির স্বতন্ত্র পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মোস্তাফিজুর রহমান, মো. মুনতাকিম আশরাফ, অধ্যাপক . কে এম মাসুদ এবং এক্সচেঞ্জটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী ছানাউল হক।

গত রোববার অনুষ্ঠিত পর্ষদ সভায় কমিটি তাদের প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। কমিটির প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এক্সচেঞ্জটির একজন ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারের অধীনে ৩৫ জন জনবল রয়েছে, যাদের প্রয়োজনীয়তা যৌক্তিকতা যাচাই করা প্রয়োজন।

ডিএসইর রিসার্চ অ্যান্ড ইনফরমেশন বিভাগের কার্যক্রম অনেক ক্ষেত্রেই আইটি বিভাগের সঙ্গে মিলে যায়। তাছাড়া ডিএসই কিংবা বাজারের ওপর ইতিবাচক প্রভাব পড়ে এমন কোনো গবেষণা বিভাগের পক্ষ থেকে করা হয়েছে বলে খুঁজে পায়নি কমিটি। অন্যদিকে ওটিসি বিভাগের অনেক কাজ থাকলেও এখানে মাত্র তিনজন জনবল রয়েছে। প্রডাক্ট মার্কেট বিভাগের কাছে ডাটা বিক্রি, ব্রোকার হাউজ পরিদর্শন করা, প্রশিক্ষণে সহায়তা করা ছাড়া তেমন কোনো কাজ নেই। নতুন বাজার পণ্য চালু করার পাশাপাশি দেশী বিদেশী কোম্পানির তালিকাভুক্তি বিষয়ে বিভাগের পরিকল্পনার বিষয়ে কমিটি স্পষ্ট কোনো ধারণা পায়নি। তার ওপর প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তারা আন্তর্জাতিক পণ্য বাজার উন্নয়নের ক্ষেত্রে কী ভূমিকা রেখেছে সেটি দৃশ্যমান নয়। অবস্থায় কমিটি ডিএসইর বিদ্যমান জনবল তাদের দায়িত্ব অনুসারে এক্সচেঞ্জটিতে কী অবদান রাখছে, সেটি বিশেষ নিরীক্ষা করার সুপারিশ করেছে।

ডিএসইর আইটি বিভাগের কার্যক্রম পর্যালোচনা করে কমিটি দেখতে পেয়েছে যে অর্ডার ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (ওএসএস) সংক্রান্ত কাজ করছে বিভাগ। আবার বিভাগে উল্লেখযোগ্য কর্মী থাকা সত্ত্বেও নাসডাককে বড় অংকের অর্থ দিতে হচ্ছে। বিদেশী ভেন্ডর বিশেষজ্ঞের ওপর নির্ভরতা কমাতে আইটি বিভাগের নিজস্ব দক্ষ জনবল উন্নয়নের সুপারিশ করেছে কমিটি।

ডিএসইর সি লেভেলের কর্মকর্তাদের নিয়োগ প্রক্রিয়ার ক্ষেত্রে এক্সচেঞ্জটির স্বার্থ সংরক্ষণ করা হয়নি বলে মনে করছে কমিটি। এক্ষেত্রে চাকরি বিধিও লঙ্ঘন করা হয়েছে। সি লেভেলের পদগুলো একটা সময় পর্যন্ত চুক্তিভিত্তিক ছিল। কিন্তু ২০১৪ সালের ১৪ নভেম্বর অনুষ্ঠিত পর্ষদ সভায় পদগুলোকে স্থায়ী করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে কোনো ধরনের বিশ্লেষণ বা ফিজিবিলিটি স্টাডি ছাড়াই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। তাদের স্থায়ী কারণ হিসেবে সে সময় বলা হয়েছিল, তারা ডিএসই বাজারের উন্নয়নে ভূমিকা রাখার পাশাপাশি এক্সচেঞ্জটির মুনাফা বাড়ানোর ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখবেন। তাদের জ্ঞান অভিজ্ঞতার মাধ্যমে তার অভ্যন্তরীণ সুশাসন প্রতিষ্ঠা কর্মীদের অনুপ্রাণিত করবেন। সি লেভেলের কর্মকর্তাদের কাছ থেকে ডিএসই কী পেয়েছে, সেটি যথাযথভাবে তাত্ক্ষণিকভাবে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন। সবচেয়ে অবাক করা বিষয় হচ্ছে ডিএসইর সিএফও এবং সিটিও যোগ দেয়ার দেড় বছরের মধ্যে তাদের বেতন ১৫ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। যেখানে অন্য কর্মীদের ক্ষেত্রে পাঁচ থেকে সাত বছর পর বেতন বাড়ানো হয়েছে। তাছাড়া এক্সচেঞ্জটির জিএম পদের কর্মকর্তাদের তুলনায় সি লেভেলের কর্মকর্তাদের বেতনের ব্যবধান ১৫৩ শতাংশ, যা অস্বাভাবিক আশ্চর্যজনক। পদগুলোকে চুক্তিভিত্তিক থেকে স্থায়ী করার মাধ্যমে ডিএসইর ওপর বড় ধরনের আর্থিক বোঝা তৈরি হয়েছে। কারণে কমিটি আগের মতোই পদগুলোকে চুক্তিভিত্তিক করার সুপারিশ করেছে।

ডিএসইর নিজস্ব সিকিউরিটি বিভাগ কর্মী থাকার পরও আউটসোর্সিংয়ের ভিত্তিতে সিকিউরিটি কর্মী নিয়োগ দেয়া হয়েছে, যা অপ্রয়োজনীয় এবং এর যথার্থতা যাচাই করা প্রয়োজন বলে মনে করছে কমিটি।

সপ্তাহের বৃহস্পতিবার ডিএসইর পর্ষদ সভায় অনুষ্ঠিত হবে। সভায় কমিটির সুপারিশের আলোকে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে বলে জানা গেছে।

কমিটির পক্ষ থেকে ডিএসইর পর্ষদের কাছে বেশকিছু সুপারিশ করা হয়েছে। এক্সচেঞ্জটির সব কর্মীর নিয়োগ প্রক্রিয়া যাচাই করে দেখতে হবে, যাতে এক্ষেত্রে কোনো ধরনের স্বজনপ্রীতি হয়েছে কিনা। এক্ষেত্রে এক্সচেঞ্জটির প্রভাবশালী কারো সঙ্গে কর্মীদের কোনো ধরনের সম্পর্ক রয়েছে কিনা সেটি দেখতে হবে। প্রতি বিভাগের প্রধানদের কাছে তাদের অধীনস্থদের পেশাগত দায়িত্বের পাশাপাশি অর্জনের বিষয়টি যাচাই করতে হবে। ডিএসইর প্রধান কার্যক্রমের পাশাপাশি যেসব অপ্রয়োজনীয় কার্যক্রম চালু রয়েছে, সেগুলো চিহ্নিত করতে হবে। সব কর্মীর পেশাগত দায়িত্বের বিষয়টি যথাযথভাবে মূল্যায়ন করতে হবে। পেশাগত সন্তুষ্টি অসন্তুষ্টির বিষয়টি ডিএসইর ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষকে যাচাই করে দেখতে হবে। একটি সেন্ট্রাল সিনিয়রিটি রোলের মাধ্যমে কর্মীদের জ্যেষ্ঠতা, পদায়ন, পদোন্নতি পেশাগত উন্নয়নের বিষয়টি নির্ধারণ করা যেতে পারে। কর্মীদের শিক্ষাগত যোগ্যতার সঙ্গে পেশাগত দায়িত্বে সামঞ্জস্যতা থাকতে হবে। ডিএসইর মতিঝিলের কার্যালয় যথ দ্রুত সম্ভব বন্ধ করে দিয়ে এটি ব্যাংক কিংবা অন্যান্য সংস্থার কাছে ভাড়া দিতে হবে। তাছাড়া কর্মীদের চাঙ্গা রাখতে দ্বিবার্ষিক ভিত্তিতে ম্যানেজমেন্ট ইন্টারনাল অডিট ইন্টারনাল ফিন্যান্সিয়াল কন্ট্রোল অডিট করার সুপারিশ করেছে কমিটি।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন