রবিবার | আগস্ট ০৯, ২০২০ | ২৫ শ্রাবণ ১৪২৭

খবর

সাহেদ ও সাবরিনার অবৈধ সম্পদের খোঁজে দুদক

নিজস্ব প্রতিবেদক

রিজেন্ট হাসপাতালে অভিযানের পর প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান মো. সাহেদকে গ্রেফতারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তত্পরতার মধ্যে এবার তার অবৈধ সম্পত্তি অনুসন্ধানে মাঠে নেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এছাড়া ডা. সাবরিনা চৌধুরীর অবৈধ সম্পদও খুঁজে দেখবে সংস্থাটি।

মো. সাহেদের অবৈধ সম্পদ খতিয়ে দেখতে গতকাল কমিশনের এক সভায় সংস্থাটির উপপরিচালক মো. আবু বকর সিদ্দিকের নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি অনুসন্ধান দল গঠন করা হয়েছে। অনুসন্ধান দলে অন্য দুই সদস্য হলেন দুদকের সহকারী পরিচালক মো. নেয়ামুল হাসান গাজী শেখ মো. গোলাম মাওলা।

দুদকের পরিচালক (জনসংযোগ) প্রণব কুমার ভট্টাচার্য্য জানান, রিজেন্ট হাসপাতালের স্বত্বাধিকারী রিজেন্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান মো. সাহেদ ওরফে সাহেদ করিমের বিরুদ্ধে মাইক্রোক্রেডিট এমএলএম ব্যবসার নামে প্রতারণা করে কোটি কোটি টাকা সংগ্রহ করে আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া তার বিরুদ্ধে বহুমাত্রিক জাল-জালিয়াতি প্রতারণার মাধ্যমে পরস্পর যোগসাজশে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ, আয়কর ফাঁকি, ভুয়া নাম পরিচয়ে ব্যাংকঋণ গ্রহণ করে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন।

দুদক সূত্রে জানা গেছে, দুদকের অনুসন্ধান শুরুর আগে কমিশনের সংশ্লিষ্ট অনুবিভাগগুলো বিভিন্ন ব্যক্তি, গণমাধ্যম, ভার্চুয়াল মাধ্যমসহ বিভিন্ন উৎস থেকে মো. সাহেদের বিরুদ্ধে অভিযোগগুলো সংগ্রহ করা হয়েছে। এসব তথ্য-উপাত্ত সংবলিত অভিযোগ কমিশনের দৈনিক সাম্প্রতিক অভিযোগ সেল কমিশনে উপস্থাপন করলে কমিশন অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেয়। কমিশনের বিশেষ তদন্ত অনুবিভাগের মাধ্যমে অভিযোগ অনুসন্ধান করা হবে।

প্রসঙ্গত, নভেল করোনাভাইরাসের পরীক্ষা না করে ভুয়া রিপোর্ট দেয়া, সরকারের কাছে বিল দেয়ার পর আবার রোগীর কাছ থেকেও অর্থ নেয়াসহ রিজেন্ট হাসপাতালের নানা অনিয়মের খবর সম্প্রতি প্রকাশ্যে আসে র্যাবের এক অভিযানের মধ্য দিয়ে। রিজেন্ট হাসপাতালের বিরুদ্ধে অনিয়ম প্রতারণার অভিযোগে মামলাও করেছে র্যাব। তবে মূল আসামি সাহেদকে গতকাল পর্যন্ত গ্রেফতার করা যায়নি।

সাদাত উল্লাহ খান নামের একজন লেখক, সম্পাদক ব্যবসায়ী রিজেন্ট গ্রুপের প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে কলাবাগান থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। জিডিতে তিনি অভিযোগ করেন, সোনাদিয়া করপোরেশন নামক একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করেন তিনি। সেই প্রতিষ্ঠান থেকে রিজেন্ট গ্রুপ রিদম ট্রেডিং নামক প্রতিষ্ঠানের দুটি কার্যাদেশের বিপরীতে ৮৩ লাখ ৮০ টাকার পাথর সরবরাহ করেন। সরবরাহকৃত পাথরের মূল্য বাবদ ৫২ লাখ টাকা বিভিন্ন সময় পরিশোধ করলেও বাকি ৩১ লাখ ৮০ হাজার টাকা বকেয়া রয়ে যায়। ঈদের পর লকডাউন প্রত্যাহার হলে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তাদের সবাই আত্মগোপনে আছেন বলে জানতে পারেন। বিভিন্ন মাধ্যমে তারা অপরাধী চক্র বলে জানতে পেরে তিনি থানায় জিডিটি দায়ের করেন।

এদিকে জেকেজি হেলথ কেয়ারের চেয়ারম্যান ডা. সাবরিনা চৌধুরীর অবৈধ সম্পদও অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুদক। দুদকের পরিচালক (জনসংযোগ) প্রণব কুমার ভট্টাচার্য্য জানান, সরকারি চাকরিতে (জাতীয় হূদরোগ ইনস্টিটিউটে কর্মরত) বহাল থেকে তার স্বামী আরিফ চৌধুরীর সহায়তায় প্রতারণা জালিয়াতির মাধ্যমে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে করোনা রোগীদের নমুনা সংগ্রহের অভিযোগ রয়েছে। নমুনা সংগ্রহ করে ১৫ হাজার ৪৬০টি ভুয়া মেডিকেল রিপোর্ট প্রস্তুত সরবরাহ করে কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। গত রোববার ডা. সাবরিনা চৌধুরীকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন