বৃহস্পতিবার | আগস্ট ০৬, ২০২০ | ২১ শ্রাবণ ১৪২৭

টেলিকম ও প্রযুক্তি

ফেসবুকে রাজনৈতিক বিজ্ঞাপন বন্ধে আলোচনা

বণিক বার্তা ডেস্ক

কভিড-১৯ মহামারীতে সবচেয়ে ধরাশায়ী হয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। ফলে চলতি বছর মার্কিন মুল্লুকের জন্য ইতিহাসের অন্যতম খারাপ বছর হতে চলেছে। বিশ্বের শীর্ষ ক্ষমতাধর দেশটির জন্য সবচেয়ে বড় আয়োজন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনও চলতি বছর অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। যাতে বাদ সেধেছে মহামারী। আগামী নভেম্বরে অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনকে ঘিরে তাই নেই কোনো সাজ সাজ রব। প্রচারের ক্ষেত্রে রাজনীতিবিদদের জন্য তাই এখন সবচেয়ে বড় মাধ্যম হয়ে উঠেছে সোস্যাল মিডিয়া প্লাটফর্ম। কিন্তু তাতেও বুঝি অনেকটা ধাক্কা খেতে হতে পারে তাদের। কারণ বৈশ্বিক সোস্যাল মিডিয়া জায়ান্ট ফেসবুক এখন রাজনৈতিক বিজ্ঞাপন নিষিদ্ধ করার বিষয়ে আলোচনা করছে। মার্কিন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ফেসবুকে রাজনীতিবিদদের ঘৃণামূলক বক্তব্য ছড়ানো এবং ভুল তথ্য দেয়ার প্রবণতা তৈরি হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে চাপে পড়তে হচ্ছে ফেসবুককে। যে কারণে নিজেদের প্লাটফর্মে রাজনৈতিক বিজ্ঞাপন বন্ধের পরিকল্পনা করছে মার্কিন প্রতিষ্ঠানটি। খবর নিউইয়র্ক টাইমস।

ফেসবুকের রাজনৈতিক বিজ্ঞাপন নিষিদ্ধের বিষয়টি এখনো আলোচনা পর্যায়ে রয়েছে। যে কারণে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুটি সূত্র জানিয়েছে, বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত আসেনি। যেহেতু ফেসবুক এখনো রাজনৈতিক বিজ্ঞাপন প্রকাশ করছে, সে কারণে এটি চূড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত বিষয়টি সম্পর্কে সরাসরি কোনো মন্তব্য করবে না তারা।

ফেসবুকে রাজনৈতিক বিজ্ঞাপন নিষিদ্ধের বিষয়ে আলোচনা এবারই প্রথম নয়। মূলত গত বছর থেকে বিষয়ে আলোচনা চলছে। যখন থেকে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রার্থী রাজনৈতিক পক্ষগুলো জনগণের মনোভাব বোঝার জন্য এটির সাহায্যে প্রচার শুরু করে।

তবে সাম্প্রতিক সময়ে নতুন করে রাজনৈতিক বিজ্ঞাপন বন্ধের আলোচনা উঠেছে। কারণ নির্বাচন যত আসন্ন হচ্ছে, ততই ফেসবুকে প্রচার বেড়ে যাচ্ছে। কারণেই ফেসবুকে পোস্ট করা নির্বাচনকেন্দ্রিক কনটেন্ট বা আধেয়গুলো বেশ গুরুত্ব দিয়ে যাচাই করে দেখছে ফেসবুক।

বিজ্ঞাপন নিষিদ্ধের আলোচনা সম্পর্কে অবগত আছে এমন সূত্র বলছে, এটি আসলে শেষ পর্যন্ত ফেসবুকের জন্য উপকার না লোকসানের কারণ হবে, সেটিই এখন আসল চিন্তার বিষয়। অন্যদিকে রাজনৈতিক বিজ্ঞাপন নিষিদ্ধ করা হলে একদিকে এটি যেমন একটা শ্রেণীর মতামত প্রকাশ বা কণ্ঠরোধ করা হবে, অন্যদিকে অনুমতি দিলে ভুল তথ্যে সয়লাব হয়ে যেতে পারে, যা পরোক্ষভাবে নাগরিকদের ভোটাধিকার প্রয়োগ থেকে বঞ্চিত করার মোক্ষম পরিবেশ তৈরি করবে।

যদিও ফেসবুক কর্তৃপক্ষ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করা থেকে দূরে রয়েছে। তবে এর আগে ব্লুমবার্গের এক প্রতিবেদনে রাজনৈতিক বিজ্ঞাপন নিষিদ্ধের বিষয়টি জানানো হয়। আর সত্যিই যদি শেষ পর্যন্ত ধরনের বিজ্ঞাপন নিষিদ্ধ করে ফেসবুক, তাহলে সেটি হবে সামাজিক মাধ্যমটি এবং এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মার্ক জাকারবার্গের চিন্তাধারার ঠিক উল্টোটা।

কারণ দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমটি রাজনীতিকদের প্রচারের জন্য একটি ভালো প্লাটফর্ম হিসেবে ব্যবহার হয়ে আসছে। এমনকি এসব ক্ষেত্রে তথ্যের সত্যতা যাচাই করারও প্রয়োজনীয়তা বোধ করেনি ফেসবুক কর্তৃপক্ষ। ফেসবুকের সহপ্রতিষ্ঠাতাও বারবার বলেছেন, তিনি রাজনীতিকদের ওপর পুলিশি কার্যক্রম চালাবেন না। তাদের দেয়া বিজ্ঞাপন বিবৃতির সত্য-মিথ্যা যাচাই বা মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ফেসবুক কাজ করবে না। কারণ তিনি বাক স্বাধীনতায় বিশ্বাসী।

তিনি বলেছেন, ফেসবুক থেকে রাজনৈতিক বিজ্ঞাপন সরিয়ে ফেললে সেটি এক ধরনের নেতিবাচক প্রবণতা তৈরি করবে। তার মতে, এটি ছোট ক্ষতির কারণ হবে। কারণ অনেক খ্যাতিমান রাজনীতিকের তুলনায় অন্যরা অর্থায়ন অন্যান্য প্রচারে পেরে উঠবে না, যা পরোক্ষভাবে ওইসব প্রার্থীর ব্যালট বা ভোট কমিয়ে দেবে। মূলত রাজনৈতিক বিজ্ঞাপন তাদের রাজস্ব আয়ে নেতিবাচক প্রভাব তৈরি করে। সুতরাং বিজ্ঞাপন নিষিদ্ধের বিষয়টি আর্থিক কোনো জায়গা থেকে বিবেচনা করা হবে না বলেও জানান ফেসবুকের শীর্ষ নির্বাহী।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন