রবিবার | আগস্ট ০৯, ২০২০ | ২৫ শ্রাবণ ১৪২৭

পণ্যবাজার

৮ মাসের সর্বোচ্চে ভারতের ভোজ্যতেল আমদানি

বণিক বার্তা ডেস্ক

চলতি বছরের শুরু থেকে একদিকে নভেল করোনাভাইরাসের বৈশ্বিক মহামারী টানা লকডাউন, অন্যদিকে মালয়েশিয়ার সঙ্গে রাজনৈতিক-বাণিজ্যিক বিরোধ, দুইয়ের জের ধরে ভারতে ভোজ্যতেল আমদানি কমতির দিকে ছিল। একই সঙ্গে ভোজ্যতেল দেশীয় উৎপাদনকারীদের সহায়তার বিষয়টিও প্রাধান্য পেয়েছিল। তবে গত জুন মাসে পরিস্থিতি ঘুরে দাঁড়িয়েছে। সময় ভারতের বাজারে ভোজ্যতেল আমদানি আগের তুলনায় বেড়ে আট মাসের সর্বোচ্চ অবস্থানে উন্নীত হয়েছে। মুম্বাইভিত্তিক সলভেন্ট এক্সট্র্যাক্টরস অ্যাসোসিয়েশনের (এসইএ) সর্বশেষ মাসভিত্তিক প্রতিবেদনে তথ্য জানানো হয়েছে। খবর বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড ইকোনমিক টাইমস।

ভোজ্যতেলের অন্যতম শীর্ষ ভোক্তা দেশ ভারত। অভ্যন্তরীণ চাহিদার বেশির ভাগ আমদানি করা ভোজ্যতেল দিয়ে পূরণ করে দেশটি। বিভিন্ন ধরনের ভোজ্যতেল আমদানিকারকদের বৈশ্বিক তালিকায় দেশটি শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে। এসইএর সর্বশেষ মাসভিত্তিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছরের জুনে ভারতীয় আমদানিকারকরা আন্তর্জাতিক বাজার থেকে সব মিলিয়ে ১১ লাখ ৬০ হাজার টন ভোজ্যতেল আমদানি করেছেন, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় শতাংশ বেশি। গত বছরের একই মাসে ভারতীয় আমদানিকারকরা ১০ লাখ ৭০ হাজার টন ভোজ্যতেল আমদানি করেছিলেন। অর্থাৎ, এক বছরের ব্যবধানে দেশটিতে ভোজ্যতেল আমদানি বেড়েছে ৯০ হাজার টন।

এর মধ্য দিয়ে গত মাসে ভারতের বাজারে ভোজ্যতেল আমদানি বিগত আট মাসের মধ্যে সর্বোচ্চে উঠেছে। তবে গত মাসে ভারতের বাজারে পাম অয়েল আমদানি কমতির দিকে ছিল বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। সময় ভারতের বাজারে সাকল্যে ছয় লাখ টন অপরিশোধিত পাম অয়েল আমদানি হয়েছে। জুনে দেশটিতে সূর্যমুখী তেল আমদানির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে লাখ ৬০ হাজার টনে, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় এক লাখ টন বেশি। সময় ভারতের বাজারে সব মিলিয়ে লাখ ৩০ হাজার টন সয়াবিন তেল আমদানি হয়েছে। আগের বছরের একই সময়ে দেশটিতে মোট লাখ ২০ হাজার টন সয়াবিন তেল আমদানি হয়েছিল। ১৯৯৪ সালের পর গত জুনে ভারতের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো পাম অয়েলের তুলনায় অন্যান্য ভোজ্যতেলের সম্মিলিত আমদানির পরিমাণ বেশি ছিল।

তবে জুনে রেকর্ড পরিমাণ বাড়লেও চলতি মৌসুমে এখন পর্যন্ত ভারতের বাজারে ভোজ্যতেল আমদানিতে মন্দা ভাব বজায় রয়েছে বলে প্রতিবেদনে জানিয়েছে এসইএ। দেশটিতে প্রতি বছর নভেম্বর থেকে ভোজ্যতেলের নতুন বিপণন মৌসুম শুরু হয়। চলে পরের বছরের ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত। চলতি ২০১৯-২০ মৌসুমের প্রথম আট মাসে (গত বছরের নভেম্বর থেকে চলতি বছরের জুন পর্যন্ত) আন্তর্জাতিক বাজার থেকে ভারতীয় আমদানিকারকরা সব মিলিয়ে ৮০ লাখ ৫০ হাজার টন ভোজ্যতেল আমদানি করেছেন। এক বছরের ব্যবধানে দেশটিতে ভোজ্যতেল আমদানি কমেছে প্রায় ১৫ শতাংশ। ২০১৮-১৯ বিপণন মৌসুমের নভেম্বর-জুন সময়ে ভারতের বাজারে সব মিলিয়ে ৯৪ লাখ টন ভোজ্যতেল আমদানি হয়েছিল। সেই হিসেবে এক বছরের ব্যবধানে ভারতে ভোজ্যতেল আমদানি কমেছে প্রায় সাড়ে ১৩ লাখ টন।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নভেল করোনাভাইরাসের মহামারীর কারণে শুধু ভারতে লকডাউন ছিল না, বরং ভোজ্যতেল রফতানিকারক দেশগুলোতেও লকডাউন বিদ্যমান ছিল। এতে ভোজ্যতেল আমদানিতে মারাত্মক প্রভাব পড়ে। চলতি বছরের মার্চ থেকে আমদানি কার্যক্রম সীমিত হয়ে আসে। এপ্রিল-মে মাসে ভোজ্যতেলের অভ্যন্তরীণ

চাহিদায় ধস নামে। এর প্রধান কারণ লকডাউনে হোটেল-রেস্তোরাঁ বন্ধ থাকা। ফলে চাহিদা না থাকায় আমদানিকারকরা আর ভোজ্যতেল আমদানি বাড়ানোর পথে হাঁটেননি। জুনে এসে ভারতজুড়ে করোনা সংক্রমণ না কমলেও লকডাউন অনেকটাই শিথিল হয়ে এসেছে। খুলেছে হোটেল-রেস্তোরাঁ। আমদানি-রফতানি কার্যক্রমে গতি ফিরতে শুরু করেছে। একই সঙ্গে বাড়তে শুরু করেছে ভোজ্যতেলের চাহিদা।

ফলে জুনে আমদানিকারকরা চলতি মৌসুমের সবচেয়ে বেশি ভোজ্যতেল আমদানি করেছেন। মৌসুমের বাকি সময়ও ভারতের বাজারে ভোজ্যতেল আমদানিতে প্রবৃদ্ধি বজায় থাকার সম্ভাবনা দেখছেন খাতসংশ্লিষ্টরা।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন