বৃহস্পতিবার | আগস্ট ১৩, ২০২০ | ২৯ শ্রাবণ ১৪২৭

সাক্ষাৎকার

মানুষের জীবিকার সংগ্রামেই অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার হবে

দেশের অন্যতম বৃহৎ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান আকিজ গ্রুপ। ৭৫ বছরের প্রতিষ্ঠানটি বর্তমান কভিড-১৯ প্রাদুর্ভাবের মধ্যেও তাদের ব্যবসা কার্যক্রমের গতি সচল রেখে এগিয়ে যাচ্ছে। সম্প্রতি নিজ প্রতিষ্ঠান দেশের সার্বিক অর্থনীতি নিয়ে বণিক বার্তার সঙ্গে একান্ত আলাপ করেন আকিজ গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শেখ বশির উদ্দিন সাক্ষাৎকার নিয়েছেন বদরুল আলম

বর্তমান পরিস্থিতিতে একটি আলোচিত বিষয় কভিড-১৯-পরবর্তী অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার। একজন ব্যবসায়ী হিসেবে নিয়ে কী ভাবছেন?

টু বি ভেরি অনেস্ট, আমার কাছে মুহূর্তে তেমন কিছু দৃশ্যমান নয়। রিকভারি বা পুনরুদ্ধার নিয়ে তখনই আলোচনা করতে পারেন, যখন দেখবেন আপনি এরই মধ্যে মূল্যায়ন করে ফেলেছেন তলানিতে পৌঁছে গিয়েছি। ইজ ইট গোয়িং টু ফল ফারদার? অর হ্যাভ ইউ রিচ দ্য লিমিট? এর উত্তর অন্য সবার মতোই আমিও জানি না। বাংলাদেশসহ গোটা বিশ্ব এখনো ক্ষতি মূল্যায়নের মধ্যেই আছে। আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে বলব, আমরা জনমিতির বিচারে বিশ্বব্যাপী সংযুক্ত অর্থনীতি না। আমাদের স্থানীয় কনজাম্পশন জিডিপির একটা বড় অংশ। তবে রেমিট্যান্স নির্ভরতাও আছে। অন্য সব খাতের মতো রেমিট্যান্সে অনেক চ্যালেঞ্জ দেখা যাচ্ছে। কিছুদিন আগে যে বাজেটটা আমরা পেয়েছি সেখানে আমরা দেখতে পাচ্ছি যে সরকার খরচ বেশি করার মানসিকতায় আছে। আমি মনে করি, অর্থনীতির বর্তমান অবস্থায় এটাই সঠিক কাজ। যখন আমরা কী করা উচিত জানি না, তখন সম্পদের বণ্টনই এগিয়ে যাওয়ার ভালো উপায়। তবে অর্থমন্ত্রীর জন্য চ্যালেঞ্জ হলো অর্থের সংস্থান।

অর্থের সংস্থান নিয়ে আপনার কী মত?

অর্থনীতিতে বেশকিছু ফানি সিচুয়েশন বের হচ্ছে। ব্যাংকে মুহূর্তে তারল্য সংকট না হয়ে উল্টো উদ্বৃত্ত আছে। ফরেন কারেন্সি রিজার্ভ কমে না গিয়ে বেড়ে যাচ্ছে। তার পরও অর্থনীতিবিদরা ভয় পাচ্ছেন কেন? কারণ আসলে জীবিকার কর্মকাণ্ডটায় একধরনের মাত্রা চলে এসেছে। ভয়টা ওখান থেকেই। জীবিকার কর্মকাণ্ডটা যদি কোনো কারণে স্থবির হয়ে যায় তখন টাকা অর্থবহ হবে না। আর অর্থের সংস্থান কি সরকার বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে করবে, ধার করে করবে? প্রচলিতভাবে সরকার বাণিজ্যিক ব্যাংক, প্রতিরক্ষা সঞ্চয়পত্র এসব জায়গা থেকেই ঘাটতিটা পূরণ করে। এবার হয়তো নির্ভরতা আরো বেড়েছে। কিন্তু আমরা ১০ বছর ধরেই দেখছি, এর ওপর নির্ভরতা বাড়ছে। কারণ আমাদের ব্যয়ের ক্ষেত্রগুলোও বাড়ছে। আমাদের সামাজিক নিরাপত্তায় নতুন নতুন অনেক খাত সংযুক্ত হচ্ছে। এগুলোও অপরিহার্য। ঘাটতি একটা সময়ে যদি খুব বড় আকার ধারণ করে সেক্ষেত্রে সমস্যাও আছে। যেমন ধরেন, এই বছরই আমার ধারণা সুদ বাবদ ৬০ হাজার কোটি টাকা চলে যাচ্ছে। পরিবারের প্রেক্ষাপটে যদি ভাবেন, আপনি যদি একটি ফ্রিজ ইএমআইতে কেনেন, আর যদি আপনার বেতনের বড় অংশ চলে যায় সুদ বাবদ আপনার ভোগটা হয়তো স্বল্পস্থায়ী হবে। ভোগ্যব্যয়টা খুব বেশি যদি ধারনির্ভর হয় তাহলে দীর্ঘমেয়াদি একটা ক্ষতির সম্ভাবনা অবশ্যই থেকে যায়। বর্তমান পরিস্থিতি বিশেষ। ধরনের বিশেষ সময়ে রাষ্ট্রের ব্যয় করা ছাড়া কোনো উপায় নেই। কারণ জীবিকা কর্মকাণ্ডটা যেহেতু সংকুচিত হচ্ছে, এর প্রসার করতে গেলে রাষ্ট্রকে ব্যয় করতেই হবে। এটাই আমার স্বাভাবিক উপলব্ধি। সবচেয়ে বড় বিষয় হলো জীবন আর জীবিকার কাঠামোটা। জীবিকা ছাড়া তো জীবন অচল। আমাদের মতো উন্নয়নশীল দেশে যুদ্ধটা হয় জীবিকার সাবসিসটেন্সের, এটা লাইফস্টাইলের প্রশ্ন না। উন্নত দেশে লাইফস্টাইলে আপস করা হয়, আর আমাদের ক্ষেত্রে পিওরলি জীবিকা। আমাদের ইকোনমির স্বাভাবিক অবস্থায় প্রত্যাবর্তনের সম্ভাবনা অনেক বেশি। এর কারণ আমাদের জনমিতি। অর্থনৈতিক যে স্তরে আমরা বাস করছি এখানে জীবিকাটাই আসল। আমাদের জনগোষ্ঠীর একটি বড় অংশকেই দুদিন কাজ না করলে হয়তো একদিন অভুক্ত থাকতে হতে পারে। স্বাভাবিকভাবেই সবাই অধীর আগ্রহে বসে আছে যে কীভাবে জীবিকাকে সঞ্চালন করা যায়। এবং তাতে আমরা আশা করতে পারি, পরিস্থিতিটা ঘুরে যাবে। আমরা যদি দেখতে শুরু করিকভিড একটা নিয়ন্ত্রণের মধ্যে আছে অথবা মানুষ বাধ্য হয়ে জীবিকার সংগ্রামে ফিরছে, ওটাই হবে আমাদের জন্য সবচেয়ে কার্যকর বাজি বা সম্ভাবনা। সব উন্নয়নশীল দেশের জন্যই এই বিষয়টি অভিন্ন। কিন্তু এটা কবে আসবে তা স্থির করে আমি বলতে পারছি না। এখনো ধরনের কোনো মূল্যায়ন করতে পারছি না। অন্য সবার মতোই সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রার্থনা করছি পরিস্থিতিটা হোক আজ বা আগামীকাল।

অবস্থায় আকিজের বিষয়ে বলতে গেলে বলতে হয়, আপনারা জানেন যে আকিজ ডাইভারসিফায়েড ব্যবসা করে। আমাদের কনজিউমার প্রডাক্ট আছে, ইন্ডাস্ট্রিয়াল গুডসও আছে। রফতানি পণ্য, নির্মাণসামগ্রীর ব্যবসাও করি আমরা। কিছু খাত আছে যেখানে কভিড-১৯-এর নেতিবাচক প্রভাব নেই, ভালোই করছে এসব খাত। আবার কিছু খাত আছে যেখানে মারাত্মক প্রভাব দেখতে পাচ্ছি। কম্পোজিট ইমপ্যাক্টের বিষয়ে বললে বা সার্বিকভাবে প্রভাব নেতিবাচক। কিন্তু কিছু খাত ভালো করছে, যেমন খাদ্যপণ্যের ব্যবসা ভালো করছে। যেগুলো নিত্যপ্রয়োজনীয় যেমন ফ্লাওয়ার মিলের ব্যবসা, ওখানে কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু নির্মাণ শিল্পে আমরা গভীর পতন দেখতে পেয়েছি।

মহামারী পরিস্থিতিটা মানুষের ভোগে প্রভাব ফেলেছে। ভোগ স্বাভাবিক করতে পারে এমন কোনো পথ আছে কি?

আমার মনে হয়, এই পরিস্থিতিতে ভোগ বৃদ্ধি করা সম্ভব না। যেটা এসেনশিয়াল ভোগ সেটা মানুষ করবেই। কিন্তু যেটা নন-এসেনশিয়াল, সেখানে একটা প্রাথমিক ছাড় অবশ্যই আসবে। যখন কৃষি থেকে শুরু করে শিল্প সবকিছুর সমন্বিত প্রভাব বিবেচনায় স্বাস্থ্যের ঝুঁকিটা চলে যাবে তখন ভোগটা স্বাভাবিক হয়ে ফিরে আসবে। কখন স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পারবে তার জন্য মানুষ অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে। জিডিপির একটা বড় অংশ এসেনশিয়াল ভোগ। আবশ্যক নয় এমন ভোগের অংশ এখনো আমাদের অর্থনীতির বড় না। যে অংশটা আছে সেটা খুব বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলেও আমি মনে করি না। যদিও পরিস্থিতি যত দীর্ঘায়িত হবে তত আমাদের দারিদ্র্যের হার আরো বাড়বে। দরিদ্রের সংখ্যাটা যদি খুব বড় অংশে বেড়ে যায়, যদি দ্বিগুণ হয়ে যায়। অবশ্যই তখন কনজাম্পশনে একটা ব্যাঘাত ঘটবে। বিশেষ করে আবশ্যক নয় এমন ভোগে। কিন্তু চাল-ডাল, ভাত তো আমাকে খেতেই হবে। আমাদের দেশের কৃষি উৎপাদন যেটা হয় এর শতভাগই হয় এসেনশিয়াল ভোগের জন্য। নন-এসেনশিয়াল ভোগের কৃষিপণ্য আমরা খুব একটা উৎপাদন করি না। সার্বিক পরিস্থিতিটা নির্ভর করছে বিদ্যমান পরিস্থিতি কতদিন দীর্ঘায়িত হবে সেটার ওপর।

যদি বিদ্যমান পরিস্থিতিটা আমাদের দীর্ঘদিন বয়ে বেড়াতে হয় তাহলে দেশের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর সম্প্রসারণ পরিকল্পনা কিংবা একদম নতুন কোনো স্টার্টআপ উদ্যোগ কোন জায়গায় গিয়ে ঠেকতে পারে বলে মনে হয় আপনার?

স্টার্টআপের ক্ষেত্রে নির্ভর করবে কোন ধরনের স্টার্টআপ তা। যদি স্বাস্থ্যসেবাসংক্রান্ত স্টার্টআপ নিয়ে ভাবেন তাহলে সেই সুযোগ আছে। যদি কেউ মাস্ক তৈরি করে বাজারে আনতে চায়, সেই সুযোগও আছে। কিন্তু সেটা টেকসই হবে কিনা তা বলা যাচ্ছে না। আর যদি প্রচলিত শিল্প খাতে সম্প্রসারণের বিষয়ে চিন্তা করেন তাহলে আকিজের মতো পারিবারিক প্রতিষ্ঠানের দর্শন হলো বছর শেষে আমাদের অর্জিত আয়কে পুনরায় বিনিয়োগ করা। প্রযুক্তির উন্নয়ন, বৈচিত্র্যময় পণ্য উৎপাদনসহ সক্ষমতা বৃদ্ধিতেই ওই বিনিয়োগ করা হয়। মুহূর্তে সক্ষমতা সম্প্রসারণে কিছুটা স্থবির ভাব থাকলেও কস্ট কম্পিটেটিভের ক্ষেত্রে বিষয়টি চলমান প্রক্রিয়া। প্রতিযোগিতার ক্ষেত্রে পিছিয়ে পড়লে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান টিকে থাকবে না। আমরাসহ বাংলাদেশের অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানে ধরনের বিনিয়োগ চলমান আছে। ম্যাক্রো ইকোনমির ক্ষেত্রে যেটা আমরা আশা করছি যে আমাদের আট ভাগ জিডিপি প্রবৃদ্ধি হবে, ওটা অর্জিত হলে সক্ষমতা সম্প্রসারণ অবশ্যই করতে হবে। শিল্পোদ্যোক্তারা অবশ্যই বিষয়গুলো মূল্যায়ন করবেন। আর যখন ওনারা আসলেই সম্প্রসারণের প্রয়োজন দেখতে পাবেন তখন তারা সেটা করবেন। আসলে ব্যবসার পরিবেশ বিষয়টি অনেক ডায়নামিক। এই কন্ডিশনে আমরা যারা কাজ করি আমাদের প্রতিযোগিতার বিষয়গুলো আমলে নিতে হয়। আমরা সক্ষমতা বাড়াই আমাদের আয় বৃদ্ধির জন্য, ফিক্সড কস্ট কমানোর জন্য, আমাদের মুনাফা বৃদ্ধির জন্য। এই জিনিসগুলোর সমন্বয়ে বর্তমান প্যান্ডেমিক অবশ্যই একটা প্রভাব ফেলছে। প্রভাবটা সঠিকভাবে মূল্যায়ন করা যাচ্ছে না যে এটা আসলে কতটুকু দীর্ঘায়িত হবে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে ব্যবসার প্রতিযোগিতার ক্ষেত্রটি কেমন? ব্যয়সংকোচনের বিষয়ে আকিজ গ্রুপের ভাবনা কী?

প্রতিযোগিতার ক্ষেত্রে স্বাভাবিক। প্রথাগতভাবেই ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো সবসময়ই প্রতিযোগিতার মানসিকতায় থাকে। মুক্তবাজার ব্যবস্থার এটা একটা অন্যতম নিয়ামক। আপনাকে প্রতিযোগী সক্ষমতায় থাকতেই হবে। আপনার প্রতিযোগীর আগেই আপনাকে আপনার গ্রাহকের কাছে পৌঁছতে হবে। ইউ হ্যাভ টু বি বেটার, ইউ হ্যাভ টু বি কম্পিটেটিভ। এই বিষয়গুলোই ব্যবসার অন্যতম নিয়ামক। এটা প্রাগৈতিহাসিক যুগ থেকেই ছিল, আজও তাই। বিশ্ব যতদিন টিকে থাকবে ততদিন এটা থাকবে। ব্যবসা সংকোচনের ক্ষেত্রে কর্মীদের বিষয়ে ভাবছি না, তবে কিছু ব্যয় আছে যেগুলোর বিষয়ে আমরা ভাবছি যে মুহূর্তে সেগুলো পিছিয়ে দিচ্ছি, নন-এসেনশিয়াল কস্ট থাকলে তা কমানোর চেষ্টা করছি। পৃথিবীর বহু দেশেই মূল নিয়ন্ত্রক হলো ক্ষুদ্র মাঝারি আকারের ব্যবসাগুলো। ওনারা যদি কষ্টে থাকে তাহলে অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদি স্থবিরতা চলে আসে। আমি ওই ক্ষেত্রে একটা জটিলতা দেখি বর্তমান পরিস্থিতিতে। আমাদের মতো যারা পরিবার নিয়ন্ত্রিত ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান তাদের অনেকের হয়তো সঞ্চয় থাকে। এই সঞ্চয় পুনর্বিনিয়োগে ব্যবহার করা যেতে পারে, আবার অবস্থান টিকিয়ে রাখার জন্যও ব্যবহার হতে পারে। কিন্তু ক্ষুদ্র মাঝারি আকারের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষেত্রে মূলধনি বিনিয়োগটা অনেক সময় আয়ের চেয়ে বেশি হয়ে যায়। স্বাভাবিকভাবেই তাদের সঞ্চয়ের পরিমাণটা ব্যবসা এগিয়ে নেয়ার মতো শক্তিশালী থাকে না। এই মহামারীটা ক্ষুদ্র মাঝারির ক্ষেত্রে বড় ধরনের আঘাত ফেলবে। আবার এদের একটা সুবিধাও আছে। যদি পরিবার নিয়ন্ত্রিত ছোট ব্যবসা হয় তাহলে স্বল্পমেয়াদি কোনো আপস করতে হলে ভালো একটা রেজিলিয়েন্স কাজ করে। অনেক ঝড়ঝাপটা বড় প্রতিষ্ঠানের চেয়ে এরা বেশি সহ্য করতে পারে। কিছু সুবিধা ছোট ব্যবসায়ীদের জন্য যেমন আছে, তেমনি কিছু সুবিধা বড় ব্যবসায়ীদের জন্য আছে। এটা সবসময়ই আপেক্ষিক।

সাম্প্রতিক সময়ে পাট খাতে একটা অধিগ্রহণের বিষয়ে জানতে পেরেছি। পাট খাতের সম্ভাবনা সম্পর্কে বলুন।

পাট কৃষিজাত পণ্যের একটি শিল্প। খাতে আমাদের দেশের ঐতিহ্য অনেক পুরনো। খাতের সম্ভাবনা এখন নির্ভর করছে আপনি কী পণ্য ব্যবহার করছেন তার ওপর। পাট প্রাথমিকভাবে র্যাপিং উপকরণ হিসেবেই ব্যবহার হয়। আমি একটি পণ্যকে দুভাবে দেখিএকটি ফিজিক্যাল প্রপার্টি, আরেকটি অ্যাসথেটিক প্রপার্টি। আমার কাছে মনে হয়, মুহূর্তে পাটটা বস্তার মাধ্যমে র‍্যাপিং ম্যাটেরিয়াল হিসেবে ভ্যালু ক্রিয়েট করে। আর কার্পেট বোনার ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখে। এর সম্ভাবনা যদি বিবেচনা করা হয় তাহলে দেখা যাচ্ছে যে আমাদের দেশ থেকে পাটের রফতানি সর্বোচ্চ বিলিয়ন ডলারের মতো। তাও গত তিন-চার বছর আগের। এরপর এটা খুব বেশি বাড়েনি, বরং কিছুটা কমেছে। জিডিপির প্রেক্ষাপটে ভাবলে এর অবদান খুব বেশি না। এখন জিডিপিতে অবদান খুব বেশি না হলেও ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যাচ্ছে, এটা আমাদের জিডিপির বড় একটা অংশ জুড়ে ছিল। স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে চা পাট এই দুটোই আমাদের রফতানি বাণিজ্যের সিংহভাগ দখল করে ছিল। আমাদের আমদানি ব্যয় মেটাতে এই দুই পণ্যের ওপর খুব নির্ভর করতে হতো। যদি বলেন, এই খাতের ১০ বিলিয়ন ডলারের সম্ভাবনা আছে কিনা, আমার মনে হয় না যে খুব নিকট ভবিষ্যতে ১০ বিলিয়ন ডলারের সম্ভাবনা আছে। কিন্তু বর্তমান বিলিয়ন ডলারের শিল্পটি অংশীজন বিচারে ব্রড বেইজ। কারণ স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত কৃষিপণ্যটির মূল্য সংযোজন সক্ষমতা ব্যাপক। একজন কৃষক থেকে শুরু করে শিল্পপতি পর্যন্ত ইকোনমিক ফ্রিকোয়েন্সি অনেক বড় গভীর। সেই প্রেক্ষাপটে কাজ করার জন্য পাট খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি পণ্য। মুহূর্তে সরকারি মালিকানাধীন পাটকলগুলোর রূপান্তরের বিষয়ে কাজ শুরু হয়েছে। ব্যক্তি খাতের পাটকলগুলো আরো বেশি সম্মুখসারিতে অবস্থান নিচ্ছে। আকিজ গ্রুপের প্রেক্ষাপটে গ্রুপের মৌলিক ভিত্তিই ছিল পাট। একটি জাতি হিসেবে আমরা যেমন পাটের বিষয়ে আবেগপ্রবণ, আবার পারিবারিক প্রাতিষ্ঠানিকভাবে আবেগপ্রবণ। বাবা ব্যবসা শুরু করেছিলেন পাট থেকে। আমরা প্রায় ৭৫ বছর ধরে পাটের ব্যবসা করি। পাট থেকে যত ধরনের বৈচিত্র্যময় পণ্য তৈরি করা যায়, তা জনতা-সাদাত সফলতার সঙ্গে করে দেখিয়েছে। ভালো ব্যবসা শক্তিশালী কাস্টমার বেজ থাকার পরও জনতা-সাদাত জুট মিল ব্যবসা থেকে বেরিয়ে যেতে চাইছিল। তখন আমাদের সঙ্গে আলোচনা হলো। ভারতীয় একটি প্রতিষ্ঠানও কিনতে চাইছিল। আমরা আমাদের আগ্রহ প্রকাশ করেছি এবং আলোচনার মাধ্যমে একটা পর্যায়ে আমরা প্রতিষ্ঠানটি কিনলাম। আকিজ জুটও মুনাফা অর্জনকারী একটি প্রতিষ্ঠান, জনতা-সাদাতও তা-ই। আমরা খুব আশাবাদী। ওনারা যে সফলতার ভিত তৈরি করেছেন, সেটাকে আমরা সামনে আরো এগিয়ে নিয়ে যাব।

রকম একটি সময়ে অধিগ্রহণের মোটিভ কী?

আমাদের ব্যবসায় মার্চ মাস পর্যন্ত কোনো সমস্যাই ছিল না। কিন্তু মার্চ মাসের ২৬ তারিখ থেকে আমরা প্রাতিষ্ঠানিকভাবে একটি ভিন্ন সূচি ব্যবস্থাপনার মধ্যে ছিলাম। বাড়ি থেকে কাজসহ বিভিন্ন ধরনের ভীতিকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, এখনো বেশকিছু বিষয় বিরাজ করছে। মার্চ মাস পর্যন্ত আমাদের ব্যবসা খুব ভালো চলেছে, কোনো সমস্যাই ছিল না। সমস্যাটা এপ্রিল-মে-জুনে হয়েছে। নয় মাসে আমাদের সঞ্চিত আয় ছিলই, পাশাপাশি পূর্ববর্তী বছরগুলোতেও আমাদের সঞ্চিত আয় ছিল। আমরা আমাদের তামাক ব্যবসাটাও বিক্রি করে দিয়েছি। সঞ্চিত আয় ব্যবহার করার ক্ষেত্রে আমাদের মনে হয়েছে যে আমরা ব্যবসাটা নিয়ে আত্মবিশ্বাসী, আমরা এই ব্যবসাটা জানি, আমার বাবার গড়ে যাওয়া পরিবারের আমরা ৭৫ বছর ধরে ব্যবসা করছি। অর্থাৎ এই ব্যবসার নলেজ আমাদের ছিল, প্রতিষ্ঠানটিও ফ্যান্টাস্টিক। সব মিলিয়েই আমরা আমাদের অর্থ বিনিয়োগ করেছি। আমরা বিশ্বাস করি, যে সমস্যাটার মধ্য দিয়ে আমরা যাচ্ছি এটা শেষ হবে।

সরকার রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলগুলো আধুনিকায়নের লক্ষ্যে বন্ধ ঘোষণা করেছে, বলছে পিপিপিতে দেয়া হবে। উদ্যোগটি ফলপ্রসূ করার বিষয় নিয়ে আপনি কী মনে করেন?

আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি এটা একটা সঠিক সিদ্ধান্ত। তবে সফলতা নির্ভর করছে কিছু বিষয়ের ওপর। আমার জানামতে, সরকারের ২৬টির মতো ফ্যাক্টরি আছে। খুব বড় অবকাঠামোগত সুবিধা এবং একটি ঐতিহাসিক ভিত্তি নিয়ে প্রতিষ্ঠানগুলো চলছিল। কিন্তু এর যে অপারেশনাল ইনএফিশিয়েন্সি করাপশনস এগুলোর কম্বিনেশনে প্রতিষ্ঠানগুলোর বেহাল দশা তৈরি হয়েছে। আমি মনে করি, এগুলো যদি ব্যক্তি খাতে ছেড়ে দেয়া হয়, পিপিপিতেও যদি করা হয় আমার আন্ডারস্ট্যান্ডিং বলছে, যদি কোনো প্রাইভেট অপারেটর কন্ট্রাক্টর হিসেবে আসবে এবং তারপর তিনি সেটা অপারেট করবেন। আমি যদি সরকারের সঙ্গে একটি জুট মিল পিপিপিতে সরকারের সঙ্গে অপারেট করতে যাই...

আপনি আগ্রহী?

আমি বিষয়টা ভেবে দেখিনি। কিন্তু প্রাথমিক কিছু প্রশ্ন আমি নিজেকে নিজে করছি। সেটা হলো, রকম একটি প্রতিষ্ঠান ঠিক করতে আমার পাঁচ বছর লেগে যাবে। এই পাঁচ বছর বিনিয়োগের পর কোনো গ্যারান্টি নেই যে আমি এটাকে লাভে রূপান্তর করতে পারব। কিন্তু আশা করা যায়, নিশ্চয়ই কোনো একটা সেট অব অ্যাজাম্পশন নিয়ে যাব যে লাভের মুখ দেখবে। তখন সরকার কী আচরণ করবে, পিপিপির এগ্রিমেন্ট টেনিউর যদি স্বল্পমেয়াদি হয় তাহলে কেউ হয়তোবা দীর্ঘমেয়াদি আগ্রহ নিয়ে নাও আসতে পারে। চেষ্টা করে দেখা যেতে পারে। আমার ধারণা, সরকার কী ধরনের শর্তে পিপিপি চাচ্ছে, সেটার ওপর নির্ভর করবে যে এর প্রতি আগ্রহ তৈরি হবে কিনা। অথবা আউটরাইট বিক্রি করে দেয়াটাও বুদ্ধিমানের কাজ হবে কিনা যে ট্র্যাডিশনালি বেস্ট বিডারকে বিক্রি করে দেয়া। অথবা যেহেতু প্রাইভেট সেক্টরে এখন অনেক মিল হয়েছে এবং প্রাইভেট সেক্টরেও অনেক বন্ধ মিল রয়েছে তাই আসলে এত মিলের দরকারও আছে কিনা। ধরেন, আমাদের দেশে সব মিলিয়ে প্রায় ৬০ থেকে ৬৫ লাখ বেল পাট উৎপাদন হয়। এটার জন্য এতগুলো ফ্যাক্টরির প্রয়োজনও বাস্তব কিনা, এটাও চিন্তার বিষয়। যদি সবগুলো মিল ফুল এফিশিয়েন্সিতে চালান তখন আবার দেখা যাবে অন্য কেস। আমার মনে হয় যে ওখানে অন্য অনেক ধরনের ফ্যাক্টরি থাকতে পারে, যেগুলো হয়তো অন্য কোনো কাজের জন্য অনেক বেশি উপযোগী।

আমার কাছে মনে হয় যে জাতীয় সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহারে সেখানে কিছু কমিটি থাকতে পারে, যারা সম্পদগুলোকে দেখে তার প্রকৃত ভ্যালু মূল্যায়ন করতে পারে। হয় জুট মিলে কনভার্ট করে নয়তো অন্যান্য কিছুতে। পিপিপিতেও এগুলো সম্ভব। কিছু পরিচ্ছন্ন উদ্দেশ্য নিয়ে উদারতান্ত্রিক কোনো নীতি যদি গ্রহণ করা যায়, উদার আবার এত উদার না যে উদ্দেশ্যবিহীন। কিন্তু উদ্দেশ্যপূর্ণ উদার কোনো নীতি যদি গ্রহণ করা যায় তাহলে বিনিয়োগ আগ্রহ হবে এবং সেটা আমার ধারণা জিডিপিতে ইতিবাচক অবদান রাখবে।

দেশের বাইরের বিনিয়োগগুলোর কী অবস্থা এখন?

আমাদের মালয়েশিয়ায় যে বিনিয়োগ আছে সেটা একেবারে খারাপ করছে না। আবার ততটা ভালোও করছে না। আমাদের সরকারের তরফ থেকে যে ইকুইটি অ্যাপ্রুভাল দেয়া হয়েছিল সেটা আমাদের অধিগ্রহণের জন্য যথেষ্ট ছিল না। মালয়েশিয়ায় বরোয়িংটা অনেক বেশি হয়েছে। বিশেষ করে মহামারী পরিস্থিতিতে আমরা যে পণ্যটি সেখানে বানাই মিডিয়াম ডেনসিটি ফাইবার বোর্ড, অন্যান্য সব পণ্যের মতো পণ্যটিরও ব্যাপক মূল্যহ্রাস ঘটেছে। এর ফলে ডেট সার্ভিস করা নিয়ে কিছুটা চ্যালেঞ্জের মধ্যে পড়েছি। আমরা চেষ্টা করছি। আশা করি ওই চ্যালেঞ্জ আমরা উতরে যেতে পারব।

আমাদের স্বাস্থ্য খাতের অনেক দুর্বলতা দৃশ্যমান হচ্ছে। খাতের উন্নয়নে ব্যক্তি সরকারি খাতের কী করার আছে?

এর জন্যও প্রয়োজন রাজনৈতিক সদিচ্ছা। আপনার কোনো ন্যাশনাল ইস্যু এটা। আমরা যে ট্যাক্স দিই এটার উদ্দেশ্য হলো রাষ্ট্রীয় সেবা নিরাপত্তা পাওয়া। এই জিনিসগুলো রাষ্ট্র কর্তৃক নিয়ন্ত্রিত। আর স্বল্প আয়ের দেশ হিসেবে শিক্ষা, স্বাস্থ্য এই বিষয়গুলোতে আমরা রাষ্ট্রের ওপর নির্ভরশীল। যে কারণে জনগণ প্রত্যক্ষ পরোক্ষভাবে ট্যাক্স দিচ্ছে। এই বিষয়গুলোর উন্নয়ন তাই ডেফিনিটলি পলিটিক্যাল উইল। কিন্তু ব্যক্তি খাত উন্নয়নে এগিয়ে আসছে না কেন? সে প্রশ্নের উত্তর খুঁজলে অবশ্যই আমরা বাংলাদেশে কিছু হাইএন্ড হসপিটাল দেখেছি গত ১০ বছরে। কিন্তু খুব হাইএন্ড না হলেও মিডিয়ামএন্ডের বাণিজ্যিকভাবে লাভজনক স্বাস্থ্য খাতটা প্রসারিত হচ্ছে না। একেবারে হচ্ছে না তা আমি বলব না, তবে যা হচ্ছে তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। এক্ষেত্রে রাজনৈতিক সদিচ্ছার ওপর আমি এজন্যই গুরুত্ব দেব। কারণ রাষ্ট্র কিছু বিশেষ উদ্যোগ নির্ধারণ করে দিতে পারে। আমাদের দেশে বড় সমস্যা হলো জায়গা। আপনি যদি মনে করেন পিপিপিতে কিছু করবেন, আর রাষ্ট্র যদি মনে করে তার জনগোষ্ঠীর জন্য খেলার মাঠ বা স্বাস্থ্যকেন্দ্র হোক, সেটা থাকতেই হবে এবং অবশ্যই নীতির অংশ হিসেবেই থাকতে হবে। জমির মতো উপযোগিতা যদি রাষ্ট্র করে দিতে পারে তখন আমার ধারণা যারা স্বাস্থ্যসেবা খাতে ব্যবসা করেন ওনারা অনেক বেশি আগ্রহী হতে পারেন। কারণ এতে করে তাদের পথ অনেক সহজ হতে পারে। স্বাস্থ্য খাতের ব্যবসায় আমাদের আগ্রহ নেই। আমাদের স্বাস্থ্য খাতের কর্মকাণ্ডগুলো পুরোপুরিই অব্যবসায়ী। ব্যবসায়িক কোনো পরিকল্পনা স্বল্প বা দীর্ঘমেয়াদে নেই।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন অর্থনীতির কাঠামো সংস্কার বা পরিবর্তনের এটা একটা উপযুক্ত সময়। ব্যবসায়ী হিসেবে আপনি কী মনে করেন?

সংস্কার একটি চলমান প্রক্রিয়া এবং এর অনেকটাই রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি। আপনি যখন প্রকৃত অর্থেই কোনো উদ্দেশ্য নির্দিষ্ট করে সংস্কার করবেন এবং আপনি যখন প্রাতিষ্ঠানিকভাবে কোনো সংস্কার করতে চান, তখন সেটা যথেষ্ট জটিল একটা কাজ। কিন্তু এর জন্য উপযোগী শক্তি হিসেবে খুব কঠিন একটা রাজনৈতিক সদিচ্ছা দরকার। আর অর্থনীতির কোন অংশের রিফর্মের কথা বলছি সেটাও একটা দিক। আমরা কি রাজস্ব ব্যবস্থার রিফর্মের কথা বলছি? সামগ্রিক কাঠামোগত সংস্কারের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রীয় যে প্রতিষ্ঠানগুলো আছে সেগুলোসহ সেগুলোর নেতৃত্বকে শক্তিশালী করা, সেগুলোর স্বাতন্ত্র্য শক্তিকে বৃদ্ধি করা ইউনিফর্মড করা এবং সবার জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি করার কথাই বলছি। এগুলোর জন্য এখন সঠিক সময় বা কোনটা সঠিক সময় তার চেয়ে আমার কাছে মনে হয় যতক্ষণ আপনার কঠিন রাজনৈতিক সদিচ্ছা আছে আপনার কোনো সঠিক সময়ের প্রয়োজনই নেই।

আমাদের যুদ্ধ হলো জীবিকার, খুব উইশফুল থিংকিং করলে মানুষ অভুক্ত থেকে যাবে। চিন্তাটা হতে হবে বাস্তবভিত্তিক। ডাইভারসিফাই করবেন? খুবই ভালো। কিন্তু আপনি বাতাসে প্রাসাদ বানাতে পারবেন না, করা যাবে না। আপনার অর্থনীতির যে নিয়ামকগুলো আছে, যেমন আমাদের বড় শক্তি হলো জনশক্তি, এর ভিত্তিতে আমাদের যে খাতগুলো আছে (যেমন কৃষি, শিল্প) এসব ক্ষেত্রে আপনি অনেক মিসিং ডট দেখবেন। আমাদের কৃষিতে বলেন, আমাদের শিল্পে বলেন, সেবা খাতে বলেন মিসিং ডটগুলো দেখবেন। প্রতিটি জায়গায়ই সম্ভাবনা ব্যাপক। ডটগুলোকে সংযুক্ত করতে পারলে অনেক ব্রিজ, যেটাকে ব্রিজিং অপারচুনিটি বলে। আপনি দুটো দ্বীপের মধ্যে ব্রিজ করে দেয়ার মতো। অর্থনীতির মধ্যে ধরনের অনেক ব্রিজিং অপারচুনিটি আছে। যেগুলো বিকাশে দুইয়ে দুইয়ে চার না হয়ে দুইয়ে দুইয়ে দশ হয়ে আসতে পারে। যারা মৌলিক অর্থনীতি নিয়ে চিন্তাভাবনা করেন তারা যদি পলিটিক্যাল উইল দিয়ে এগুলো আইডেনটিফাই করেন, যদি কেউ চিন্তা করেন যে আমরা করব, আমি একমত যে সংস্কার সম্ভব। কিন্তু এর জন্য কোনো সঠিক বা ভুল সময় নেই।

আকিজ গ্রুপ নিজেরা কোনো রিফর্মের বিষয়ে ভাবছে?

এটা একটা চলমান প্রক্রিয়া। যদি গত ৭৫ বছরের আকিজকে দেখেন তাহলে দেখবেন, আমরা বাবা জীবন নামক বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই শিখেছিলেন। তিনি ছিলেন খুব ভালো ছাত্র, জীবন থেকে শিখতে। তিনি আমাদেরও শিখিয়েছেন। তিনি অব্যাহতভাবে তার পরিচালন কর্মকাণ্ডকে সংস্কার করেছেন। আমরাও একই কাজ করি এবং হ্যাঁ খুব মৌলিক রিফর্ম না হলেও ইমপ্রুভমেন্ট, ডেভেলপমেন্ট করি। কিন্তু আমাদের মধ্যে মৌলিক সংস্কারও হতে পারে। আমরা ভাবছি, বিটুউইন আওয়ার ব্রাদার্স। আমরা ভাবছি যে মৌলিক কোনো রিফর্ম করতে পারি কিনা। এটা অবশ্যই টু হ্যাভ বেটার এফিশিয়েন্সি, টু হ্যাভ হায়ার কম্পিটেটিভ অ্যাডভানটেজ। এই কভিড কিছু ভালো সম্ভাবনা দিয়েছে। কিছু বেশ পুরনো ইস্যু নিয়ে আলোচনা সেগুলো সমাধানের সুযোগ এনে দিয়েছে, যেগুলো স্বাভাবিক সময়ে ওঠে না।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন