বৃহস্পতিবার | আগস্ট ০৬, ২০২০ | ২১ শ্রাবণ ১৪২৭

দেশের খবর

ফেনীতে দামি ব্র্যান্ডের মোড়কে বিক্রি হচ্ছে ভেজাল মসলা

বণিক বার্তা প্রতিনিধি ফেনী

পবিত্র ঈদুল আজহা সামনে রেখে প্রতি বছর ফেনীতে অসাধু ব্যবসায়ীরা ভেজাল মসলা তৈরি করেন। কয়েক বছর ধরে বারবার ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে এসব প্রতিষ্ঠান সিলগালাসহ নানা আইনগত পদক্ষেপ নেয় প্রশাসন। কিন্তু এর পরও বন্ধ করা যাচ্ছে না ভেজাল মসলার কারবার। শহরের তাকিয়া রোড, আবু বকর সড়কসহ গ্রামের বিভিন্ন হাটবাজারে মসলার মিলগুলোয় এখন চলছে ভেজাল মসলা তৈরির উৎসব। পরবর্তী সময়ে দামি ব্র্যান্ডের মোড়কে এসব ভেজাল মসলা বাজারজাত করা হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পবিত্র ঈদুল আজহা সামনে রেখে ফেনী শহরের অন্তত ১৫-২০টি মিলে তৈরি হচ্ছে ভেজাল মসলা। মরিচ, হলুদ মসলার মধ্যে মেশানো হচ্ছে চাল ইটের গুঁড়ো, আটা, ক্ষতিকারক রঙ। ওজন রঙ বাড়ানোর জন্য এক বস্তা মরিচের সঙ্গে ১০ বস্তা ধানের কুঁড়া কমলা রঙের পাঁচ কেজি রাসায়নিক পদার্থ মিশ্রণ করছে অসাধু ব্যবসায়ী মিল মালিকরা। কখনো কখনো বাজারের সবচেয়ে পচা, নষ্ট কম দামের মরিচ, হলুদ মসলা ভাঙানো হয় ফেনীর মিলগুলোয়। নোংরা পরিবেশে এসব মিশ্রণের পর রাতের আঁধারে বিভিন্ন নামিদামি কোম্পানির মোড়ক ব্যবহার করে প্যাকেটিং করা হয়। পরদিনই চলে যায় শহরসহ আশপাশের জেলা-উপজেলাগুলোয়। গ্রামের হাটবাজারগুলোয়ও এসব ভেজাল মসলার পসরা থাকে সবার সামনে। আর এসব ভেজাল মসলার কারণে স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছে ভোক্তারা। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ভেজাল মসলার কারণে লিভারের প্রদাহ, কিডনি সমস্যা ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বাড়ছে।

শহরের রামপুর এলাকার এক মুদি দোকানি জানান, পাড়া-মহল্লায় হরেক রকমের ভোক্তা রয়েছে। তাই আমরা ভালো-খারাপ দুই ধরনের মসলাই দোকানে রাখতে বাধ্য হই।

তিনি জানান, ধরনের মসলা খেয়ে ভোক্তারা নানা রোগে আক্রান্ত হলেও সেদিকে কারো নজর নেই। এসব ভেজাল মসলা তৈরি, বিপণন সরবরাহ রোধে বাজার মনিটরিং কর্তৃপক্ষ বিএসটিআই মাঝে মধ্যে অভিযান চালালেও কার্যত পরিবর্তন আসছে না।

অবস্থায় বাজার মনিটরিং কর্তৃপক্ষ, স্থানীয় বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠন আইন প্রয়োগকারী সংস্থা যৌথ প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখলে ভেজাল মসলা তৈরি বাজারজাতকরণ ঠেকানো যেতে পারে বলে মনে করেন ভোক্তারা।

তবে ফেনী শহর ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক পারভেজুল ইসলাম জানান, গত রমজানের আগে ভেজাল মসলা তৈরি বাজারজাতকরণ ঠেকাতে আমরা মিল মালিকদের সঙ্গে সভা করে তাদের সতর্ক করি। সভায় তারা ভেজাল মসলা তৈরি করবে না বলে শপথ করেন। এর আগে জেলা প্রশাসন ভেজাল মসলা তৈরির দায়ে পাঁচটি মিল সিলগালা করে। কিন্তু এত কিছুর পরও মিল মালিক এক শ্রেণীর অসাধু ব্যবসায়ীদের ভেজাল মসলা তৈরি থেকে বিরত রাখা যাচ্ছে না।

তিনি জানান, জনস্বাস্থ্য রক্ষায় সব সময় ফেনী শহর ব্যবসায়ী সমিতি সজাগ রয়েছে। এক্ষেত্রে কাউকে ছাড় দেয়া হবে না।

সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) ফেনীর সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক শাহাদাত হোসেন জানান, শুধু আইন প্রয়োগ করে ভেজাল মসলা তৈরি বাজারজাতকরণ ঠেকানো যাবে না। এর জন্য ব্যবসায়ীদের মাঝে নৈতিকতাবোধ জাগ্রত করতে হবে। মসলা কেনার ক্ষেত্রে ভোক্তাদেরকেও সতর্ক থাকতে হবে।

ফেনী জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ইকবাল হোসেন ভূঞা জানান, ভেজাল মসলা খেলে মানবদেহে লিভারের প্রদাহ, কিডনি সমস্যা খাদ্যনালিতে ক্যান্সার হতে পারে। তাই যেকোনো মূল্যে ভেজাল মসলা পরিহার করতে হবে।

ফেনীর অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. গোলাম জাকারিয়া বলেন, ফেনীতে ভেজাল মসলা তৈরির বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। এর আগে একাধিক অভিযান চালিয়ে প্রতিষ্ঠান সিলগালা, জেল জরিমানা করা হলেও ভেজাল মসলা তৈরি ঠেকানো যাচ্ছে না। শিগগিরই মসলা বিক্রির দোকান মিলগুলোয় পুনরায় অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন