শনিবার | আগস্ট ১৫, ২০২০ | ৩১ শ্রাবণ ১৪২৭

দেশের খবর

বাগেরহাটে ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ

বণিক বার্তা প্রতিনিধি বাগেরহাট

বাগেরহাটে হতদরিদ্রদের বিধবা ভাতা, বয়স্ক ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা, সরকারি ঘর প্রদানের নামে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে ফকিরহাট উপজেলার পিলজংগ ইউনিয়নের নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মোস্তফা কামাল হারুণের বিরুদ্ধে। এসব অনিয়ম টাকা আত্মসাতের অভিযোগে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। এরই পরিপ্রেক্ষিতে সহকারী কমিশনার (ভূমি) রহিমা সুলতানা বুশরাকে প্রধান করে তিন সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি করেছে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোছা. শাহনাজ পারভীন। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।

পিলজংগ গ্রামের জন্মান্ধ ফরহাদ সরদার বলেন, জন্মের পর থেকে চোখে দেখতে পাই না। হারুণ মেম্বরকে বলেছিলাম আমাকে একটা প্রতিবন্ধী কার্ড দিতে। তিনি আমার আইডি কার্ড ছবি নিয়েছেন। অ্যাকাউন্ট খোলার কথা বলে ২০০ টাকা নিয়েছেন। কিন্তু অনেক দিন হয়ে গেলেও আমাকে কোনো কার্ড দেয়া হয়নি।

স্থানীয়রা জানান, মোস্তফা কামাল হারুণ ইউপি সদস্য হওয়ার পর থেকে এলাকার মানুষের কাছ থেকে বিভিন্নভাবে টাকা গ্রহণ করে আত্মসাৎ করছেন। জন্মনিবন্ধনের জন্যও টাকা গ্রহণ করেন তিনি।

দিনমজুর কুদ্দুস মোড়ল মো. খলিল শেখ বলেন, ভাঙাচোরা ঘরে থাকি। মেম্বর সরকারি ঘর দেয়ার জন্য হাজার টাকা দাবি করেন। সাত-আট মাস আগে হাজার টাকা করে দিয়েছি। কিন্তু ঘর পাইনি। এখন ঘরের কথা বললে বলে সরকার যেদিন দেবে সেদিন পাবেন।

বিধবা শাহিদা বেগম বলেন, আমার স্বামী মারা যাওয়ার পর মেম্বরের কাছে ঘুরেছি বিধবা কার্ডের জন্য। কার্ড পাওয়ার জন্য মেম্বরকে ৩০০ টাকা দিয়েছিলাম। পরবর্তী সময়ে ঝড়ে আমার ঘর পড়ে গেলে ঘর দেয়ার জন্য হাজার টাকা চেয়েছিলেন। টাকা দিতে পারিনি, তাই ঘরও পাইনি।

এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত ইউপি সদস্য মোস্তফা কামাল হারুণকে ফোন করা হলে তিনি উত্তেজিত হয়ে পড়েন। বলেন, যারা অভিযোগ দিয়েছে তাদের সঙ্গে কথা বলেন, আমাকে ফোন দিয়েছেন কেন? যারা অভিযোগ দিয়েছে, আমি তাদের চিনি। আমার সঙ্গে আপনাদের কথা বলার দরকার নেই। অভিযোগ দিয়েছে, তদন্তে যা হয় হবে।

ফকিরহাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোছা. শাহনাজ পারভীন বলেন, এলাকাবাসীর কাছ থেকে ইউপি সদস্য মোস্তফা কামাল হারুণের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য সহকারী কমিশনার (ভূমি) রহিমা সুলতানা বুশরাকে আহ্বায়ক, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তাকে সদস্য করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটির রিপোর্টে অভিযোগের সত্যতা পেলে আইন গত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান তিনি।

 

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন

×