শুক্রবার | আগস্ট ০৭, ২০২০ | ২২ শ্রাবণ ১৪২৭

আন্তর্জাতিক খবর

হায়া সোফিয়াকে মসজিদে রূপান্তরের ঘোষণা তুরস্কের

বণিক বার্তা ডেস্ক

বিশ্বের স্থাপত্যকলার অন্যতম বিস্ময় তুরস্কের ইস্তাম্বুলের হায়া সোফিয়াকে নামাজ আদায়ের জন্য মসজিদ হিসেবে পুনরায় খুলে দেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান। স্থানীয় সময় শুক্রবার তিনি ঘোষণা দেন। এর আগে তুরস্কের সর্বোচ্চ আদালত ষষ্ঠ শতাব্দীর বাইজেন্টাইন স্থাপনাকে মসজিদ হিসেবে রায় দেন। বিষয়টি তুরস্কের খ্রিস্টান সম্প্রদায় পার্শ্ববর্তী গ্রিসে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি করেছে। খবর এএফপি।

জাতির উদ্দেশে এক ভাষণে এরদোগান বলেন, হায়া সোফিয়ায় পরবর্তী প্রথম নামাজ অনুষ্ঠিত হবে ২৪ জুলাই। তবে অমুসলিমসহ সবার জন্যই হায়া সোফিয়ার দরজা খোলা থাকবে। তিনি বলেন, আমাদের সব মসজিদের মতোই হায়া সোফিয়ার দরজা স্থানীয় বিদেশী পর্যটক এবং মুসলিম অমুসলিম সবার জন্যই খোলা থাকবে।

ইউনেস্কো ঘোষিত বিশ্ব ঐতিহ্য হায়া সোফিয়া দেখতে প্রতি বছর ইস্তাম্বুলে পর্যটকদের ঢল নামে। সারা বিশ্ব থেকেই এখানে পর্যটকরা এসে থাকেন। গত বছর স্থাপত্য দেখতে ৩৮ লাখ পর্যটকের সমাগম হয়। ক্যাথেড্রাল হিসেবে স্থাপনাটি প্রথম নির্মাণ করা হয় বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্যের সময়। কিন্তু ১৪৫৩ সালে অটোমানরা কনস্টান্টিনোপল জয় করার পর হায়া সোফিয়াকে মসজিদে রূপান্তরিত করা হয়। এরপর ১৯৩৪ সালে তুরস্ক সরকার এটিকে জাদুঘরে পরিণত করে। কিন্তু শুক্রবার তুরস্কের সর্বোচ্চ প্রশাসনিক আদালত দ্য কাউন্সিল অব স্টেটের সিদ্ধান্তে হায়া সোফিয়াকে ফের মসজিদে রূপান্তরিত হলো।

এদিকে তুরস্কের এমন সিদ্ধান্তে শুধু পশ্চিম কিংবা ঐতিহাসিক শত্রু গ্রিসের সঙ্গেই নয়, সম্পর্কের টানাপড়েন দেখা দিতে পারে রাশিয়ার সঙ্গেও। অথচ সাম্প্রতিক সময়ে দেশটির সঙ্গে এরদোগান বেশ সুসম্পর্ক তৈরি করেছিলেন। এরই মধ্যে গ্রিস এরদোগানের পদক্ষেপের কারণে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। একইভাবে হতাশা ব্যক্ত করেছে যুক্তরাষ্ট্রও। গ্রিসের প্রধানমন্ত্রী কাইরিয়াকোস মিেসাতাকিস বলেন, তুরস্কের সিদ্ধান্তে দেশটির সঙ্গে শুধু গ্রিসেরই নয়, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ইউনেস্কো পুরো বিশ্ব সম্প্রদায়ের সম্পর্কের প্রভাব পড়বে। গ্রিসের সংস্কৃতিমন্ত্রী লিনা মেনদোনি বলেন, এরদোগান জাতীয়তাবাদের নিদর্শন রাখলেন। তিনি এর মধ্য দিয়ে তার দেশকে ৬০০ বছর পেছনে নিয়ে গেলেন।

রাশিয়ার অর্থোডক্স চার্চ একইভাবে নিন্দা জানিয়েছে। চার্চের মুখপাত্র ভ্লাদিমির লেগোইদা বলেন, এমন সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষেত্রে লাখো খ্রিস্টানের কথা শোনা হয়নি। এক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষের যতটা সাবধান হওয়ার প্রয়োজন ছিল তা তারা হয়নি।

যুক্তরাষ্ট্র হায়া সোফিয়াকে মসজিদে রূপান্তরের সিদ্ধান্তকে হতাশাব্যঞ্জক বলে অভিহিত করেছে। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মর্গান অর্টাগুস বলেন, তুরস্ক সরকার হায়া সোফিয়াকে মসজিদে পরিণত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। দেশটির সরকারের এমন সিদ্ধান্তে আমরা খুবই হতাশ হয়েছি। এছাড়া আন্তর্জাতিক ধর্মীয় স্বাধীনতাবিষয়ক মার্কিন কমিশনও সিদ্ধান্তকে স্পষ্ট দলীয়করণ হিসেবে নিন্দা জানিয়েছে। এদিকে ইউনেস্কো প্রধান আদ্রে আজুলে বলেন, জাতিসংঘের সাংস্কৃতিক সংস্থার সঙ্গে আলোচনা ছাড়াই নেয়া তুরস্কের সিদ্ধান্তের তারা গভীর নিন্দা জানাচ্ছেন।

তবে এরদোগান বলেন, হায়া সোফিয়াকে কী উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হবে তা নির্ধারণের অধিকার তুরস্কের রয়েছে। এটি তুরস্কের সার্বভৌম অধিকার। ফলে তিনি সবাইকে সিদ্ধান্তের প্রতি শ্রদ্ধা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন। অন্যদিকে হায়া সোফিয়ার সামনে শুক্রবার জাতীয় পতাকা হাতে জড়ো হয়েছিল কয়েকশ তুর্কি। সময় তারা শৃঙ্খল ভেঙেছে, হায়া সোফিয়া পুনরায় খুলছে বলে স্লোগান দিচ্ছিলেন।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন